১৫/৯. অধ্যায়ঃ
সন্তান জন্মগ্রহণ করা পর্যন্ত গর্ভবতী নারীর শাস্তি বিলম্বিত হবে
জুহাইনা নারীর তাওবা: সন্তানের নিরাপত্তা ও উত্তম আচরণের শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৪৩৫
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৪৩৫
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَبِي الْمُهَلَّبِ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، أَنَّ امْرَأَةً، مِنْ جُهَيْنَةَ اعْتَرَفَتْ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِالزِّنَا فَقَالَتْ إِنِّي حُبْلَى . فَدَعَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَلِيَّهَا فَقَالَ " أَحْسِنْ إِلَيْهَا فَإِذَا وَضَعَتْ حَمْلَهَا فَأَخْبِرْنِي " . فَفَعَلَ فَأَمَرَ بِهَا فَشُدَّتْ عَلَيْهَا ثِيَابُهَا ثُمَّ أَمَرَ بِرَجْمِهَا فَرُجِمَتْ ثُمَّ صَلَّى عَلَيْهَا فَقَالَ لَهُ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ يَا رَسُولَ اللَّهِ رَجَمْتَهَا ثُمَّ تُصَلِّي عَلَيْهَا . فَقَالَ " لَقَدْ تَابَتْ تَوْبَةً لَوْ قُسِمَتْ بَيْنَ سَبْعِينَ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ لَوَسِعَتْهُمْ وَهَلْ وَجَدْتَ شَيْئًا أَفْضَلَ مِنْ أَنْ جَادَتْ بِنَفْسِهَا لِلَّهِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
জুহাইনা বংশের এক মহিলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট নিজের যিনার কথা স্বীকার করে এবং বলে, আমি গর্ভবতী অবস্থায় আছি।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার অভিভাবককে ডেকে পাঠান এবং বলেন: তার সাথে উত্তম আচরণ কর এবং সে সন্তান প্রসব করার পর আমাকে খবর দিও। তার অভিভাবক তাই করল।তিনি তার ব্যাপারে আদেশ করলেন এবং সে মোতাবিক তাঁর দেহে তার কাপড় শক্তভাবে বাঁধা হল। তারপর তিনি তাকে রজম করার (পাথর মেরে হত্যার) হুকুম করলেন। অতএব তাকে রজম করা হল।তারপর তিনি তার জানাযার নামাজ আদায় করেন। উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) তাঁকে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তাকে রজমের নির্দেশ দিলেন আবার আপনিই তার জানাযার নামাজ আদায় করলেন!তিনি বললেন: সে এরূপ তাওবা করেছে যদি তা মদীনার সত্তরজন লোকের মধ্যে বন্টন করা হয়, তবে সেই তাওবা তাদের সকলের (গুনাহ মাফের) জন্য যথেষ্ট হবে। হে উমর! সে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তার জীবনকে কুরবানি করে দিয়েছে। তুমি কি এর চেয়েও উত্তম কিছু পেয়েছ?
এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৪৩৫-এর সারসংক্ষেপ
জুহাইনা বংশের একজন নারী নিজের যিনার কথা স্বীকার করেন এবং জানান যে তিনি গর্ভবতী। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সঙ্গে সঙ্গে তার ওপর রায় কার্যকর করেননি। বরং তার অভিভাবককে ডেকে নারীর সঙ্গে ভালো আচরণ করতে বলেন এবং সন্তান প্রসবের পর সংবাদ দিতে নির্দেশ দেন। সন্তান জন্মের পর তার বিষয়ে বর্ণিত রায় কার্যকর করা হয়। এরপর রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) নিজেই তার জানাজার নামাজ পড়েন। উমর (রাঃ) এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি নারীর তাওবার গভীরতার প্রশংসা করেন। হাদিসটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, অনাগত সন্তানের নিরাপত্তার জন্য অপেক্ষা করা এবং সেই সময় নারীটির সঙ্গে উত্তম আচরণের নির্দেশ। আরেকটি দিক হলো, গুরুতর পাপের পরও তার আন্তরিক তাওবাকে ছোট করা হয়নি। বরং রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) প্রকাশ্যে তার তাওবার প্রশংসা করেছেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গর্ভবতী নারীর সন্তানের জন্ম না হওয়া পর্যন্ত রায় কার্যকর করা হয়নি।
- অভিভাবককে তার সঙ্গে উত্তম আচরণ করতে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- শাস্তির পর রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তার জানাজার নামাজ আদায় করেছেন।
- নারীর আন্তরিক তাওবাকে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) অত্যন্ত প্রশংসা করেছেন।
