১৯/৪৭. অধ্যায়ঃ
কুলক্ষণ প্রসঙ্গে
কাজের শুরুতে ভালো কথা: সফলতার আশা জাগানো নববী পছন্দ
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৬১৬
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৬১৬
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُعْجِبُهُ إِذَا خَرَجَ لِحَاجَةٍ أَنْ يَسْمَعَ يَا رَاشِدُ يَا نَجِيحُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ صَحِيحٌ .
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন দরকারে বের হওয়ার সময় (কারও মুখে) ‘হে সঠিক পথের পথিক’, ‘হে সফলকাম’ বাক্য শুনতে পছন্দ করতেন।
সহীহ্, রাওযুন নাযীর (৮৬)এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব সহীহ্ বলেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৬১৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় সুন্দর ও আশাব্যঞ্জক কথা। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) কোনো প্রয়োজনীয় কাজে বের হলে কারও মুখে ‘হে সঠিক পথের পথিক’ বা ‘হে সফলকাম’ ধরনের বাক্য শুনতে পছন্দ করতেন। এগুলো এমন শব্দ, যা ভালো অর্থ বহন করে এবং মনে আশা জাগায়। এখানে কোনো শব্দকে নিজের ক্ষমতায় ভাগ্য বদলে দেওয়ার মাধ্যম বলা হয়নি। বরং ভালো অর্থের কথা শোনা মানুষের মনকে দৃঢ় ও ইতিবাচক করতে পারে—হাদিসে সেই পছন্দের কথা এসেছে। এটি কুলক্ষণ থেকে আলাদা। কুলক্ষণ মানুষকে অমূলক ভয় দেখিয়ে কাজ থেকে ফিরিয়ে দেয়, আর উত্তম কথা আল্লাহর কাছে কল্যাণের আশা জাগায়। তাই দৈনন্দিন জীবনে মানুষকে হতাশ, ব্যর্থ বা অযোগ্য বলার বদলে সঠিক পথ, কল্যাণ ও সফলতার কথা বলা উত্তম আচরণ হতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ভালো অর্থ বহনকারী কথা মানুষের মনে আশা ও সাহস জাগাতে পারে।
- উত্তম কথা পছন্দ করা কুলক্ষণে বিশ্বাস করার সমান নয়।
- কাজে বের হওয়া মানুষকে হতাশ না করে কল্যাণের কথা বলা উচিত।
