১০/৭. অধ্যায়ঃ
সধবা মহিলাকে দাসত্বমুক্ত করা হলে
মুগিসের কান্না, তবু বারীরার স্বাধীন সিদ্ধান্ত
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১১৫৬
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১১৫৬
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ أَيُّوبَ، وَقَتَادَةَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ زَوْجَ، بَرِيرَةَ كَانَ عَبْدًا أَسْوَدَ لِبَنِي الْمُغِيرَةِ يَوْمَ أُعْتِقَتْ بَرِيرَةُ وَاللَّهِ لَكَأَنِّي بِهِ فِي طُرُقِ الْمَدِينَةِ وَنَوَاحِيهَا وَإِنَّ دُمُوعَهُ لَتَسِيلُ عَلَى لِحْيَتِهِ يَتَرَضَّاهَا لِتَخْتَارَهُ فَلَمْ تَفْعَلْ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَسَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ هُوَ سَعِيدُ بْنُ مِهْرَانَ وَيُكْنَى أَبَا النَّضْرِ .
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
বারীরাকে গোলাম হতে মুক্তি দেওয়ার সময় তার কৃষ্ণাঙ্গ স্বামী মুগীরা গোত্রের গোলাম ছিল। আল্লাহর শপথ! আমি যেন মদিনার রাস্তায় ও অলিতে-গলিতে তাকে (মুগিসকে) বেড়াতে দেখছি আর তার চোখের পানি তার দাঁড়ি বেয়ে গড়িয়ে পড়ছিল। সে যেন তাকে ফিরিয়ে না দেয় সেই উদ্দেশ্যে বারীরাকে সম্মত করাতে চেষ্টা করছিল। কিন্তু বারীরা তা করেনি।
সহীহ্ বুখারী, মুসলিমএ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। সাঈদের পিতার নাম মাহ্রান এবং তার উপনাম আবুন নাযর।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১১৫৬-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: বারীরার সিদ্ধান্ত। ইবনু আব্বাস রাঃ বলেন, বারীরা মুক্ত হওয়ার সময় তাঁর স্বামী মুগিস ছিলেন বনু মুগীরার একজন কৃষ্ণাঙ্গ দাস। মুগিস বারীরাকে ফিরে পাওয়ার আশায় মদিনার পথ ও অলিগলিতে ঘুরতেন। তাঁর চোখের পানি দাড়ি বেয়ে পড়ত এবং তিনি বারীরাকে নিজের দিকে ফেরানোর চেষ্টা করতেন। কিন্তু বারীরা তাঁকে বেছে নেননি। এই হাদিসে একদিকে মুগিসের গভীর আবেগ ও কষ্ট দেখা যায়, অন্যদিকে বারীরার সিদ্ধান্তও স্পষ্ট থাকে। মুগিসের কান্না ও অনুরোধের পরও বারীরা নিজের পছন্দ পরিবর্তন করেননি। বর্ণনাটি আগের হাদিসে বারীরাকে দেওয়া পছন্দের অধিকার কীভাবে বাস্তবে প্রয়োগ হয়েছিল, তা দেখায়। এখানে মুগিসের অনুভূতি বর্ণিত হয়েছে, আবার বারীরার সিদ্ধান্তও অপরিবর্তিত ছিল। তাই অন্যের অনুভূতি বুঝলেও তার সিদ্ধান্তকে সম্মান করার শিক্ষা পাওয়া যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুগিস বারীরাকে ফিরে পেতে গভীরভাবে অনুরোধ করেছিলেন।
- বারীরা নিজের পছন্দ অনুযায়ী তাঁকে গ্রহণ করেননি।
- কারও আবেগ অন্য ব্যক্তির সিদ্ধান্তকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বদলে দেয় না।
