১৯/৪৬. অধ্যায়ঃ
যুদ্ধের সঠিক সময়
যুদ্ধের সময় নির্বাচন ও নামাজ: নববী শৃঙ্খলার শিক্ষা
জামে তিরমিযী : ১৬১২
জামে তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৬১২
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ مُقَرِّنٍ، قَالَ غَزَوْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَكَانَ إِذَا طَلَعَ الْفَجْرُ أَمْسَكَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَإِذَا طَلَعَتْ قَاتَلَ فَإِذَا انْتَصَفَ النَّهَارُ أَمْسَكَ حَتَّى تَزُولَ الشَّمْسُ فَإِذَا زَالَتِ الشَّمْسُ قَاتَلَ حَتَّى الْعَصْرِ ثُمَّ أَمْسَكَ حَتَّى يُصَلِّيَ الْعَصْرَ ثُمَّ يُقَاتِلُ . قَالَ وَكَانَ يُقَالُ عِنْدَ ذَلِكَ تَهِيجُ رِيَاحُ النَّصْرِ وَيَدْعُو الْمُؤْمِنُونَ لِجُيُوشِهِمْ فِي صَلاَتِهِمْ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ مُقَرِّنٍ بِإِسْنَادٍ أَوْصَلَ مِنْ هَذَا . وَقَتَادَةُ لَمْ يُدْرِكِ النُّعْمَانَ بْنَ مُقَرِّنٍ وَمَاتَ النُّعْمَانُ بْنُ مُقَرِّنٍ فِي خِلاَفَةِ عُمَرَ .
নুমান ইবনু মুকাররিন (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। ফজর হয়ে গেলে সূর্য না উঠা পর্যন্ত তিনি যুদ্ধ হতে বিরত থাকতেন এবং সূর্য উঠার পর যুদ্ধ শুরু করতেন। দিনের অর্ধেক চলে যাবার পর তিনি যুদ্ধ স্থগিত করতেন এবং সূর্য পশ্চিমে ঢলে না পড়া পর্যন্ত তা বন্ধ রাখতেন। সূর্য ঢলে যাওয়ার পর তিনি আবার যুদ্ধ শুরু করতেন এবং আসর পর্যন্ত তা অব্যাহত রাখতেন। তারপর আসর নামাজ আদায়ের জন্য তা বন্ধ করতেন। নামাজ শেষে তিনি আবার যুদ্ধে নেমে যেতেন। বলা হত, এ সময় (আল্লাহ) সাহায্যের বায়ু প্রবাহিত হয় এবং মুমিনগণ তাদের নামাজের মাঝে তাদের সেনাবাহিনীর জন্য দোয়া করতেন।
যঈফ, মিশকাত তাহকীক ছানী (৩৯৩৪)।আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি নুমান ইবনু মুকাররিন (রাঃ) হতে আরও একের অধিক অবিচ্ছিন্ন (মুত্তাসিল) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। কাতাদা (রহঃ) নুমান ইবনু মুকাররিনের দেখা পাননি। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর খিলাফত কালে নুমান (রাঃ) মারা যান।
জামে তিরমিযী হাদিস ১৬১২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর যুদ্ধকালীন সময় ব্যবস্থাপনা বর্ণিত হয়েছে। ফজর হলে তিনি সূর্য ওঠা পর্যন্ত যুদ্ধ থেকে বিরত থাকতেন। সূর্য ওঠার পর যুদ্ধ শুরু করতেন। দিনের মাঝামাঝি সময়ে আবার বিরতি দিতেন এবং সূর্য পশ্চিমে ঢলে গেলে যুদ্ধ শুরু করতেন। আসরের সময় হলে নামাজের জন্য যুদ্ধ থামিয়ে দিতেন, নামাজ শেষে আবার প্রয়োজনীয় কার্যক্রমে ফিরতেন। এতে দেখা যায়, কঠিন সামরিক অবস্থাতেও নামাজ অবহেলা করা হয়নি। যুদ্ধের কাজ এলোমেলোভাবে নয়, নির্দিষ্ট সময় ও শৃঙ্খলা মেনে পরিচালিত হতো। বর্ণনায় আরও বলা হয়েছে, একটি সময়ে সাহায্যের বাতাস প্রবাহিত হতো এবং মুমিনরা নামাজের মধ্যে সেনাবাহিনীর জন্য দোয়া করতেন। হাদিসটি পরিকল্পনা, ইবাদত, বিরতি এবং দোয়ার সমন্বিত গুরুত্ব তুলে ধরে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কঠিন পরিস্থিতিতেও নির্ধারিত নামাজের গুরুত্ব বজায় রাখতে হবে।
- গুরুত্বপূর্ণ কাজ পরিকল্পিত সময় ও শৃঙ্খলার সঙ্গে করা উচিত।
- মুমিনদের দোয়া ও আল্লাহর সাহায্যের আশা কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকে।
