১৬/১১. অধ্যায়ঃ
থাবা ও শিকারী দাঁতওয়ালা হিংস্র পশু ও নখরযুক্ত শিকারী পাখি খাওয়া নিষেধ
গাধা, খচ্চর ও শিকারি পশু-পাখির মাংসের বিধান
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৪৭৮
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৪৭৮
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ، هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ حَرَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - يَعْنِي يَوْمَ خَيْبَرَ - الْحُمُرَ الإِنْسِيَّةَ وَلُحُومَ الْبِغَالِ وَكُلَّ ذِي نَابٍ مِنَ السِّبَاعِ وَذِي مِخْلَبٍ مِنَ الطَّيْرِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ وَابْنِ عَبَّاسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ جَابِرٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ .
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
খাইবারের যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হারাম ঘোষণা করেছেন গৃহপালিত গাধা, খচ্চরের মাংস, প্রত্যেক শিকারি দাঁতওয়ালা হিংস্র পশু এবং পাঞ্জাধারী শিকারি পাখিকে (খেতে)।
সহীহ্, ইরওয়া (৮/১৩৮)আবূ হুরাইরা, ইরবায ইবনু সারিয়া ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৪৭৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে খাইবারের দিনের কয়েকটি খাদ্যনিষেধ একসঙ্গে বলা হয়েছে। গৃহপালিত গাধার মাংস, খচ্চরের মাংস, শিকারি দাঁতওয়ালা হিংস্র পশু এবং পাঞ্জা বা নখরধারী শিকারি পাখি খেতে নিষেধ করা হয়েছে। হাদিসটি প্রাণীর কয়েকটি আলাদা শ্রেণি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে। গৃহপালিত গাধা ও খচ্চর একদিকে, আর দাঁতওয়ালা হিংস্র পশু ও নখরওয়ালা শিকারি পাখি অন্যদিকে। তাই খাদ্যবিধান বোঝার সময় সব প্রাণীকে এক সাধারণ নিয়মে ফেলা উচিত নয়। প্রত্যেকটির উল্লেখিত বৈশিষ্ট্য দেখতে হবে। এই বর্ণনার মূল শিক্ষা হলো, খাওয়ার উপযোগিতা শুধু মানুষের অভ্যাস বা স্বাদের ওপর নির্ভর করে না; নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর দেওয়া সীমাও মানতে হয়। হালাল খাবার বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রাণীর ধরন ও বৈশিষ্ট্য জানা প্রয়োজন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গৃহপালিত গাধা ও খচ্চরের মাংস নিষিদ্ধ।
- শিকারি দাঁতওয়ালা হিংস্র পশু খাওয়া নিষিদ্ধ।
- পাঞ্জা বা নখরওয়ালা শিকারি পাখি খাওয়া নিষিদ্ধ।
- খাদ্যবিধানে প্রাণীর নির্দিষ্ট শ্রেণি ও বৈশিষ্ট্য দেখতে হবে।
