১২/৬৫. অধ্যায়ঃ

ক্রেতাকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে (নকল ক্রেতা সেজে) দর-দাম করা

নাজাশ নিষিদ্ধ: ভুয়া দরদাম দিয়ে ক্রেতাকে ঠকাবেন না

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৩০৪

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَأَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ قُتَيْبَةُ يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ لاَ تَنَاجَشُوا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَأَنَسٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ ‏.‏ كَرِهُوا النَّجْشَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَالنَّجْشُ أَنْ يَأْتِيَ الرَّجُلُ الَّذِي يَفْصِلُ السِّلْعَةَ إِلَى صَاحِبِ السِّلْعَةِ فَيَسْتَامُ بِأَكْثَرَ مِمَّا تَسْوَى وَذَلِكَ عِنْدَمَا يَحْضُرُهُ الْمُشْتَرِي يُرِيدُ أَنْ يَغْتَرَّ الْمُشْتَرِي بِهِ وَلَيْسَ مِنْ رَأْيِهِ الشِّرَاءُ إِنَّمَا يُرِيدُ أَنْ يَخْدَعَ الْمُشْتَرِيَ بِمَا يَسْتَامُ وَهَذَا ضَرْبٌ مِنَ الْخَدِيعَةِ ‏.‏ قَالَ الشَّافِعِيُّ وَإِنْ نَجَشَ رَجُلٌ فَالنَّاجِشُ آثِمٌ فِيمَا يَصْنَعُ وَالْبَيْعُ جَائِزٌ لأَنَّ الْبَائِعَ غَيْرُ النَّاجِشِ ‏.‏

আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা পরস্পর ‘নাজাশ’ (ক্রেতাকে ঠকানোর জন্য দ্রব্যের দরদাম) করো না।

সহীহ্‌, ইবনু মা-জাহ (২১৭৪), নাসা-ঈইবনু উমার ও আনাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্‌ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ আমল করেছেন। তারা বেচা-কেনার ক্ষেত্রে ‘নাজাশ’ করাকে মাকরূহ বলেছেন। আবূ ঈসা বলেন, নাজাশ বা তানাজুশ-এর অর্থ হলঃ এক লোক বিক্রেতার মালের দেখাশোনা করে এবং সে তার মালের দর-দাম প্রসঙ্গে ওয়াকিফহাল। যখন কোন ক্রেতা বিক্রেতার নিকট এসে মালের দামাদামি করে, তখন সে এসে উপস্থিত হয়। সে নকল ক্রেতার রূপ নিয়ে এসে ক্রেতার চেয়েও বেশি দাম হাঁকে। এখানে ক্রেতাকে ধোঁকায় ফেলে বিক্রেতার মাল বেশি মূল্যে বিক্রয় করাই তার উদ্দেশ্য। ইহা এক প্রকার প্রতারণা। ইমাম শাফিঈ বলেছেন, যে লোক ‘নাজাশ’ করে সে গুনাহ্‌গার হবে কিন্তু আইনগতভাবে বিক্রয়টি হালাল হবে। কেননা, মূল বিক্রেতা প্রতারণা করেনি।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৩০৪-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) নাজাশ করতে নিষেধ করেছেন। বর্ণনার ব্যাখ্যা অনুযায়ী নাজাশ হলো, কোনো ব্যক্তি পণ্য কেনার ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও ক্রেতার সামনে তার দাম বেশি বলে। তার উদ্দেশ্য থাকে প্রকৃত ক্রেতাকে বিভ্রান্ত করা, যেন ক্রেতা মনে করে পণ্যটির বাজারদর বা চাহিদা অনেক বেশি। ফলে ক্রেতা ভুল ধারণায় বেশি দামে পণ্য কিনতে পারে। এটি স্বাভাবিক দরদাম নয়; বরং সাজানো দর ও প্রতারণার একটি রূপ। বর্তমান সময়ে নিলাম, অনলাইন বিক্রয় কিংবা সাধারণ বাজারেও ভুয়া ক্রেতা সাজিয়ে দাম বাড়ানোর ঘটনা নাজাশের সঙ্গে মিলে যায়। হাদিসের সরাসরি শিক্ষা হলো, কেনার সত্যিকারের ইচ্ছা ছাড়া কৃত্রিমভাবে দর বাড়িয়ে কাউকে ঠকানো যাবে না।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কেনার ইচ্ছা ছাড়া শুধু দাম বাড়ানোর জন্য দর বলা নাজাশ।
  • ভুয়া দরদামের মাধ্যমে প্রকৃত ক্রেতাকে বিভ্রান্ত করা নিষিদ্ধ।
  • ব্যবসায় প্রতারণামূলক কৌশল থেকে দূরে থাকতে হবে।
  • দরদামের ক্ষেত্রে নিজের আসল উদ্দেশ্য গোপন করে অন্যকে ঠকানো উচিত নয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন