২/১৫. অধ্যায়ঃ
প্রথম ওয়াক্তের ফজিলত
নামাজের প্রথম সময়: আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের সুযোগ
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৭২
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৭২
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ الْوَلِيدِ الْمَدَنِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْوَقْتُ الأَوَّلُ مِنَ الصَّلاَةِ رِضْوَانُ اللَّهِ وَالْوَقْتُ الآخِرُ عَفْوُ اللَّهِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ . وَقَدْ رَوَى ابْنُ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَابْنِ عُمَرَ وَعَائِشَةَ وَابْنِ مَسْعُودٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أُمِّ فَرْوَةَ لاَ يُرْوَى إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ الْعُمَرِيِّ وَلَيْسَ هُوَ بِالْقَوِيِّ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ وَاضْطَرَبُوا عَنْهُ فِي هَذَا الْحَدِيثِ وَهُوَ صَدُوقٌ وَقَدْ تَكَلَّمَ فِيهِ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ مِنْ قِبَلِ حِفْظِهِ .
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: নামাজের প্রথম সময়ে রয়েছে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের সুযোগ, আর শেষ সময়ে রয়েছে মার্জনা লাভের সুযোগ।
মাওযূ’, ইরওয়া ২৫৯, মিশকাত ৬০৬আবূ ‘ঈসা বলেন: এই হাদীসটি গারীব। ইবনু ‘আব্বাসও নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এ অনুচ্ছেদে ‘আলী, ইবনু ‘উমার, আয়িশাহ্ ও ইবনু মাস‘ঊদ (রা:) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ‘ঈসা বলেন : উম্মু ফারওয়া (রা:)-এর হাদীসটি ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার আল-‘উমারী ছাড়া আর কেউ বর্ণনা করেননি। অথচ তিনি (‘আবদুল্লাহ) হাদীস বিশারদদের মতে শক্তিশালী রাবী নন, যদিও তিনি সত্যবাদী। তাদের মতে তিনি এ হাদীসের সনদে গোলমাল করেছেন। ইয়াহ্’ইয়া ইবনু সা‘ঈদ তাঁর স্মরণশক্তির সমালোচনা করেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৭২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো নামাজের প্রথম ও শেষ সময়। ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, নামাজের প্রথম সময়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের সুযোগ আছে, আর শেষ সময়ে আছে আল্লাহর মার্জনা লাভের সুযোগ। হাদিসটি আমাদের নামাজের সময় নিয়ে সুন্দর ভারসাম্য শেখায়। প্রথম ওয়াক্তে নামাজ আদায় করার দিকে উৎসাহ পাওয়া যায়। আবার শেষ সময়কে সরাসরি বাতিল বলা হয়নি; সেখানে মার্জনার সুযোগের কথা এসেছে। তাই ব্যাখ্যায় অতিরঞ্জন করা ঠিক নয়। এর সহজ শিক্ষা হলো, নামাজের সময় ঢুকলে যতটা সম্ভব দেরি না করে আদায়ের চেষ্টা করা ভালো। যারা নামাজের প্রথম সময়, আওয়াল ওয়াক্তে নামাজ, আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং নামাজের শেষ সময় নিয়ে জানতে চান, এই হাদিস তাদের জন্য খুব প্রাসঙ্গিক। তবে হাদিসের ভাষা নরম ও ভারসাম্যপূর্ণ, তাই আমাদের কথাও ভারসাম্যপূর্ণ হওয়া উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রথম ওয়াক্তে নামাজ আদায় আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের কারণ হতে পারে।
- শেষ সময়ে নামাজ আদায়ের কথাও হাদিসে মার্জনার সুযোগ হিসেবে এসেছে।
- নামাজে সময়ের প্রতি যত্ন নেওয়া একজন মুমিনের ভালো অভ্যাস।
