১৯/১৩. অধ্যায়ঃ
হত্যাকারী নিহতের মালপত্র পাবে
নিহত শত্রুর অস্ত্র পাওয়ার শর্ত: প্রমাণের গুরুত্ব
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৫৬২
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৫৬২
حَدَّثَنَا الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا مَعْنٌ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ كَثِيرِ بْنِ أَفْلَحَ، عَنْ أَبِي مُحَمَّدٍ، مَوْلَى أَبِي قَتَادَةَ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ قَتَلَ قَتِيلاً لَهُ عَلَيْهِ بَيِّنَةٌ فَلَهُ سَلَبُهُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْحَدِيثِ قِصَّةٌ .حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ . وَفِي الْبَابِ عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ، وَخَالِدِ بْنِ الْوَلِيدِ، وَأَنَسٍ، وَسَمُرَةَ بْنِ جُنْدَبٍ، . وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَأَبُو مُحَمَّدٍ هُوَ نَافِعٌ مَوْلَى أَبِي قَتَادَةَ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ وَهُوَ قَوْلُ الأَوْزَاعِيِّ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ لِلإِمَامِ أَنْ يُخْرِجَ مِنَ السَّلَبِ الْخُمُسَ . وَقَالَ الثَّوْرِيُّ النَّفَلُ أَنْ يَقُولَ الإِمَامُ مَنْ أَصَابَ شَيْئًا فَهُوَ لَهُ وَمَنْ قَتَلَ قَتِيلاً فَلَهُ سَلَبُهُ فَهُوَ جَائِزٌ وَلَيْسَ فِيهِ الْخُمُسُ . وَقَالَ إِسْحَاقُ السَّلَبُ لِلْقَاتِلِ إِلاَّ أَنْ يَكُونَ شَيْئًا كَثِيرًا فَرَأَى الإِمَامُ أَنْ يُخْرِجَ مِنْهُ الْخُمُسَ كَمَا فَعَلَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ .
আবূ কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ শত্রু পক্ষের কোন সৈনিককে কোন লোক হত্যা করলে এবং এর প্রমাণ তার নিকট থাকলে সে নিহতের অস্ত্রশস্ত্র ও জিনিসপত্র পাবে।
সহীহ্, ইরওয়া (৫/৫২-৫৩), সহীহ্ আবূ দাঊদ (২৪৩), নাসা-ঈআবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসের সাথে আরও ঘটনা আছে। ইবনু আবী উমার হতে সুফিয়ানের বরাতে ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদের সূত্রেও অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। আওফ ইবনু মালিক, খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ, আনাস ও সামুরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ মুহাম্মাদের নাম নাফি, তিনি আবূ কাতাদা (রাঃ)-এর আযাদকৃত গোলাম। এ হাদীস মোতাবিক একদল সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণ আমল করেছেন। এই অভিমত (হত্যাকারী নিহতের মালপত্র পাবে) দিয়েছেন ইমাম আওযাঈ, শাফিঈ এবং আহ্মাদও। আরেকদল অভিজ্ঞ আলিম বলেন, দলনেতার এই মালপত্র হতে খুমুস বের করে নেওয়ার অধিকার আছে। সুফিয়ান সাওরী বলেন, যে লোক যা পেয়েছে তা তারই হবে এবং শত্রুপক্ষের কোন লোককে যে ব্যক্তি খুন করল সে তার মালপত্রের অধিকারী হবে। দলনেতার এরূপ ঘোষনাই হল নাফল (পুরস্কার) এবং তাতে কোন খুমুস নেই। ইসহাক (রহঃ) বলেছেন, হত্যাকারী নিহতের মালপত্রের অধিকারী হবে। তবে যদি মালপত্রের পরিমাণ অধিক হয় তবে দলনেতা চাইলে সেটা হতে খুমুস বের করতে পারেন, যেভাবে উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বের করেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৫৬২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত শত্রুর অস্ত্রশস্ত্র ও সঙ্গে থাকা জিনিসপত্র পাওয়ার একটি স্পষ্ট শর্ত বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যে ব্যক্তি শত্রুপক্ষের কোনো সৈনিককে হত্যা করেছে এবং তার কাছে এর প্রমাণ আছে, সে নিহত ব্যক্তির অস্ত্র ও জিনিসপত্র পাবে। এখানে প্রধান শব্দ হলো ‘প্রমাণ’। শুধু দাবি করলেই অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় না। হাদিসটি যুদ্ধলব্ধ সম্পদের ক্ষেত্রে যাচাই, সাক্ষ্য ও ন্যায্যতার গুরুত্ব দেখায়। একই সঙ্গে এটি বোঝায় যে এমন সম্পদ গোপনে নিয়ে নেওয়ার বিষয় নয়; বরং প্রমাণের ভিত্তিতে স্বীকৃত অধিকার হিসেবে দেওয়া হয়। বর্ণনার সীমার মধ্যে এটাই মূল শিক্ষা—দাবি, প্রমাণ এবং প্রাপ্যতার মধ্যে পরিষ্কার সম্পর্ক থাকতে হবে। এতে সম্পদ পাওয়ার আগে ঘটনার সত্যতা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন আরও পরিষ্কার হয়ে ওঠে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নিহত শত্রুর জিনিসপত্র দাবি করতে প্রমাণ থাকা জরুরি।
- শুধু মৌখিক দাবি প্রাপ্যতা নিশ্চিত করে না।
- যুদ্ধলব্ধ সম্পদের ক্ষেত্রেও যাচাই ও ন্যায্যতা বজায় রাখতে হয়।
