১৯/৪৬. অধ্যায়ঃ
যুদ্ধের সঠিক সময়
সঠিক সময়ের অপেক্ষা: যুদ্ধেও ধৈর্য ও আল্লাহর সাহায্য
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৬১৩
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৬১৩
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ، وَالْحَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو عِمْرَانَ الْجَوْنِيُّ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُزَنِيِّ، عَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، بَعَثَ النُّعْمَانَ بْنَ مُقَرِّنٍ إِلَى الْهُرْمُزَانِ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ بِطُولِهِ فَقَالَ النُّعْمَانُ بْنُ مُقَرِّنٍ شَهِدْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكَانَ إِذَا لَمْ يُقَاتِلْ أَوَّلَ النَّهَارِ انْتَظَرَ حَتَّى تَزُولَ الشَّمْسُ وَتَهُبَّ الرِّيَاحُ وَيَنْزِلَ النَّصْرُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَعَلْقَمَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ هُوَ أَخُو بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُزَنِيِّ .
মাকিল ইবনু ইয়াসার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হুরমুযানের বিরুদ্ধে নুমান ইবন মুকাররিন (রাঃ)-কে প্রেরণ করেন। তারপর এ হাদিসের বিস্তারিত ঘটনা (অন্যত্র) বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন। নুমান ইবন মুকাররিন (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে (বিভিন্ন যুদ্ধে) অংশগ্রহণ করেছি। তিনি দিনের প্রথম ভাগে যুদ্ধ আরম্ভ না করলে সূর্য (পশ্চিমাকাশে) ঢলে পড়ার, বাতাস প্রবাহিত হওয়ার এবং সাহায্য অবতীর্ণ হওয়ার অপেক্ষা করে যুদ্ধ আরম্ভ করতেন।
সহীহ্, সহীহ আবূ দাঊদ (২৩৮৫), মিশকাত তাহকীক ছানী (৩৯৩৩)এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। আলকামা ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) বাক্র ইবনু আবদুল্লাহ আল-মুযানীর ভাই। নু’মান ইবনু মুকাররিন উমার (রাঃ)-এর খিলাফাতকালে মারা যান।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৬১৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নুমান ইবনু মুকাররিন (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সঙ্গে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা বলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দিনের প্রথম ভাগে যুদ্ধ শুরু না হলে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাড়াহুড়া করতেন না। তিনি সূর্য পশ্চিমে ঢলে পড়া, বাতাস প্রবাহিত হওয়া এবং সাহায্য আসার সময়ের অপেক্ষা করতেন। এতে বোঝা যায়, বড় সিদ্ধান্ত শুধু আবেগ বা দ্রুত ফলের ইচ্ছায় নেওয়া হতো না। উপযুক্ত সময়, পরিবেশ এবং আল্লাহর সাহায্যের আশা বিবেচনা করা হতো। হাদিসে নির্দিষ্ট সামরিক পরিস্থিতির কথা থাকলেও এতে ধৈর্য ও পরিকল্পনার একটি পরিষ্কার দিক দেখা যায়। কাজ শুরু করতে দেরি হওয়া মানেই ব্যর্থতা নয়; কখনো সঠিক সময়ের অপেক্ষা করাও প্রস্তুতির অংশ। তবে এখানে বর্ণিত যুদ্ধসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বৈধ নেতৃত্ব ও সংগঠিত বাহিনীর বিষয়, ব্যক্তিগত উদ্যোগের নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গুরুত্বপূর্ণ কাজে অযথা তাড়াহুড়া না করে উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষা করা যায়।
- পরিকল্পনার পাশাপাশি আল্লাহর সাহায্যের ওপর ভরসা রাখতে হবে।
- সামরিক সিদ্ধান্ত বৈধ নেতৃত্ব ও শৃঙ্খলার অধীনে পরিচালিত হয়।
