১২/৩৭. অধ্যায়ঃ
কোন মুসলমানের পক্ষে কোন যিম্মীকে শারাব (মদ) বিক্রয় করতে দেওয়া নিষেধ
মদ নিষিদ্ধ হওয়ার পর এতিমের মদ ঢেলে ফেলার নির্দেশ
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১২৬৩
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১২৬৩
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ، أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنْ أَبِي الْوَدَّاكِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ كَانَ عِنْدَنَا خَمْرٌ لِيَتِيمٍ فَلَمَّا نَزَلَتِ الْمَائِدَةُ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْهُ وَقُلْتُ إِنَّهُ لِيَتِيمٍ . فَقَالَ " أَهْرِيقُوهُ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي سَعِيدٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوُ هَذَا . وَقَالَ بِهَذَا بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ وَكَرِهُوا أَنْ تُتَّخَذَ الْخَمْرُ خَلاًّ وَإِنَّمَا كُرِهَ مِنْ ذَلِكَ وَاللَّهُ أَعْلَمُ أَنْ يَكُونَ الْمُسْلِمُ فِي بَيْتِهِ خَمْرٌ حَتَّى يَصِيرَ خَلاًّ . وَرَخَّصَ بَعْضُهُمْ فِي خَلِّ الْخَمْرِ إِذَا وُجِدَ قَدْ صَارَ خَلاًّ . أَبُو الْوَدَّاكِ اسْمُهُ جَبْرُ بْنُ نَوْفٍ .
আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমাদের নিকট এক এতিম বালকের শরাব ছিল। সূরা মায়িদা (৯০-৯১ আয়াত) অবতীর্ণ হলে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে বললাম, এই মদ এক এতিম বালকের। তিনি বললেনঃ এগুলো ঢেলে ফেলে দাও।
সহীহ্ মিশকাত তাহকীক ছানী (৩৬৪৮), পরবর্তী (১৩১৬) নং হাদীসটি এই হাদীসের সহায়কআবূ ঈসা বলেন, আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। এ হাদীসটি একাধিক সূত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয় সাল্লাম) হতে বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীস অনুযায়ী একদল আলিম মত দিয়েছেন। শারাবকে সিরকাতে পরিবর্তন করাকে তারা মাকরূহ বলেছেন। প্রকৃতপক্ষে মাকরূহ মনে করার কারণ হলঃ শারাব থেকে সিরকা তৈরীর উদ্দেশ্যে একজন মুসলমানের ঘরে শারাব থাকাটা আপত্তিকর মনে হয়। আল্লাহ্ তা’আলাই অধিক ভালো জানেন। শারাব যদি সিরকা অবস্থায় পাওয়া যায় তবে একদল আলিমের মতে এই সিরকা ব্যবহার করা জায়িয। আবূল ওয়াদ্দাকের নাম জুব্র পিতা নাওফ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১২৬৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো মদ নিষিদ্ধ হওয়ার পর করণীয়। বর্ণনাকারীর কাছে একটি এতিম বালকের মদ ছিল। সূরা মায়িদার মদবিষয়ক আয়াত নাজিল হওয়ার পর তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে বিষয়টি জানতে চান। তিনি বিশেষভাবে জানান যে মদটি একজন এতিমের সম্পদ। তবুও রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সেটি ঢেলে ফেলে দিতে বলেন। এতে বোঝা যায়, সম্পদটি এতিমের হওয়া নিষিদ্ধ বস্তু সংরক্ষণের অনুমতি তৈরি করেনি। একই সঙ্গে হাদিসটি দেখায় যে নতুন কোনো দ্বীনি নির্দেশ এলে সাহাবিরা নিজেরা সিদ্ধান্ত না নিয়ে রাসূলুল্লাহর কাছে জিজ্ঞেস করতেন। এখানে এতিমের সম্পদ রক্ষা এবং মদ নিষিদ্ধ হওয়ার নির্দেশ—দুটি বিষয় সামনে এসেছিল। নববী সিদ্ধান্ত ছিল, মদটি রেখে দেওয়া বা ব্যবহার না করে নষ্ট করে দিতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নিষিদ্ধ বস্তু কারও সম্পদ হলেও তা সংরক্ষণের বৈধতা তৈরি হয় না।
- দ্বীনি বিধান বুঝতে না পারলে জ্ঞানীর কাছে প্রশ্ন করা উচিত।
- এতিমের সম্পদের অজুহাতে মদটি রেখে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
