১৩/১৩. অধ্যায়ঃ

সাক্ষীর সাথে সাথে শপথও করানো

এক সাক্ষী ও শপথ: অধিকার রক্ষায় বিচারিক নীতি

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৩৪৫

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَضَى بِالْيَمِينِ مَعَ الشَّاهِدِ الْوَاحِدِ ‏.‏ قَالَ وَقَضَى بِهَا عَلِيٌّ فِيكُمْ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا أَصَحُّ وَهَكَذَا رَوَى سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلاً ‏.‏ وَرَوَى عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ وَيَحْيَى بْنُ سُلَيْمٍ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَلِيٍّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ رَأَوْا أَنَّ الْيَمِينَ مَعَ الشَّاهِدِ الْوَاحِدِ جَائِزٌ فِي الْحُقُوقِ وَالأَمْوَالِ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ وَقَالُوا لاَ يُقْضَى بِالْيَمِينِ مَعَ الشَّاهِدِ الْوَاحِدِ إِلاَّ فِي الْحُقُوقِ وَالأَمْوَالِ ‏.‏ وَلَمْ يَرَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَهْلِ الْكُوفَةِ وَغَيْرِهِمْ أَنْ يُقْضَى بِالْيَمِينِ مَعَ الشَّاهِدِ الْوَاحِدِ ‏.‏

জাফর ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) হতে তার বাবা হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একজন সাক্ষীর সাথে (তাকে) শপথের উপর নির্ভর করে মোকদ্দমার সমাধান করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, তোমাদের মাঝে আলী (রাঃ)-ও এরকমভাবেই মোকদ্দমার সমাধান করেছেন।

সহীহ্‌, দেখুন পূর্বের হাদীসএ সূত্রটিকে আবূ ঈসা অনেক বেশি সহীহ্‌ বলেছেন। একইভাবে এ হাদীসটিকে সুফিয়ান সাওরী-জাফর ইবনু মুহাম্মাদ হতে, তিনি তার বাবার সূত্রে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আবদুল আযীয ইবনু আবূ সালামা ও ইয়াহ্‌ইয়া ইবনু সুলাইম এই হাদীস জাফরের সূত্রে, তার পিতা হতে, আলী (রাঃ)-এর বরাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর একদল সাহাবী ও অন্যান্যদের মতে এ হাদীস অনুযায়ী আমল করতে হবে। তাদের মতে অধিকার ও মাল সম্পর্কিত মোকদ্দমায় একজন সাক্ষী এবং শপথের উপর ভিত্তি করে ফায়সালা দেয়া জায়িয। এই মত দিয়েছেন ইমাম মালিক, শাফিঈ, আহ্‌মাদ ও ইসহাক। তারা বলেছেন, শুধু অধিকার ও মাল সম্পর্কিত ব্যাপারেই একজন সাক্ষীর সাক্ষ্যের সাথে শপথের উপর ভিত্তি করে রায় দেয়া যাবে। শুধু একজন সাক্ষী ও শপথের উপর নির্ভর করে কোন মোকদ্দমার রায় প্রদান করাটা কিছু কূফাবাসী (হানাফী) ও অন্যদের মতে জায়িয নয়।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৩৪৫-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم একজন সাক্ষীর সঙ্গে শপথের ভিত্তিতে মোকদ্দমার সমাধান করেছেন। বর্ণনাকারী আরও জানান, আলী রা.-ও একইভাবে বিচার করেছেন। হাদিসের পরের অংশে দেখা যায়, কিছু আলেম অধিকার ও সম্পদসংক্রান্ত বিষয়ে একজন সাক্ষীর সঙ্গে শপথকে গ্রহণযোগ্য বলেছেন। আবার কিছু আলেম এভাবে রায় দেওয়ার সঙ্গে একমত হননি। তাই এই বর্ণনার মূল শিক্ষা দুটি দিক দেখায়। প্রথমত, সাক্ষী ও শপথের সমন্বয়ে বিচার করার নজির আছে। দ্বিতীয়ত, এর প্রয়োগের ক্ষেত্র নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদও ছিল। সহজভাবে বললে, এটি বিচারিক প্রমাণের একটি পদ্ধতি, তবে কোথায় কীভাবে প্রয়োগ হবে তা দায়িত্বশীল বিচার ও জ্ঞানী সিদ্ধান্তের বিষয়। ব্যক্তিগত বিরোধে নিজে নিজে এই নিয়ম প্রয়োগ না করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে যাওয়া উচিত।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • একজন সাক্ষীর সঙ্গে শপথের ভিত্তিতে রায়ের নজির আছে।
  • আলী রা.-এর বিচারেও একই পদ্ধতির উল্লেখ পাওয়া যায়।
  • এই পদ্ধতির প্রয়োগের পরিধি নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ ছিল।
  • বিচারিক নীতি ব্যক্তিগতভাবে নয়, দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রয়োগ করা উচিত।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন