১২/৬৯. অধ্যায়ঃ
মুনাবাযা ও মুলামাসা প্রসঙ্গে
মুনাবাযা ও মুলামাসা: পণ্য না দেখে কেনাবেচা নিষিদ্ধ
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৩১০
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৩১০
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، وَمَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ بَيْعِ الْمُنَابَذَةِ وَالْمُلاَمَسَةِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ وَابْنِ عُمَرَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَمَعْنَى هَذَا الْحَدِيثِ أَنْ يَقُولَ إِذَا نَبَذْتُ إِلَيْكَ الشَّىْءَ فَقَدْ وَجَبَ الْبَيْعُ بَيْنِي وَبَيْنَكَ . وَالْمُلاَمَسَةُ أَنْ يَقُولَ إِذَا لَمَسْتَ الشَّىْءَ فَقَدْ وَجَبَ الْبَيْعُ وَإِنْ كَانَ لاَ يَرَى مِنْهُ شَيْئًا مِثْلَ مَا يَكُونُ فِي الْجِرَابِ أَوْ غَيْرِ ذَلِكَ وَإِنَّمَا كَانَ هَذَا مِنْ بُيُوعِ أَهْلِ الْجَاهِلِيَّةِ فَنَهَى عَنْ ذَلِكَ .
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মুনাবাযা ও মুলামাসা প্রকারের বেচা-কেনাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিষিদ্ধ করেছেন।
সহীহ্, বেচা-কেনার হাদীস, নাসা-ঈআবূ সাঈদ ও ইবনু উমার (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদিসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। এ হাদীসের তাৎপর্য এই যে, বিক্রেতা বললঃ আমি যখন তোমার দিকে কিছু নিক্ষেপ করব তখন তোমার ও আমার মাঝে বেচা-কেনা বাধ্যতামূলক হয়ে যাবে। একে বলে মুনাবাযা। মুলামাসার অর্থ হলঃ বিক্রেতা ক্রেতাকে বলল, অমুক জিনিসটি তুমি র্স্পষ করলে বেচা-কেনা করাতা বাধ্যতামূলক হয়ে যাবে, ক্রেতা যদি পণ্যটি না দেখে থাকে তারপরেও, যেমন মোড়কের মধ্যের জিনিস, খাপের মধ্যের তরবারি ইত্যাদি। এটা এক প্রকার বিক্রয় পদ্ধতি যা জাহিলী যুগে করা হতো। এ উভয় প্রকার বিক্রয় পদ্ধতিতে বিক্রয় করতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিষেধ করেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৩১০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) মুনাবাযা ও মুলামাসা পদ্ধতির বেচাকেনা নিষিদ্ধ করেছেন। বর্ণনার ব্যাখ্যায় মুনাবাযা বলতে বোঝানো হয়েছে, বিক্রেতা কোনো বস্তু ক্রেতার দিকে নিক্ষেপ করলেই বিক্রয় চূড়ান্ত হয়ে যাবে। মুলামাসা হলো, ক্রেতা কোনো পণ্য স্পর্শ করলেই তাকে সেটি কিনতে হবে, যদিও সে পণ্যটি ভালোভাবে দেখেনি। যেমন কোনো বস্তু মোড়ক, বস্তা বা আবরণের ভেতরে থাকতে পারে। এ ধরনের বিক্রয়ে ক্রেতা পণ্যের প্রকৃত অবস্থা যাচাই করার সুযোগ পায় না। হাদিসে এগুলোকে জাহিলি যুগের বিক্রয় পদ্ধতি হিসেবে উল্লেখ করে নিষেধ করা হয়েছে। মূল শিক্ষা হলো, শুধু স্পর্শ বা নিক্ষেপকে সম্মতির চূড়ান্ত প্রমাণ বানিয়ে অদেখা পণ্য কেনাবেচা করা উচিত নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পণ্য নিক্ষেপ করামাত্র বিক্রয় চূড়ান্ত করার মুনাবাযা পদ্ধতি নিষিদ্ধ।
- না দেখে শুধু স্পর্শের মাধ্যমে বিক্রয় বাধ্যতামূলক করা যাবে না।
- ক্রেতাকে পণ্য দেখার ও যাচাই করার সুযোগ দিতে হবে।
- অস্পষ্ট ও বিভ্রান্তিকর বিক্রয় পদ্ধতি এড়িয়ে চলতে হবে।
