২০/২৬. অধ্যায়ঃ
আল্লাহ তা’আলার পথে পাহারাদানের সাওয়াব
আল্লাহর পথে ত্যাগের চিহ্ন না থাকলে দ্বীনের ঘাটতির সতর্কতা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৬৬৬
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৬৬৬
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ رَافِعٍ، عَنْ سُمَىٍّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ لَقِيَ اللَّهَ بِغَيْرِ أَثَرٍ مِنْ جِهَادٍ لَقِيَ اللَّهَ وَفِيهِ ثُلْمَةٌ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ الْوَلِيدِ بْنِ مُسْلِمٍ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ رَافِعٍ . وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ رَافِعٍ قَدْ ضَعَّفَهُ بَعْضُ أَصْحَابِ الْحَدِيثِ . قَالَ وَسَمِعْتُ مُحَمَّدًا يَقُولُ هُوَ ثِقَةٌ مُقَارِبُ الْحَدِيثِ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ غَيْرِ هَذَا الْوَجْهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَحَدِيثُ سَلْمَانَ إِسْنَادُهُ لَيْسَ بِمُتَّصِلٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ لَمْ يُدْرِكْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيَّ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ أَيُّوبَ بْنِ مُوسَى عَنْ مَكْحُولٍ عَنْ شُرَحْبِيلَ بْنِ السِّمْطِ عَنْ سَلْمَانَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ .
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি (নিজ দেহে) জিহাদের কোন চিহ্ন ব্যতীত আল্লাহ তা‘আলার নিকটে উপস্থিত হবে, তার দ্বীনের মধ্যে বড় ঘাটতি থেকে যাবে।
যঈফ ইবনু মাজাহ (২৭৬৩)।আবূ ঈসা বলেন, ওয়ালীদ ইবনু মুসলিম হতে ইসমাঈল ইবনু রাফি-এর সূত্রে এ হাদীসটি গারীব। ইসমাঈল ইবনু রাফিকে কোন কোন হাদীস বিশারদ দুর্বল বলে আখ্যায়িত করেছেন। আমি ইমাম বুখারীকে বলতে শুনেছি, তিনি নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) রাবী বা তার সমপর্যায়ভুক্ত (মুকারীবুল হাদীস)। উল্লেখিত হাদীসটি আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূত্রে অন্যভাবেও বর্ণিত হয়েছে। সালমানের হাদীসের সনদ মুত্তাসিল নয়, কেননা মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির সালমানের সাক্ষাৎ পান নাই। এই হাদীসটি আইয়ূব ইবনু মূসার সূত্রে, তিনি মাকহুল হতে তিনি শুরাহবীল হতে তিনি সালমান হতে তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণিত হয়েছে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৬৬৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একটি কঠিন সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে যে তার জীবনে জিহাদের কোনো চিহ্ন নেই, তার দ্বীনের মধ্যে একটি বড় ঘাটতি থাকবে। এখানে মূল বিষয় হলো আল্লাহর পথে ত্যাগ ও সংগ্রামের চিহ্ন। হাদিসের ভাষা মানুষকে নিজের দ্বীনি দায়িত্ব, চেষ্টা ও আত্মত্যাগ নিয়ে ভাবতে শেখায়। শুধু দাবি নয়, জীবনে দায়িত্ব পালনের বাস্তব প্রমাণও গুরুত্বপূর্ণ—এই অর্থটি বক্তব্য থেকে বোঝা যায়। তবে হাদিসটি কোনো নির্দিষ্ট যুদ্ধ, সময়, স্থান বা ব্যক্তিগত উদ্যোগের নিয়ম ব্যাখ্যা করেনি। তাই এর বাইরে গিয়ে নতুন শর্ত তৈরি করা ঠিক নয়। সহজভাবে বলা যায়, দ্বীনের জন্য কোনো ত্যাগ, কষ্ট বা দায়িত্বের ছাপ না থাকা একটি উদ্বেগের বিষয়। একজন মুমিনের উচিত নিজের সামর্থ্য ও দায়িত্বের মধ্যে আল্লাহর পথে আন্তরিক চেষ্টা রাখা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দ্বীনের পথে বাস্তব চেষ্টা ও ত্যাগের গুরুত্ব হাদিসে তুলে ধরা হয়েছে।
- কোনো চিহ্ন ছাড়াই আল্লাহর সামনে উপস্থিত হওয়াকে বড় ঘাটতি বলা হয়েছে।
- হাদিসটি নিজের দ্বীনি দায়িত্ব ও আত্মত্যাগ নিয়ে আত্মসমালোচনার শিক্ষা দেয়।
