১৬/৯. অধ্যায়ঃ
কোন পশুকে চাঁদমারির লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে তীর ছুড়ে মারা হলে তা খাওয়া নিষেধ
মুজাস্সামা কী এবং কেন তা খাওয়া নিষিদ্ধ
জামে তিরমিযী : ১৪৭৩
জামে তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৪৭৩
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الأَفْرِيقِيِّ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ أَكْلِ الْمُجَثَّمَةِ وَهِيَ الَّتِي تُصْبَرُ بِالنَّبْلِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ وَأَنَسٍ وَابْنِ عُمَرَ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَجَابِرٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي الدَّرْدَاءِ حَدِيثٌ غَرِيبٌ .
আবুদ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
‘মুজাস্সামা’ খাওয়াকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিষেধ করেছেন। যে পশুকে চাঁদমারির নিশানা বানিয়ে তীর ছুড়ে হত্যা করা হয় তাকে ‘মুজাস্সামা’ বলে।
সহীহ, সহীহা (২৩৯১)ইরবায ইবনু সারিয়া, আনাস, ইবনু উমার, ইবনু আব্বাস জাবির ও আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূদ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা গারীব বলেছেন।
জামে তিরমিযী হাদিস ১৪৭৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে “মুজাস্সামা” খেতে নিষেধ করা হয়েছে। বর্ণনাতেই এর অর্থ বোঝানো হয়েছে—যে পশুকে আটকে বা দাঁড় করিয়ে তীর ছোড়ার লক্ষ্য বানানো হয় এবং এভাবে হত্যা করা হয়, সেটিই মুজাস্সামা। এখানে স্বাভাবিক শিকার নয়; জীবন্ত প্রাণীকে পালানোর সুযোগ না দিয়ে চাঁদমারির বস্তু বানানো হয়েছে। ফলে প্রাণীটি বিনোদন বা অনুশীলনের লক্ষ্য হয়ে মারা যায়। হাদিসটি এমন প্রাণী খাওয়া নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ থেকেও বিরত থাকতে শেখায়। শিকার প্রয়োজনের জন্য হতে পারে, কিন্তু জীবন্ত প্রাণীকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে তীর ছোড়া বৈধ শিকারের পদ্ধতি নয়। তাই মুজাস্সামার বিধান বুঝতে “কীভাবে প্রাণীটি মারা হয়েছে” এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। শুধু প্রাণীটি সাধারণভাবে হালাল প্রজাতির হলেই যথেষ্ট নয়; হত্যার পদ্ধতিও বৈধ হতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জীবন্ত পশুকে তীরের লক্ষ্য বানানো নিষিদ্ধ।
- এভাবে হত্যা করা প্রাণী মুজাস্সামা এবং তা খাওয়া যাবে না।
- বৈধ শিকারে প্রাণীকে বিনোদনের বস্তু বানানো যায় না।
- খাবারের হালাল হওয়ায় হত্যার পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ।
