১৫/১৬. অধ্যায়ঃ
যে পরিমাণ (মাল) চুরি করলে হাত কেটে ফেলা বৈধ হবে
ঢাল চুরির শাস্তি ও তিন দিরহামের মূল্যসীমা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৪৪৬
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৪৪৬
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَطَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي مِجَنٍّ قِيمَتُهُ ثَلاَثَةُ دَرَاهِمَ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ سَعْدٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَابْنِ عَبَّاسٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَأَيْمَنَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْهُمْ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ قَطَعَ فِي خَمْسَةِ دَرَاهِمَ . وَرُوِيَ عَنْ عُثْمَانَ وَعَلِيٍّ أَنَّهُمَا قَطَعَا فِي رُبْعِ دِينَارٍ . وَرُوِيَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَأَبِي سَعِيدٍ أَنَّهُمَا قَالاَ تُقْطَعُ الْيَدُ فِي خَمْسَةِ دَرَاهِمَ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ فُقَهَاءِ التَّابِعِينَ وَهُوَ قَوْلُ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ رَأَوُا الْقَطْعَ فِي رُبْعِ دِينَارٍ فَصَاعِدًا . وَقَدْ رُوِيَ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ أَنَّهُ قَالَ لاَ قَطْعَ إِلاَّ فِي دِينَارٍ أَوْ عَشَرَةِ دَرَاهِمَ . وَهُوَ حَدِيثٌ مُرْسَلٌ رَوَاهُ الْقَاسِمُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ وَالْقَاسِمُ لَمْ يَسْمَعْ مِنِ ابْنِ مَسْعُودٍ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَأَهْلِ الْكُوفَةِ قَالُوا لاَ قَطْعَ فِي أَقَلَّ مِنْ عَشَرَةِ دَرَاهِمَ . وَرُوِيَ عَنْ عَلِيٍّ أَنَّهُ قَالَ لاَ قَطْعَ فِي أَقَلَّ مِنْ عَشَرَةِ دَرَاهِمَ . وَلَيْسَ إِسْنَادُهُ بِمُتَّصِلٍ .
ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একটি ঢাল চুরির দায়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (চোরের) হাত কাটার হুকুম দেন, যার মূল্য ছিল তিন দিরহাম।
সহীহ্, ইবনু মা-জাহ (২৫৮৪), নাসা-ঈসা’দ, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, ইবনু আব্বাস, আবূ হুরাইরা ও আইমান(রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। এ হাদীস মোতাবিক নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর একদল অভিজ্ঞ সাহাবী আমল করেছেন। তাদের মধ্যে আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) অন্তর্ভুক্ত। তিনি পাঁচ দিরহাম পরিমাণ চুরির দায়ে চোরের হাত কেটেছেন। উসমান ও আলী (রাঃ) সম্বন্ধে বর্ণিত আছে যে, তারা দু’জনেই এক দীনারের এক-চতুর্থাংশ পরিমাণ চুরির দায়ে চোরের হাত কেটেছেন। আবূ হুরাইরা ও আবূ সাঈদ (রাঃ) প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে যে, তারা উভয়ে বলেছেন, পাঁচ দিরহাম চুরি করলে হাত কেটে ফেলা বৈধ হবে। একদল ফিকহবিদ তাইঈ এই বক্তব্য গ্রহণ করেছেন। এই মতটি দিয়েছেন ইমাম মালিক ইবনু আনাস, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক। তারা মনে করেন, এক দীনারের এক-চতুর্থাংশ বা তার চেয়ে বেশি চুরি করলে হাত কাটা বৈধ হবে। ইবনু মাসঊদ (রাঃ) সম্পর্কে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, “এক দীনার অথবা দশ দিরহাম পরিমাণ চুরি করলেই কেবল হাত কাটা যাবে।” এটি মুরসাল হাদীস। এ হাদীসটি ইবনু মাসঊদ (রাঃ) -এর নিকট হতে কাসিম উবনু আবদুর রাহমান বর্ণনা করেছেন বলে উল্লেখ আছে। অথচ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) -এর নিকট কাসিম (রহঃ) কিছুই শুনেননি। এ হাদীস মোতাবিক একদল অভিজ্ঞ আলিম আমল করেছেন। এই অভিমত দিয়েছেন সুফিয়ান সাওরী ও কূফাবাসীগণ। তারা বলেছেন, দশ দিরহামের কম পরিমাণ চুরিতে হাত কাটা বৈধ হবেনা। আলী (রাঃ) হতেও বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন, দশ দিরহামের কম পরিমাণ চুরিতে হাত কাটা যাবেনা। এর সনদসূত্র মুত্তাসিল নয়।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৪৪৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় চুরির শাস্তি এবং চুরি করা সম্পদের মূল্য। ইবনু উমর (রাঃ) বলেন, তিন দিরহাম মূল্যের একটি ঢাল চুরির ঘটনায় রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) হাত কাটার আদেশ দেন। বর্ণনার পরের অংশে বিভিন্ন সাহাবি ও আলিমের মতও এসেছে। কেউ এক-চতুর্থাংশ দীনার বা তার বেশি মূল্যকে ভিত্তি ধরেছেন, আবার কেউ দশ দিরহামের নিচে এই দণ্ড হবে না বলেছেন। তাই হাদিসটি শুধু একটি ঘটনার কথা নয়; মূল্যসীমা নিয়ে মতভেদের কথাও জানায়। এ ধরনের বিষয়কে সরল করে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে ব্যবহার করা ঠিক নয়। ইসলামী স্কলারদের মতে, চুরির হাদ্দ কার্যকর করতে প্রমাণ, সম্পদের অবস্থা, নিরাপত্তা ও অন্যান্য বিচারিক শর্ত যাচাই করতে হয়। এটি বৈধ আদালতের দায়িত্ব, ব্যক্তির নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তিন দিরহাম মূল্যের ঢাল চুরির ঘটনায় দণ্ডের বর্ণনা এসেছে।
- চুরির ন্যূনতম মূল্যসীমা নিয়ে আলিমদের মধ্যে মতভেদ উল্লেখ করা হয়েছে।
- একটি বর্ণনা পড়েই সব পরিস্থিতির জন্য ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত দেওয়া ঠিক নয়।
- দণ্ড প্রয়োগ বৈধ বিচারিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।
