২০/২. অধ্যায়ঃ
পাহারা প্রদানরত অবস্থায় মৃত্যুর সাওয়াব
আল্লাহর পথে পাহারা ও নফসের বিরুদ্ধে জিহাদের ফজিলত
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৬২১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৬২১
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو هَانِئٍ الْخَوْلاَنِيُّ، أَنَّ عَمْرَو بْنَ مَالِكٍ الْجَنْبِيَّ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ فَضَالَةَ بْنَ عُبَيْدٍ، يُحَدِّثُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " كُلُّ مَيِّتٍ يُخْتَمُ عَلَى عَمَلِهِ إِلاَّ الَّذِي مَاتَ مُرَابِطًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَإِنَّهُ يُنْمَى لَهُ عَمَلُهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَيَأْمَنُ مِنْ فِتْنَةِ الْقَبْرِ " . وَسَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " الْمُجَاهِدُ مَنْ جَاهَدَ نَفْسَهُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ وَجَابِرٍ . وَحَدِيثُ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
ফাযালা ইবনু উবাইদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: প্রত্যেক মৃত ব্যক্তির সকল প্রকার কাজের উপর সীলমোহর করে দেওয়া হয় (কাজের পরিসমাপ্তি ঘটে)। কিন্তু আল্লাহর রাস্তায় পাহারাদানরত অবস্থায় যে লোক মৃত্যুবরণ করে কেয়ামত পর্যন্ত তার কর্মের সওয়াব বাড়ানো হতে থাকে এবং তিনি কবরের সকল ফিতনা হতে নিরাপদে থাকেন। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি: যে লোক নিজের প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে জিহাদ করে সে-ই আসল মুজাহিদ।
সহীহ্, মিশকাত তাহকীক ছানী (৩৪) এবং (৩৮২৩), তা’লীকুর রাগীব (২/১৫০), সহীহা (৫৪৯), সহীহ্ আবূ দাঊদ (১২৫৮)আবূ ঈসা বলেন, উকবা ইবনু আমির ও জাবির (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে । ফাযালা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ্ ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৬২১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো আল্লাহর পথে পাহারা দেওয়া এবং নিজের প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে জিহাদ করা। সাধারণভাবে মানুষ মারা গেলে তার কাজের সময় শেষ হয়ে যায়। কিন্তু আল্লাহর রাস্তায় পাহারারত অবস্থায় যে ব্যক্তি মারা যায়, তার আমলের সওয়াব কেয়ামত পর্যন্ত বাড়তে থাকে বলে হাদিসে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সে কবরের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকে। বর্ণনার শেষ অংশে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) প্রকৃত মুজাহিদের একটি স্পষ্ট পরিচয় দিয়েছেন: যে নিজের নফস বা খারাপ প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে। তাই এখানে বাহ্যিক দায়িত্বের পাশাপাশি ভেতরের আত্মসংযমও গুরুত্ব পেয়েছে। নিজের প্রবৃত্তির টানকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা নফসের বিরুদ্ধে জিহাদের অংশ; হাদিসের ভাষায় এটাই আসল মুজাহিদের বৈশিষ্ট্য। এই দুই দিকই হাদিসের শিক্ষাকে পূর্ণ করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর পথে পাহারারত অবস্থায় মৃত্যু হলে আমলের সওয়াব কেয়ামত পর্যন্ত বাড়তে থাকে।
- এ অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী কবরের ফিতনা থেকে নিরাপত্তা পায়।
- নিজের প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করাই প্রকৃত মুজাহিদের পরিচয়।
