১৭/৩. অধ্যায়ঃ
মৃত ব্যক্তির পক্ষ হতে কুরবানী করা
রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর পক্ষ থেকে আলীর কুরবানি
জামে তিরমিযী : ১৪৯৫
জামে তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৪৯৫
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ الْمُحَارِبِيُّ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ أَبِي الْحَسْنَاءِ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ حَنَشٍ، عَنْ عَلِيٍّ، أَنَّهُ كَانَ يُضَحِّي بِكَبْشَيْنِ أَحَدُهُمَا عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالآخَرُ عَنْ نَفْسِهِ، فَقِيلَ لَهُ فَقَالَ أَمَرَنِي بِهِ يَعْنِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم - فَلاَ أَدَعُهُ أَبَدًا . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ شَرِيكٍ . وَقَدْ رَخَّصَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنْ يُضَحَّى عَنِ الْمَيِّتِ وَلَمْ يَرَ بَعْضُهُمْ أَنْ يُضَحَّى عَنْهُ . وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ أَحَبُّ إِلَىَّ أَنْ يُتَصَدَّقَ عَنْهُ وَلاَ يُضَحَّى عَنْهُ وَإِنْ ضَحَّى فَلاَ يَأْكُلْ مِنْهَا شَيْئًا وَيَتَصَدَّقْ بِهَا كُلِّهَا . قَالَ مُحَمَّدٌ قَالَ عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ وَقَدْ رَوَاهُ غَيْرُ شَرِيكٍ . قُلْتُ لَهُ أَبُو الْحَسْنَاءِ مَا اسْمُهُ فَلَمْ يَعْرِفْهُ . قَالَ مُسْلِمٌ اسْمُهُ الْحَسَنُ .
আলী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি দুটি মেষ কুরবানি করতেন, একটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পক্ষ হতে এবং অপরটি নিজের পক্ষ হতে। এ ব্যাপারে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে এই হুকুম করেছেন। অতএব আমি কখনও তা বাদ দেব না।
সনদ দুর্বল।আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। শুধু শারীকের সূত্রেই আমরা এ হাদীস জেনেছি। একদল আলিম মৃতের পক্ষ হতে কুরবানী করার অনুমতি দিয়েছেন এবং অপর একদল তা জায়িয মনে করেন না। আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক (রহঃ) বলেন, মৃতের পক্ষ হতে কুরবানী করার পরিবর্তে দান-খাইরাত করাই আমি পছন্দ করি। তবে মৃতের পক্ষ হতে কুরবানী করা হলে তার সম্পূর্ণ গোশত দান করে দিতে হবে, নিজেরা খেতে পারবে না। মুহাম্মাদ (বুখারী) বলেনঃ আলী ইবনু আল মাদীনী বলেছেনঃ এ হাদীসটি শারীক ছাড়া অন্যরাও বর্ণনা করেছেন। আমি (তিরমিযী) বললাম আবূল হাসনার নাম কি? তিনি তাকে চিনতে পারলেন না। মুসলিম বলেছেন তার নাম হাসান।
জামে তিরমিযী হাদিস ১৪৯৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর একটি নিয়মিত আমলের কথা বলা হয়েছে। তিনি দুটি মেষ কুরবানি করতেন। একটি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর পক্ষ থেকে এবং অন্যটি নিজের পক্ষ থেকে। তাঁকে এই কাজের কারণ জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাঁকে এভাবে কুরবানি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাই তিনি এটি কখনো বাদ দেবেন না বলে জানান। হাদিসটির মূল বিষয় হলো আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর প্রতি দেওয়া একটি নির্দিষ্ট নির্দেশ এবং সেই নির্দেশ পালনে তাঁর দৃঢ়তা। এই ঘটনাকে ব্যাখ্যা করার সময় হাদিসে বলা ব্যক্তিগত নির্দেশের সীমা মনে রাখা দরকার। বর্ণনায় সবার জন্য সাধারণভাবে কী করতে হবে, সে বিষয়ে আলাদা কোনো কথা নেই। তাই এখানে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু নবীজির নির্দেশ অনুসরণ করে তাঁর পক্ষ থেকে কুরবানি করতেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু দুটি মেষ কুরবানি করতেন।
- একটি মেষ রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর পক্ষ থেকে কুরবানি করা হতো।
- অন্য মেষটি তিনি নিজের পক্ষ থেকে কুরবানি করতেন।
- নবীজির দেওয়া নির্দেশ পালনে তিনি দৃঢ় ছিলেন।
