১৩/৪. অধ্যায়ঃ
ন্যায়নিষ্ঠ ইমাম (শাসক)
বিচারকের ন্যায়: জুলুম না করলে আল্লাহর সাহায্য
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৩৩০
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৩৩০
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْقُدُّوسِ بْنُ مُحَمَّدٍ أَبُو بَكْرٍ الْعَطَّارُ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا عِمْرَانُ الْقَطَّانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ الشَّيْبَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ مَعَ الْقَاضِي مَا لَمْ يَجُرْ فَإِذَا جَارَ تَخَلَّى عَنْهُ وَلَزِمَهُ الشَّيْطَانُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ عِمْرَانَ الْقَطَّانِ .
ইবনু আবী আওফা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে পর্যন্ত বিচারক কোন প্রকার যুলুম না করে সে পর্যন্ত আল্লাহ তার সহায়তা করেন। সে যে মুহূর্তে কোন প্রকার যুলুম করে ফেলে তখন তিনি তাকে পরিত্যাগ করেন এবং শাইতান তাকে জড়িয়ে ধরে।
হাসান, ইবনু মা-জাহ- (২৩১২)এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। এটি আমরা শুধুমাত্র ইমরান আল-কাত্তানের সূত্রেই জেনেছি।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৩৩০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বিচারকের জন্য একটি স্পষ্ট শর্ত দেওয়া হয়েছে। যতক্ষণ বিচারক জুলুম করে না, ততক্ষণ আল্লাহ তার সহায়তায় থাকেন। কিন্তু যখন সে অন্যায় করে, তখন আল্লাহ তাকে ছেড়ে দেন এবং শয়তান তার সঙ্গে লেগে যায়। মূল শিক্ষা হলো, বিচারকের জন্য আল্লাহর সাহায্য পদ বা পরিচয়ের কারণে নয়; ন্যায়পরায়ণ থাকার সঙ্গে তা যুক্ত। বিচারক যদি পক্ষপাত, ব্যক্তিগত স্বার্থ বা ক্ষমতার প্রভাবে কারও অধিকার নষ্ট করে, তবে সে নিজের সবচেয়ে বড় সহায়তা হারায়। হাদিসটি বিচারকার্যে সতর্কতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও সত্যনিষ্ঠার প্রয়োজন দেখায়। প্রতিটি রায়ের আগে বিচারকের মনে রাখা উচিত, অন্যায় শুধু মানুষের ক্ষতি করে না; এটি তার নিজের আধ্যাত্মিক নিরাপত্তাকেও দুর্বল করে। তাই ইনসাফ বজায় রাখা, উভয় পক্ষের কথা শোনা এবং জুলুমের সব পথ থেকে দূরে থাকা বিচারকের প্রধান দায়িত্ব।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জুলুম থেকে বেঁচে থাকা বিচারকের জন্য আল্লাহর সাহায্যের কারণ।
- অন্যায় বিচার করলে বিচারক সেই সহায়তা হারাতে পারে।
- শয়তানের প্রভাব থেকে বাঁচতে ইনসাফ ও সতর্কতা দরকার।
- বিচারকের পদ নয়, ন্যায়পরায়ণ আচরণই মূল বিষয়।
