১৩/১৪. অধ্যায়ঃ
একটি গোলামের দুইজন অংশীদারের মধ্যে একজন তার নিজের অংশ মুক্ত করে দিলে
শরীকানা দাস মুক্তি ও ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৩৪৬
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৩৪৬
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَعْتَقَ نَصِيبًا - أَوْ قَالَ شِقْصًا أَوْ قَالَ شِرْكًا لَهُ فِي عَبْدٍ فَكَانَ لَهُ مِنَ الْمَالِ مَا يَبْلُغُ ثَمَنَهُ بِقِيمَةِ الْعَدْلِ فَهُوَ عَتِيقٌ وَإِلاَّ فَقَدْ عَتَقَ مِنْهُ مَا عَتَقَ " . قَالَ أَيُّوبُ وَرُبَّمَا قَالَ نَافِعٌ فِي هَذَا الْحَدِيثِ يَعْنِي فَقَدْ عَتَقَ مِنْهُ مَا عَتَقَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَقَدْ رَوَاهُ سَالِمٌ عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ .
ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ শরীকানা গোলামের মালিকদের কোন মালিক যদি নিজের প্রাপ্য অংশকে মুক্ত করে দেয় এবং তার নিকট গোলামের ন্যায়সংগত মূল্যের সমপরিমাণ সম্পদ থাকে সে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত হয়ে যাবে, অন্যথায় সে যেটুকু পরিমাণ মুক্ত করেছে সেটুকু পরিমাণই স্বাধীন হবে।
সহীহ্, ইবনু মা-জাহ- (২৫২৮), নাসা-ঈআইয়ুব বলেন, নাফি কখনো বলেছেনঃ “অন্যথায় সে যেটুকু পরিমাণ মুক্ত করেছে সেটুকু পরিমাণ মুক্ত হবে"।ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এ হাদীসটি সালিমও তার বাবার সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৩৪৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় শরীকানা মালিকানার দাসকে মুক্ত করার ক্ষেত্রে ন্যায়সঙ্গত দায়িত্ব। কোনো মালিক যদি নিজের অংশ মুক্ত করে দেন এবং তার কাছে দাসটির ন্যায্য মূল্যের সমপরিমাণ সম্পদ থাকে, তাহলে পুরো দাসকে মুক্ত করার ব্যবস্থা হবে। অর্থাৎ শুধু নিজের অংশ মুক্ত করে বাকি অংশ অন্য মালিকের অধীনে রেখে দেওয়া নয়; সামর্থ্য থাকলে ন্যায্য মূল্য পরিশোধ করে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। আর যদি সেই আর্থিক সামর্থ্য না থাকে, তাহলে যতটুকু অংশ মুক্ত করা হয়েছে, ততটুকুই মুক্ত হবে—এটাই বর্ণনায় এসেছে। এখানে ন্যায্য মূল্য, আর্থিক সামর্থ্য এবং অন্য অংশীদারের অধিকার—তিনটি বিষয় একসঙ্গে বিবেচিত হয়েছে। হাদিসটি দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত, ন্যায়ভিত্তিক মূল্যায়ন এবং মুক্তির কাজকে অসম্পূর্ণ না রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নিজের অংশ মুক্ত করলে সামর্থ্য অনুযায়ী পুরো মুক্তির ব্যবস্থা করতে হয়।
- অন্য অংশীদারের অংশের জন্য ন্যায্য মূল্য বিবেচনা করা জরুরি।
- আর্থিক সামর্থ্য না থাকলে মুক্তি দেওয়া অংশটুকুর সীমা মানতে হয়।
- মুক্তির সিদ্ধান্তে স্বাধীনতা ও মালিকানার অধিকার দুটোই বিবেচিত হয়।
