১১/২২. অধ্যায়ঃ
লিআনের বর্ণনা
লিআনের পর সন্তান কার সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে
জামে তিরমিযী : ১২০৩
জামে তিরমিযীহাদিস নম্বর ১২০৩
أَنْبَأَنَا قُتَيْبَةُ، أَنْبَأَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ لاَعَنَ رَجُلٌ امْرَأَتَهُ وَفَرَّقَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَيْنَهُمَا وَأَلْحَقَ الْوَلَدَ بِالأُمِّ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ .
ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক লোক তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে লি‘আন করল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের বিবাহ বন্ধন ছিন্ন করে দেন এবং সন্তানটিকে তার মায়ের সাথে সম্পৃক্ত করেন।
সহীহ্, ইবনু মাজাহ- (২০৬৯), নাসাঈএ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ আলিমগণ আমল করেন।
জামে তিরমিযী হাদিস ১২০৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় লিআনের পরিণতি এবং সন্তানের পরিচয়। এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে লিআন করার পর রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাদের দুজনের বিবাহবন্ধন ছিন্ন করে দেন। একই সঙ্গে তিনি সন্তানটিকে মায়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করেন। বর্ণনাটি সংক্ষিপ্ত হলেও এতে দুটি স্পষ্ট সিদ্ধান্ত রয়েছে। প্রথমত, লিআন শুধু একটি মৌখিক অভিযোগ বা সাধারণ শপথ নয়; এটি দাম্পত্য সম্পর্কের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। দ্বিতীয়ত, এই ঘটনার সন্তানের পরিচয় মায়ের দিকে দেওয়া হয়। তাই লিআনের সন্তানের পরিচয় নিয়ে নিজের মত, অনুমান বা অপবাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। হাদিসে যে সিদ্ধান্ত এসেছে, সেটিই এখানে মূল শিক্ষা। এ ধরনের বিষয় খুব সংবেদনশীল। তাই কারও সম্মান, বংশপরিচয় বা পারিবারিক অবস্থান নিয়ে কথা বলার সময় সতর্ক থাকা এবং নির্ধারিত সিদ্ধান্ত মানা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- লিআন সম্পন্ন হলে স্বামী-স্ত্রীর বিবাহবন্ধন ছিন্ন করা হয়।
- এই ঘটনায় সন্তানকে তার মায়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
- সন্তানের পরিচয় নিয়ে অনুমান বা অপবাদ দেওয়া উচিত নয়।
- গুরুতর পারিবারিক বিষয়ে নির্ধারিত সিদ্ধান্ত মেনে চলা দরকার।
