১৩/১৫. অধ্যায়ঃ
উমরা (জীবনস্বত্ব) প্রদান
জীবন-স্বত্ব দান ও উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠার নিয়ম
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৩৫০
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৩৫০
حَدَّثَنَا الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا مَعْنٌ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَيُّمَا رَجُلٍ أُعْمِرَ عُمْرَى لَهُ وَلِعَقِبِهِ فَإِنَّهَا لِلَّذِي يُعْطَاهَا لاَ تَرْجِعُ إِلَى الَّذِي أَعْطَاهَا لأَنَّهُ أَعْطَى عَطَاءً وَقَعَتْ فِيهِ الْمَوَارِيثُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَهَكَذَا رَوَى مَعْمَرٌ وَغَيْرُ وَاحِدٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ مِثْلَ رِوَايَةِ مَالِكٍ . وَرَوَى بَعْضُهُمْ عَنِ الزُّهْرِيِّ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ " وَلِعَقِبِهِ " . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ قَالُوا إِذَا قَالَ هِيَ لَكَ حَيَاتَكَ وَلِعَقِبِكَ . فَإِنَّهَا لِمَنْ أُعْمِرَهَا لاَ تَرْجِعُ إِلَى الأَوَّلِ . وَإِذَا لَمْ يَقُلْ لِعَقِبِكَ فَهِيَ رَاجِعَةٌ إِلَى الأَوَّلِ إِذَا مَاتَ الْمُعْمَرُ . وَهُوَ قَوْلُ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَالشَّافِعِيِّ . وَرُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْعُمْرَى جَائِزَةٌ لأَهْلِهَا " . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ قَالُوا إِذَا مَاتَ الْمُعْمَرُ فَهِيَ لِوَرَثَتِهِ وَإِنْ لَمْ تُجْعَلْ لِعَقِبِهِ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ .
জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কোন লোককে জীবন-স্বত্ব প্রদান করা হলে সেটা তার এবং তার উত্তরাধিকারীদের জন্য। যে লোককে তা প্রদান করা হয়েছে উহা তার জন্যই, তা দাতার দিকে ফিরে আসবে না। কেননা সে এমন দান করেছে যার উপর দান গ্রহীতার উত্তরাধিকার স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
সহীহ্, ইবনু মা-জাহ- (২৩৮০), মুসলিমএ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। হাদীসটি মা'মার এবং আরও অনেকে যুহরী হতে মালিকের বর্ণনার মতই বর্ণনা করেছেন। কেহ কেহ যুহরী হতে বর্ণনা করেছেন তবে "ওয়ালিআকিবিহি" (তার উত্তরাধিকারীদের জন্য) শব্দের উল্লেখ নেই। জাবির (রাঃ) হতে একাধিক সূত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণিত হয়েছে তিনি বলেছেন, “জীবন স্বত্ব জায়িয যে লোককে প্রদান করা হয়েছে তার জন্য। এই বর্ণনায় “লিআকিবিহী" শব্দের উল্লেখ নেই। এ হাদীসটি হাসান সহীহ্। এ হাদীস অনুযায়ী একদল আলিম আমল করেন। তারা বলেন, কোন লোক যখন বলে, এটা তোমার জন্য তোমার সারা জীবনের জন্য এবং তোমার পরবর্তীদের জন্য, তখন তা গ্রহীতার মালিকানায় এসে যায়। জীবন-স্বত্ব প্রদানকারীর মালিকানায় তা আর ফিরে যায় না। যদি সে একথা না বলেঃ এটা তোমার পরবর্তীদের জন্যও, তবে এক্ষেত্রে গ্রহীতার মারা যাবার পর তা দাতার মালিকানায় এসে পরবে। এই মত দিয়েছেন ইমাম মালিক ও শাফিঈ। কয়েকটি সূত্রে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ "জীবন-স্বত্ব জায়িয-এটা যে লোককে প্রদান করা হয়েছে তার" । এ বর্ণনায় "লিআকিবিহি" শব্দের উল্লেখ নেই। এ হাদীস অনুযায়ী একদল আলিম আমল করেছেন। তারা বলেছেন, যে লোককে জীবন-স্বত্ব প্রদান করা হয়েছে তার মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকারীগণ এর মালিক হবে, জীবন-স্বত্ব প্রদানকারী- 'এটা তোমার পরবর্তীদের জন্যও' -এ কথা না বলে থাকলেও। সুফিয়ান সাওরী, আহমাদ ও ইসহাকেরও এই অভিমত।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৩৫০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বলা হয়েছে, কাউকে তার এবং তার পরবর্তী উত্তরাধিকারীদের জন্য জীবন-স্বত্ব দেওয়া হলে সেই সম্পদ গ্রহণকারীরই হয়ে যায়। দাতা পরে তা ফেরত নিতে পারবেন না, কারণ তিনি এমন একটি দান করেছেন যার মধ্যে উত্তরাধিকার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সহজভাবে বললে, দানের শব্দ ও শর্ত মালিকানার ফল নির্ধারণ করে। যখন দাতা স্পষ্টভাবে গ্রহণকারী ও তার বংশধরদের জন্য সম্পদ দেন, তখন সেটি শুধু জীবনকালীন ব্যবহার নয়; পরবর্তী উত্তরাধিকারীর কাছেও যায়। হাদিসের পরের আলোচনায় দেখা যায়, ‘বংশধরদের জন্য’ শর্ত বলা হয়েছে কি না—এ নিয়ে আলেমদের ব্যাখ্যায় পার্থক্য ছিল। তাই বাস্তব সম্পদ দানের ক্ষেত্রে স্পষ্ট ভাষা ব্যবহার জরুরি। এই হাদিস দাতাকে তার কথার দায় বুঝতে এবং গ্রহণকারীর প্রতিষ্ঠিত অধিকারকে সম্মান করতে শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গ্রহণকারী ও তার বংশধরদের জন্য দেওয়া জীবন-স্বত্ব ফেরত নেওয়া যায় না।
- দান কার্যকর হলে উত্তরাধিকার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
- সম্পত্তি দানের শর্ত স্পষ্টভাবে বলা গুরুত্বপূর্ণ।
- দাতা নিজের ঘোষিত দানের ফল ও দায় মেনে চলবেন।
