১৪/৬. অধ্যায়ঃ
পাথর দ্বারা আঘাত করে কারো মাথা থেতলানো হলে
হত্যায় কিসাসের হাদিস: স্বীকারোক্তি ও ন্যায়বিচারের ঘটনা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৩৯৪
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৩৯৪
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ خَرَجَتْ جَارِيَةٌ عَلَيْهَا أَوْضَاحٌ فَأَخَذَهَا يَهُودِيٌّ فَرَضَخَ رَأْسَهَا بِحَجَرٍ وَأَخَذَ مَا عَلَيْهَا مِنَ الْحُلِيِّ . قَالَ فَأُدْرِكَتْ وَبِهَا رَمَقٌ فَأُتِيَ بِهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " مَنْ قَتَلَكِ أَفُلاَنٌ " . قَالَتْ بِرَأْسِهَا لاَ . قَالَ " فَفُلاَنٌ " . حَتَّى سُمِّيَ الْيَهُودِيُّ فَقَالَتْ بِرَأْسِهَا أَىْ نَعَمْ . قَالَ فَأُخِذَ فَاعْتَرَفَ فَأَمَرَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرُضِخَ رَأْسُهُ بَيْنَ حَجَرَيْنِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ لاَ قَوَدَ إِلاَّ بِالسَّيْفِ .
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একটি বালিকা গহনা পরে বাড়ির বাইরে গেলে একজন ইয়াহুদী তাকে ধরে নিয়ে পাথর দ্বারা আঘাত করে তার মাথা থেঁতলিয়ে দেয় এবং তার গহনা ছিনিয়ে নেয়। তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট আনা হয়। সে মুহুর্তেও তার মধ্যে জীবনের স্পন্দন অবশিষ্ট ছিল। তিনি প্রশ্ন করেনঃ কে তোমাকে হত্যা করেছে, অমুক লোক কি? সে মাথার ইশারায় বলল, না। তিনি আবার প্রশ্ন করেন। তাহলে কি অমুক লোক। এভাবে তিনি নাম উচ্চারণ করতে করতে বললেনঃ অমুক ইয়াহুদী? সে মাথা নেড়ে বলল, হ্যাঁ। বর্ণনাকারী বলেন, তাকে ধরে আনা হলে সে ঘটনার স্বীকারোক্তি করল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নির্দেশে তার মাথা দুই পাথরের মাঝে রেখে থেঁতলিয়ে দেওয়া হল।
সহীহ্ ইবনু মা-জাহ- (২৬৬৫, ২৬৬৬), নাসা-ঈএ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। এ হাদীস অনুসারে ইমাম আহমাদ ও ইসহাক অভিমত ব্যক্ত করেছেন। কিছু আলিম বলেছেন, তরবারির আঘাতেই কিসাস কার্যকর করতে হবে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৩৯৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একটি গুরুতর হত্যা ও ছিনতাইয়ের বিচার বর্ণিত হয়েছে। গহনা পরা এক বালিকাকে একজন ইয়াহুদি পাথর দিয়ে আঘাত করে, তার মাথা থেঁতলে দেয় এবং গহনা নিয়ে যায়। তাকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া গেলে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সম্ভাব্য ব্যক্তিদের নাম জিজ্ঞেস করেন। বালিকাটি মাথার ইশারায় ভুল নামগুলো অস্বীকার করে এবং অভিযুক্তের নাম বলা হলে সম্মতি জানায়। পরে সেই ব্যক্তিকে ধরা হলে সে অপরাধ স্বীকার করে। এরপর রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশে তার ওপর একই ধরনের কিসাস কার্যকর করা হয়। বর্ণনাটি দেখায়, শুধু সন্দেহের ওপর শাস্তি দেওয়া হয়নি; ভুক্তভোগীর শনাক্তকরণ এবং অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি দুটোই এসেছে। এটি ব্যক্তিগত প্রতিশোধের অনুমতি নয়। বরং বিচারিক কর্তৃপক্ষ প্রমাণ যাচাই করে ন্যায়বিচার কার্যকর করেছে—এটাই হাদিসের সরাসরি ঘটনা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হত্যার অভিযোগে পরিচয় যাচাই ও স্বীকারোক্তি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে এসেছে।
- শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে শাস্তি কার্যকর করা হয়নি।
- কিসাস ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নয়; বিচারিক সিদ্ধান্তের বিষয়।
- ছিনতাই ও হত্যার অপরাধের গুরুতরতা বর্ণনায় স্পষ্ট।
