১/৯৩. অধ্যায়ঃ

ইস্তিহাজা (রক্তপ্রদর)

ইস্তিহাযা হলে নামাজ: হায়েজ ও শিরার রক্তের পার্থক্য

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১২৫

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، وَعَبْدَةُ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ جَاءَتْ فَاطِمَةُ بِنْتُ أَبِي حُبَيْشٍ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي امْرَأَةٌ أُسْتَحَاضُ فَلاَ أَطْهُرُ أَفَأَدَعُ الصَّلاَةَ قَالَ ‏"‏ لاَ إِنَّمَا ذَلِكِ عِرْقٌ وَلَيْسَتْ بِالْحَيْضَةِ فَإِذَا أَقْبَلَتِ الْحَيْضَةُ فَدَعِي الصَّلاَةَ وَإِذَا أَدْبَرَتْ فَاغْسِلِي عَنْكِ الدَّمَ وَصَلِّي ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو مُعَاوِيَةَ فِي حَدِيثِهِ وَقَالَ ‏"‏ تَوَضَّئِي لِكُلِّ صَلاَةٍ حَتَّى يَجِيءَ ذَلِكَ الْوَقْتُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ جَاءَتْ فَاطِمَةُ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ ‏.‏ وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَمَالِكٌ وَابْنُ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيُّ أَنَّ الْمُسْتَحَاضَةَ إِذَا جَاوَزَتْ أَيَّامَ أَقْرَائِهَا اغْتَسَلَتْ وَتَوَضَّأَتْ لِكُلِّ صَلاَةٍ ‏.‏

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আবু হুবাইশের কন্যা ফাতিমা (রাঃ) নবী (ﷺ)-এর নিকট এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি একজন ইস্তিহাযার রোগিণী, কখনও পবিত্র হই না। আমি কি নামাজ ছেড়ে দেব? তিনি বললেনঃ “না, এটা একটা শিরার রক্ত, হায়েজ নয়। যখন তোমার হায়েজ শুরু হবে, নামাজ ছেড়ে দেবে। যখন হায়েজের সময়সীমা শেষ হবে, তোমার শরীর হতে রক্ত ধুয়ে ফেলবে (গোসল করে নেবে) এবং নামাজ আদায় করবে।” আবু মুআবিয়া তাঁর বর্ণিত হাদীসে বলেন, তিনি (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)) বললেন, (হায়েজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর) প্রত্যেক নামাজের জন্য ওজু কর (নামাজ আদায় কর), যতক্ষণ পরবর্তী (হায়েজের) সময় না আসে।

সহীহ্। ইবনু মাজাহ-(৬২১), বুখারী ও মুসলিম।এ অনুচ্ছেদে উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর এই হাদীসটি হাসান সহীহ। নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের একাধিক বিশেষজ্ঞ সাহাবা এবং তাবিঈনের এই মত। সুফিয়ান সাওরী, মালিক, ইবনুল মুবারাক ও শাফিঈ বলেন, ইস্তিহাযার রোগিণী হায়িযের সময়সীমা পার হলে গোসল করবে এবং প্রত্যেক নামযের জন্য (নতুন করে) ওযূ করবে।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১২৫-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে ফাতিমা বিনতে আবু হুবাইশ (রাঃ) নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে নিজের অবস্থার কথা জানান। তিনি বলেন, তিনি ইস্তিহাযায় আক্রান্ত এবং কখনও পবিত্র হন না, তাহলে কি নামাজ ছেড়ে দেবেন? নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, না; এটি শিরার রক্ত, হায়েজ নয়। তারপর তিনি নির্দেশ দেন, হায়েজের সময় এলে নামাজ ছেড়ে দেবে, আর হায়েজ শেষ হলে রক্ত ধুয়ে নামাজ পড়বে। বর্ণনায় আরও এসেছে, পরবর্তী হায়েজের সময় না আসা পর্যন্ত প্রত্যেক নামাজের জন্য ওজু করবে। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, ইস্তিহাযা ও হায়েজ এক নয়। সব রক্তের বিধান একই নয়। তাই নারীর ইবাদত বন্ধ হবে কি না, তা সঠিকভাবে জানার দরকার আছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ইস্তিহাযা হায়েজ নয়; দুই অবস্থার বিধান আলাদা।
  • হায়েজের সময়ে নামাজ ছেড়ে দেওয়া হবে, কিন্তু ইস্তিহাযায় নামাজ বন্ধ নয়।
  • হায়েজ শেষ হলে রক্ত ধুয়ে নামাজ আদায় করতে হবে।
  • প্রত্যেক নামাজের জন্য ওজুর নির্দেশ বর্ণনায় এসেছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন