১৩/৩৯. অধ্যায়ঃ
জায়গির (দান বা পুরস্কার স্বরূপ) মঞ্জুরী প্রসঙ্গে
লবণ খনি ও জনসম্পদ: ব্যক্তিগত বরাদ্দের ন্যায়সঙ্গত সীমা
জামে তিরমিযী : ১৩৮০
জামে তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৩৮০
قَالَ قُلْتُ لِقُتَيْبَةَ بْنِ سَعِيدٍ حَدَّثَكُمْ مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ قَيْسٍ الْمَأْرِبِيُّ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ ثُمَامَةَ بْنِ شُرَاحِيلَ، عَنْ سُمَىِّ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ شُمَيْرٍ، عَنْ أَبْيَضَ بْنِ حَمَّالٍ، أَنَّهُ وَفَدَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاسْتَقْطَعَهُ الْمِلْحَ فَقَطَعَ لَهُ فَلَمَّا أَنْ وَلَّى قَالَ رَجُلٌ مِنَ الْمَجْلِسِ أَتَدْرِي مَا قَطَعْتَ لَهُ إِنَّمَا قَطَعْتَ لَهُ الْمَاءَ الْعِدَّ . قَالَ فَانْتَزَعَهُ مِنْهُ . قَالَ وَسَأَلَهُ عَمَّا يُحْمَى مِنَ الأَرَاكِ قَالَ " مَا لَمْ تَنَلْهُ خِفَافُ الإِبِلِ " . فَأَقَرَّ بِهِ قُتَيْبَةُ وَقَالَ نَعَمْ .حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ قَيْسٍ الْمَأْرِبِيُّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ . الْمَأْرِبُ نَاحِيَةٌ مِنَ الْيَمَنِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ وَائِلٍ وَأَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبْيَضَ بْنِ حَمَّالٍ حَدِيثٌ غَرِيبٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ فِي الْقَطَائِعِ يَرَوْنَ جَائِزًا أَنْ يُقْطِعَ الإِمَامُ لِمَنْ رَأَى ذَلِكَ .
আব্ইয়ায ইবনু হাম্মাল (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি নিজ বংশের প্রতিনিধি হয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে তাদেরকে লবণ খনি প্রদানের উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করেন। তিনি তাকে সেটা দান করেন। তিনি চলে যাওয়ার সময় মজলিসের এক লোক বলেন, আপনি লক্ষ্য করেছেন কি, তাকে কি জায়গীর দিয়েছেন? আপনি প্রস্রবণের অফুরন্ত পানি (প্রচুর লবণ) তাকে প্রদান করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি এটাকে তার নিকট হতে ফিরিয়ে নিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি (আবয়য) ‘আরাক’ গাছের কোন জমি রক্ষিত করা যায় কি, এবিষয়েও তার নিকট জিজ্ঞেস করেন। উটের ক্ষুর যার নাগাল পায় না (অর্থাৎ পশু চারণভূমি ও বসতি এলাকা হতে দূরের জায়গা)।
হাসান, ইবনু মা-জাহ- (২৪৭৫)আবূ ঈসা বলেন, কুতাইবাকে এই হাদীসটি পড়ে শুনালে তিনি তা সমর্থন করেন এবং বলেন, আমার নিকট মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহ্ইয়া ইবনু কাইস আল-মারিবী এরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। মারিব ইয়ামান এলাকার কোন জায়গার নাম। ওয়াইল ও আসমা বিনতু আবূ বাক্র (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবইয়ায (রহঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা গারীব বলেছেন। এ হাদীস মোতাবেক রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর একদল সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণ আমল করেছেন। তারা মনে করেন সরকার যে কোন লোককে জায়গীর দেওয়ার ক্ষেত্রে অধিকার রাখে।
জামে তিরমিযী হাদিস ১৩৮০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো প্রাকৃতিক সম্পদ বরাদ্দে জনস্বার্থ বিবেচনা করা। আবইয়াদ ইবনু হাম্মাল তাঁর গোত্রের প্রতিনিধি হয়ে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে একটি লবণ খনি চান। প্রথমে তাঁকে সেটি দেওয়া হয়। পরে মজলিসের একজন জানান, জায়গাটি সাধারণ খনি নয়; এটি অফুরন্ত ঝরনার পানির মতো বিপুল ও চলমান লবণের উৎস। বিষয়টি বুঝে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সেই বরাদ্দ ফিরিয়ে নেন। এতে দেখা যায়, কোনো সম্পদ সম্পর্কে নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা গেলে আগের সিদ্ধান্ত সংশোধন করা যায়, বিশেষ করে যখন তা অনেক মানুষের প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত। একই বর্ণনায় আরাক গাছের ভূমি সংরক্ষণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে এমন দূরের জায়গার কথা বলা হয়, যেখানে উটের খুর পৌঁছায় না। তাই হাদিসটি সীমাহীন জনসম্পদ ব্যক্তিগত করে দেওয়ার ব্যাপারে সতর্কতা এবং সংরক্ষিত এলাকার যৌক্তিক সীমা নির্ধারণের শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অফুরন্ত প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যক্তিগত বরাদ্দ থেকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
- নতুন তথ্য জানা গেলে আগের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সংশোধন করা যায়।
- জনসাধারণের প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত সম্পদে বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনা করা দরকার।
- চারণভূমি থেকে দূরের আরাক এলাকার সংরক্ষণ সম্পর্কে সীমা বলা হয়েছে।
