১৫/২৮. অধ্যায়ঃ
গনিমতের মাল আত্মসাৎকারীর শাস্তি
গনীমতের মাল আত্মসাৎ: আমানত রক্ষার কঠোর শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৪৬১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৪৬১
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو السَّوَّاقُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ صَالِحِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ زَائِدَةَ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ وَجَدْتُمُوهُ غَلَّ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَاحْرِقُوا مَتَاعَهُ " . قَالَ صَالِحٌ فَدَخَلْتُ عَلَى مَسْلَمَةَ وَمَعَهُ سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ فَوَجَدَ رَجُلاً قَدْ غَلَّ فَحَدَّثَ سَالِمٌ بِهَذَا الْحَدِيثِ فَأَمَرَ بِهِ فَأُحْرِقَ مَتَاعُهُ فَوُجِدَ فِي مَتَاعِهِ مُصْحَفٌ فَقَالَ سَالِمٌ بِعْ هَذَا وَتَصَدَّقْ بِثَمَنِهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا الْحَدِيثُ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ وَهُوَ قَوْلُ الأَوْزَاعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . قَالَ وَسَأَلْتُ مُحَمَّدًا عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ فَقَالَ إِنَّمَا رَوَى هَذَا صَالِحُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زَائِدَةَ وَهُوَ أَبُو وَاقِدٍ اللَّيْثِيُّ وَهُوَ مُنْكَرُ الْحَدِيثِ قَالَ مُحَمَّدٌ وَقَدْ رُوِيَ فِي غَيْرِ حَدِيثٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الْغَالِّ فَلَمْ يَأْمُرْ فِيهِ بِحَرْقِ مَتَاعِهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ .
উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমরা যাকে আল্লাহর পথে (গনীমাত) আত্মসাৎ করতে দেখবে তার মালপত্র সব পুড়িয়ে দাও। সালিহ (রহঃ) বলেছেন, আমি মাসলামার নিকটে গেলাম। এ সময় সালিম ইবন আবদুল্লাহ তার নিকটেই ছিলেন। তিনি এক আত্মসাৎকারীকে পেলেন। সালিম (রহঃ) তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর এ হাদীস উল্লেখ করেন। তিনি তার মালপত্র পুড়িয়ে দেয়ার হুকুম দিলে তা পুড়িয়ে দেয়া হয়। তার মালপত্রের মধ্যে এক জিলদ কুরআন পাওয়া গেলে সালিম (রহঃ) বলেন, তা বিক্রি করে তার মূল্য দান-খয়রাত করে দাও।
যঈফ, যঈফ আবূ দাঊদ (৪৬৮), মিশকাত, তাহকীক ছানী (৩৬৩৩), তাহকীকুল মুখতারাহ (১৯১, ১৯৪)আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। শুধুমাত্র উল্লেখিত সনদসূত্রেই আমরা এটা জেনেছি। কিছু বিশেষজ্ঞ আলিম এ হাদীস অনুযায়ী মত দিয়েছেন। ইমাম আওযাঈ, আহ্মাদ ও ইসহাকের এই মত। আমি (তিরমিযী) মুহাম্মাদ বুখারীকে এ হাদীস প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এ হাদীসটি সালিহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু যায়িদা বর্ণনা করেছেন। তার ডাকনাম আবূ ওয়াকিদ আল-লাইসী। তিনি একজন প্রত্যাখ্যাত রাবী। ইমাম বুখারী আরো বলেন, গানীমাতের মাল আত্মসাৎকারী প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আরো হাদীস আছে। কিন্তু তিনি তাতে তার মালপত্র পুড়িয়ে ফেলার হুকুম দেননি।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৪৬১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো গনীমতের মাল আত্মসাৎ বা যুদ্ধলব্ধ সম্পদে খিয়ানত। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর নামে বর্ণিত নির্দেশে আত্মসাৎকারীর মালপত্র পুড়িয়ে দেওয়ার কথা এসেছে। পরে একটি বাস্তব ঘটনায় সালিম ইবন আবদুল্লাহ (রহ.) এই বর্ণনা উল্লেখ করেন এবং আত্মসাৎকারীর মালপত্র পোড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে তার মালপত্রের মধ্যে কুরআনের একটি কপি পাওয়া গেলে সেটি পোড়ানো হয়নি। বরং তা বিক্রি করে মূল্য দান করার কথা বলা হয়। এতে দুটি বিষয় পরিষ্কার হয়। প্রথমত, জনসম্পদ বা গনীমতের মাল নিজের করে নেওয়া হালকা অপরাধ নয়। দ্বিতীয়ত, শাস্তির ক্ষেত্রেও কুরআনের সম্মান রক্ষা করা হয়েছে। ইসলামী স্কলারদের মতে, এ ধরনের দণ্ড ব্যক্তিগতভাবে কার্যকর করার বিষয় নয়; এটি বৈধ বিচার ও কর্তৃপক্ষের আওতাভুক্ত। তাই হাদিসটির শিক্ষা হলো আমানতদারি, জনসম্পদের হক রক্ষা এবং পবিত্র জিনিসের মর্যাদা বজায় রাখা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গনীমতের মাল বা জনসম্পদ আত্মসাৎ করা খিয়ানতের অন্তর্ভুক্ত।
- অপরাধের শাস্তির মধ্যেও কুরআনের কপির সম্মান রক্ষা করতে হবে।
- আত্মসাৎ করা সম্পদ ব্যক্তিগত মালিকানার মতো ব্যবহার করা যায় না।
- বিচারিক শাস্তি ব্যক্তি নয়, বৈধ কর্তৃপক্ষের বিষয়।
