১৩/৫. অধ্যায়ঃ
বিচারক বাদী ও বিবাদীর জবানবন্দী না শুনে রায় প্রদান করবে না
উভয় পক্ষের কথা শোনা: ন্যায়বিচারের মৌলিক নিয়ম
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৩৩১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৩৩১
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ الْجُعْفِيُّ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ حَنَشٍ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا تَقَاضَى إِلَيْكَ رَجُلاَنِ فَلاَ تَقْضِ لِلأَوَّلِ حَتَّى تَسْمَعَ كَلاَمَ الآخَرِ فَسَوْفَ تَدْرِي كَيْفَ تَقْضِي " . قَالَ عَلِيٌّ فَمَا زِلْتُ قَاضِيًا بَعْدُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ .
আলী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমার নিকট যখন দুইজন লোক বিচারের জন্য আবেদন করে তখন দ্বিতীয় পক্ষের বক্তব্য তুমি সম্পূর্ণভাবে না শুনেই প্রথম পক্ষের কথার উপর নির্ভর করে রায় প্রদান করো না। তুমি খুব শীঘ্রই জানতে পারবে, তুমি কিভাবে ফয়সালা করছ। আলী (রাঃ) বলেন, তারপর আমি বিচারক হিসাবেই রয়ে গেছি।
হাসান, ইরওয়া (২৬০০)এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান বলেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৩৩১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বিচারকার্যের একটি খুব সহজ কিন্তু জরুরি নীতি শেখানো হয়েছে। দুইজন মানুষ কোনো বিরোধ নিয়ে বিচারকের কাছে এলে প্রথম ব্যক্তির বক্তব্য শুনেই সিদ্ধান্ত দেওয়া যাবে না। দ্বিতীয় পক্ষের কথাও সম্পূর্ণ শুনতে হবে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আলী (রাঃ)-কে এই নির্দেশ দেন এবং বলেন, তখন তিনি বুঝতে পারবেন কীভাবে ফয়সালা করতে হয়। এক পক্ষের বক্তব্য পরিষ্কার, আবেগপূর্ণ বা শক্তিশালী মনে হলেও অন্য পক্ষের কাছে এমন তথ্য থাকতে পারে যা পুরো বিষয় বদলে দেয়। তাই ন্যায়বিচারের জন্য ধৈর্য, নিরপেক্ষতা ও পূর্ণ শুনানি দরকার। এই শিক্ষা শুধু আদালতের বিচারকের জন্য নয়; পরিবার, সমাজ বা প্রতিষ্ঠানে বিরোধ মেটানোর ক্ষেত্রেও সরাসরি প্রযোজ্য। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ শুনেই সিদ্ধান্ত না নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য শোনা উচিত। হাদিসটি তাড়াহুড়া, পক্ষপাত এবং একতরফা রায়ের ক্ষতি থেকে বাঁচার পথ দেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- এক পক্ষের কথা শুনে রায় দেওয়া উচিত নয়।
- দ্বিতীয় পক্ষের বক্তব্য সম্পূর্ণ শোনা ন্যায়বিচারের শর্ত।
- শক্তিশালী বক্তব্য সব সময় সত্যের পূর্ণ ছবি নয়।
- বিরোধ মেটাতে ধৈর্য ও নিরপেক্ষতা দরকার।
