১৬/১৩. অধ্যায়ঃ

কণ্ঠনালী ও বুকের উপরিভাগে যবেহ করা

জরুরি অবস্থায় পশু যবেহ করার নিয়ম

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৪৮১

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، قَالَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، ح وَقَالَ أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَنْبَأَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي الْعُشَرَاءِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَمَا تَكُونُ الذَّكَاةُ إِلاَّ فِي الْحَلْقِ وَاللَّبَّةِ قَالَ ‏ "‏ لَوْ طَعَنْتَ فِي فَخِذِهَا لأَجْزَأَ عَنْكَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ قَالَ يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ هَذَا فِي الضَّرُورَةِ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيِبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ ‏.‏ وَلاَ نَعْرِفُ لأَبِي الْعُشَرَاءِ عَنْ أَبِيهِ غَيْرَ هَذَا الْحَدِيثِ وَاخْتَلَفُوا فِي اسْمِ أَبِي الْعُشَرَاءِ فَقَالَ بَعْضُهُمُ اسْمُهُ أُسَامَةُ بْنُ قِهْطِمٍ وَيُقَالُ اسْمُهُ يَسَارُ بْنُ بَرْزٍ وَيُقَالُ ابْنُ بَلْزٍ وَيُقَالُ اسْمُهُ عُطَارِدٌ نُسِبَ إِلَى جَدِّهِ ‏.‏

আবুল উশারা (রাহঃ) হতে তার পিতা হতে বর্ণিতঃ

তিনি (পিতা) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! যবেহ কি শুধু কণ্ঠনালী ও বক্ষস্থলের উপরিভাগেই (কণ্ঠনালীর শুরু এবং শেষ অংশের মধ্যবর্তী স্থানে) করতে হবে? তিনি বললেন: তুমি যদি তার উরুতে আঘাত করতে পার তবে তোমার জন্য যথেষ্ট হবে।

যঈফ, ইবনু মাজাহ (৩১৮৪), আহমাদ ইবনু মানী (রাহঃ) বলেন, ইয়াযীদ ইবনু হারূন বলেছেন, উরুতে যবেহ করা শুধুমাত্র জরুরী অবস্থায় প্রযোজ্য। এ অনুচ্ছেদে রাফি ইবনু খাদীজ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। হাম্মাদ ইবনু সালামার সূত্রেই শুধুমাত্র আমরা এ হাদীস জেনেছি। আবুল উশারা (রাহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত উপরোক্ত হাদীস ব্যতীত আর কোন হাদীস বর্ণিত আছে কি না তা আমাদের জানা নেই। বিশেষজ্ঞগণ আবুল উশারার নামে মতভেদ করেছেন। কেউ বলেছেন তার নাম উসামা ইবনু কিহ্‌তাম, তিনি আবার ইয়াসার ইবনু বার্‌য বা ইবনু বাল্‌য বলেও কথিত। ভিন্নমতে তার নাম উতারিদ, তার দাদার সাথে সম্পর্কিত।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৪৮১-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে পশু যবেহের একটি বিশেষ অবস্থার কথা বলা হয়েছে। একজন সাহাবি জানতে চেয়েছিলেন, যবেহ কি কেবল পশুর কণ্ঠনালী ও বুকের ওপরের অংশেই করতে হবে? রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم উত্তর দেন, পশুর উরুতে আঘাত করতে পারলেও তা যথেষ্ট হবে। হাদিসের বর্ণনায় বোঝা যায়, এটি স্বাভাবিক অবস্থার সাধারণ পদ্ধতি নয়; বরং পশুকে প্রচলিত স্থানে যবেহ করা সম্ভব না হলে এমন ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। মূল লক্ষ্য হলো পশুকে নিয়ন্ত্রণ করে যথাযথভাবে রক্ত প্রবাহিত করা। তাই এই বর্ণনা থেকে জরুরি অবস্থায় পশু যবেহের সহজতা জানা যায়। তবে স্বাভাবিকভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকা পশুর ক্ষেত্রে এই বিশেষ অবস্থাকে সাধারণ নিয়ম হিসেবে ধরা ঠিক হবে না।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • স্বাভাবিক স্থানে যবেহ করা সম্ভব না হলে বিকল্প স্থানে আঘাত করা যেতে পারে।
  • পশুকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে।
  • বিশেষ অবস্থার অনুমতিকে স্বাভাবিক যবেহের সাধারণ নিয়ম হিসেবে নেওয়া উচিত নয়।
  • যবেহের ক্ষেত্রে বাস্তব অসুবিধা ও প্রয়োজন বিবেচনা করা হয়েছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন