১৯/৩২. অধ্যায়ঃ

যিম্মীদের (অমুসলিম নাগরিক) সম্পদ হতে যা নেওয়া যাবে

সফরে মেহমানদারির অধিকার: প্রয়োজনের সময় প্রাপ্য আদায়

জামে তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৫৮৯

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي الْخَيْرِ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا نَمُرُّ بِقَوْمٍ فَلاَ هُمْ يُضَيِّفُونَا وَلاَ هُمْ يُؤَدُّونَ مَا لَنَا عَلَيْهِمْ مِنَ الْحَقِّ وَلاَ نَحْنُ نَأْخُذُ مِنْهُمْ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إِنْ أَبَوْا إِلاَّ أَنْ تَأْخُذُوا كَرْهًا فَخُذُوا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ ‏.‏ وَقَدْ رَوَاهُ اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ أَيْضًا ‏.‏ وَإِنَّمَا مَعْنَى هَذَا الْحَدِيثِ أَنَّهُمْ كَانُوا يَخْرُجُونَ فِي الْغَزْوِ فَيَمُرُّونَ بِقَوْمٍ وَلاَ يَجِدُونَ مِنَ الطَّعَامِ مَا يَشْتَرُونَ بِالثَّمَنِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إِنْ أَبَوْا أَنْ يَبِيعُوا إِلاَّ أَنْ تَأْخُذُوا كَرْهًا فَخُذُوا ‏"‏ ‏.‏ هَكَذَا رُوِيَ فِي بَعْضِ الْحَدِيثِ مُفَسَّرًا وَقَدْ رُوِيَ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضى الله عنه أَنَّهُ كَانَ يَأْمُرُ بِنَحْوِ هَذَا ‏.‏

উকবা ইবনু আমির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! এমন একটি সম্প্রদায়ের এলাকা দিয়ে আমরা চলাচল করি যারা আমাদের মেহমানদারীও করে না এবং তাদের উপর আমাদের প্রাপ্য অধিকারও আদায় করে না। আমরাও তাদের নিকট হতে জোরপূর্বক আমাদের প্রাপ্য অধিকার আদায় করি না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তারা তোমাদের বল প্রয়োগ ব্যতীত মেহমানদারী করতে না চাইলে তোমরা জোরপূর্বকই তা আদায় কর।

সহীহ্‌, ইবনু মা-জাহ (৩৬৭৬), নাসা-ঈএ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান বলেছেন। এটিকে ইয়াযীদ ইবনু হাবীবের সূত্রেও লাইস ইবনু সা’দ বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসের তাৎপর্য হল, মুসলিম যোদ্ধারা অভিযানে গমন করত। তখন এমন সব যিম্মীদের লোকালয় পেরিয়ে যেতে হত যেখানে ইচ্ছা করলেও খাবার-দাবার কিনতে পাওয়া যেত না। এরূপ ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নির্দেশ ছিলঃ তারা খাবার বিক্রয় করতে অস্বীকার করলে এবং জোরখাটিয়ে আদায় করা ছাড়া আর কোন উপায় না থাকলে তবে তাদের নিকট হতে শক্তি খাটিয়েই তা কিনে নাও। কয়েকটি হাদীসে এরূপ ব্যাখ্যার উল্লেখ আছে। এরকম পরিস্থিতিতে উমার (রাঃ)-ও এরূপ নির্দেশই দিতেন।

জামে তিরমিযী হাদিস ১৫৮৯-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসের মূল বিষয় সফররত দলের মেহমানদারি ও প্রাপ্য অধিকার। উকবা ইবন আমির (রাঃ) জানান, তারা এমন এলাকার মধ্য দিয়ে যেতেন যেখানে লোকেরা তাদের মেহমানদারি করত না এবং তাদের ওপর থাকা অধিকারও আদায় করত না। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তারা স্বেচ্ছায় না দিলে প্রয়োজনে প্রাপ্য অধিকার গ্রহণ করতে। আরবি বর্ণনার শেষ ব্যাখ্যায় বিষয়টি আরও নির্দিষ্ট করা হয়েছে: তারা যুদ্ধসফরে বের হতেন, পথে মূল্য দিয়েও খাবার কিনতে পেতেন না; তখন খাবার দিতে অস্বীকার করলে প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রহণের কথা বলা হয়। তাই এই হাদিসকে সাধারণভাবে কারও সম্পদ জোর করে নেওয়ার অনুমতি হিসেবে পড়া ঠিক নয়। পাঠের ভেতরেই সফর, খাদ্যের অভাব, মূল্য দিয়ে কিনতে না পারা এবং স্বীকৃত মেহমানদারির অধিকারের বিশেষ অবস্থা উল্লেখ আছে। ব্যাখ্যার মূল কথা সেই সীমিত পরিস্থিতিই।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সফররত দলের মেহমানদারির একটি প্রাপ্য অধিকার ছিল।
  • বর্ণিত পরিস্থিতিতে মূল্য দিয়েও খাবার পাওয়া যাচ্ছিল না।
  • নির্দেশটি খাদ্যসংকটপূর্ণ যুদ্ধসফরের বিশেষ অবস্থার সঙ্গে যুক্ত।
  • হাদিসকে সাধারণ সম্পদ দখলের অনুমতি হিসেবে বোঝা ঠিক নয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন