১৬/৬. অধ্যায়ঃ
কুকুর তার শিকার হতে কিছু খেলে
শিকারি কুকুরের ধরা প্রাণী কখন হালাল
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৪৭০
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৪৭০
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ، قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ صَيْدِ الْكَلْبِ الْمُعَلَّمِ قَالَ " إِذَا أَرْسَلْتَ كَلْبَكَ الْمُعَلَّمَ وَذَكَرْتَ اسْمَ اللَّهِ فَكُلْ مَا أَمْسَكَ عَلَيْكَ فَإِنْ أَكَلَ فَلاَ تَأْكُلْ فَإِنَّمَا أَمْسَكَ عَلَى نَفْسِهِ " . قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِنْ خَالَطَتْ كِلاَبَنَا كِلاَبٌ أُخَرُ قَالَ " إِنَّمَا ذَكَرْتَ اسْمَ اللَّهِ عَلَى كَلْبِكَ وَلَمْ تَذْكُرْ عَلَى غَيْرِهِ " . قَالَ سُفْيَانُ أَكْرَهُ لَهُ أَكْلَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ فِي الصَّيْدِ وَالذَّبِيحَةِ إِذَا وَقَعَا فِي الْمَاءِ أَنْ لاَ يَأْكُلَ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ فِي الذَّبِيحَةِ إِذَا قُطِعَ الْحُلْقُومُ فَوَقَعَ فِي الْمَاءِ فَمَاتَ فِيهِ فَإِنَّهُ يُؤْكَلُ وَهُوَ قَوْلُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ . وَقَدِ اخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي الْكَلْبِ إِذَا أَكَلَ مِنَ الصَّيْدِ فَقَالَ أَكْثَرُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِذَا أَكَلَ الْكَلْبُ مِنْهُ فَلاَ تَأْكُلْ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَقَدْ رَخَّصَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ فِي الأَكْلِ مِنْهُ وَإِنْ أَكَلَ الْكَلْبُ مِنْهُ .
আদী ইবনু হাতীম (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুরের শিকারের বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন, “তুমি তোমার শিকারী কুকুরকে শিকারের উদ্দেশ্যে ছাড়ার সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করে থাকলে সে তোমার জন্য যা ধরে রাখে তা খাও। যদি সে শিকারের কিছু অংশ খেয়ে ফেলে তবে তা খেও না। কেননা সে তা নিজের জন্য শিকার করেছে।” আমি বললাম, “হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমাদের কুকুরের সাথে অন্য কুকুর এসে মিলিত হয়ে যায়?” তিনি বললেনঃ “তুমি তো আল্লাহর নাম নিয়েছ তোমার কুকুরের ক্ষেত্রে, অন্য কারো কুকুরের বেলায় তো নাওনি।”
সহীহ্, সহীহ্ আবূ দাঊদ (২৫৩৮, ২৫৪৩), ইরওয়া (২৫৪৬), নাসা-ঈএটা খাওয়াকে সুফিয়ান সাওরী মাকরূহ বলেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীস মোতাবেক রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর একদল সাহাবী ও তৎপরবর্তীগন আমল করেছেন। তাদের মতে শিকারকৃত এবং যবেহ কৃত পশু পানিতে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেলে তা খাওয়া বৈধ নয়। তাদের অপর একদল বলেছেন, কণ্ঠনালী কাটার পর পানিতে পড়ে গিয়ে মারা গেলে তা খাওয়া যাবে। এই অভিমত ইবনুল মুবারাকেরও।কুকুর শিকারের কিছু অংশ খাওয়ার পর তা খাওয়া বৈধ হবে কি-না এ বিষয়েও অভিজ্ঞ আলিমগণের মধ্যে মতভেদ আছে। বেশিরভাগ অভিজ্ঞ আলিম বলেছেন, কুকুর শিকার হতে কিছু অংশ খেয়ে নিলে সেই শিকার খাওয়া বৈধ নয়। এই কথা বলেছেন সুফিয়ান সাওরী, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক। অন্যদিকে এটা খাওয়ার পক্ষে একদল সাহাবী ও তৎপরবর্তীগণ সম্মতি দিয়েছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৪৭০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে প্রশিক্ষিত শিকারি কুকুর ব্যবহারের পরিষ্কার নিয়ম দেওয়া হয়েছে। কুকুর ছাড়ার সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করতে হবে। কুকুরটি মালিকের জন্য শিকার ধরে রাখলে তা খাওয়া যায়। কিন্তু কুকুর যদি শিকারের কিছু অংশ নিজে খেয়ে ফেলে, তাহলে তা না খেতে বলা হয়েছে। কারণ তখন বোঝা যায়, সে শিকারটি মালিকের জন্য নয়, নিজের জন্য ধরেছে। আর যদি নিজের কুকুরের সঙ্গে অন্য কোনো কুকুর এসে মিশে যায়, তাহলেও সন্দেহ তৈরি হয়। শিকারি আল্লাহর নাম নিয়েছে নিজের কুকুরের জন্য, অন্য কুকুরের জন্য নয়। তাই কোন কুকুর শিকার ধরেছে বা মেরেছে, তা নিশ্চিত থাকে না। হাদিসটি শিকারের ক্ষেত্রে বিসমিল্লাহ, প্রশিক্ষিত কুকুরের আচরণ এবং সন্দেহমুক্ত কারণ—সবকিছুর গুরুত্ব দেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শিকারি কুকুর ছাড়ার সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করতে হবে।
- কুকুর শিকার থেকে খেলে তা নিজের জন্য ধরেছে বলে ধরা হয়।
- অন্য কুকুর মিশে গেলে শিকারের উৎস নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।
- হালাল শিকারে কারণ ও প্রক্রিয়া পরিষ্কার থাকা দরকার।
