৯/৩৩. অধ্যায়ঃ
কোন লোক তার দশজন স্ত্রী থাকাবস্থায় মুসলমান হলে
ইসলামে চার স্ত্রী: গাইলান ইবন সালামার ঘটনার শিক্ষা
জামে তিরমিযী : ১১২৮
জামে তিরমিযীহাদিস নম্বর ১১২৮
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ غَيْلاَنَ بْنَ سَلَمَةَ الثَّقَفِيَّ، أَسْلَمَ وَلَهُ عَشْرُ نِسْوَةٍ فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَأَسْلَمْنَ مَعَهُ فَأَمَرَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَتَخَيَّرَ أَرْبَعًا مِنْهُنَّ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَكَذَا رَوَاهُ مَعْمَرٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ . قَالَ وَسَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ يَقُولُ هَذَا حَدِيثٌ غَيْرُ مَحْفُوظٍ وَالصَّحِيحُ مَا رَوَى شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ وَغَيْرُهُ عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ حُدِّثْتُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سُوَيْدٍ الثَّقَفِيِّ أَنَّ غَيْلاَنَ بْنَ سَلَمَةَ أَسْلَمَ وَعِنْدَهُ عَشْرُ نِسْوَةٍ . قَالَ مُحَمَّدٌ وَإِنَّمَا حَدِيثُ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَجُلاً مِنْ ثَقِيفٍ طَلَّقَ نِسَاءَهُ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ لَتُرَاجِعَنَّ نِسَاءَكَ أَوْ لأَرْجُمَنَّ قَبْرَكَ كَمَا رُجِمَ قَبْرُ أَبِي رِغَالٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَالْعَمَلُ عَلَى حَدِيثِ غَيْلاَنَ بْنِ سَلَمَةَ عِنْدَ أَصْحَابِنَا مِنْهُمُ الشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ .
ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যে সময়ে গাইলান ইবন সালামা আস-সাকাফি ইসলাম গ্রহণ করেন সে সময়ে তার দশজন স্ত্রী ছিল, যাদের তিনি বিয়ে করেছিলেন জাহিলি যুগে। তার সাথে সাথে তারাও মুসলিম হয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে এদের মধ্যে যেকোন চারজনকে বেছে নেয়ার নির্দেশ দেন।
সহীহ্, ইবনু মা-জাহ (১৯৫৩)আবু ঈসা বলেন, মামার-যুহ্রী হতে, তিনি সলিমের পিতার সূত্রেও একইরকম বর্ণনা করেছেন। তিনি আরও বলেনঃ আমি ইমাম বুখারীকে বলতে শুনেছি, এ হাদীসটি সুরক্ষিত নয়। যুহরী হতে শুআইব ইবনু আবু হামযা ও অন্যান্যদের বর্ণিত রিওয়ায়াতটিই সহীহ্। ইমাম বুখারী বলেন, আমি এ হাদীসটি মুহাম্মাদ ইবনু সুওয়াইদ সাকাফী হতে পেয়েছি। এতে আছে, গাইলান ইবনু সালামা ইসলাম গ্রহণ করলেন, সে সময় তার দশজন স্ত্রী ছিল। এই বর্ণনাটিই সহীহ্। ইমাম বুখারী আরো বলেন, যুহরী সলিমের সূত্রে, তিনি তার পিতার সূত্রে যে হাদীস বর্ণনা করেছেন তা হলঃ “সাকীফ গোত্রের কোন এক লোক তার স্ত্রীদের তালাক প্রদান করলো। উমার (রাঃ) তাকে বললেন, পুনরায় তোমার স্ত্রীদেরকে তুমি ফিরিয়ে আনবে। অন্যথায় (সামূদ জাতির এক অভিশপ্ত ব্যক্তি) যেভাবে আবূ রিগালের কবরে পাথর মারা হয়েছিল, সেভাবে আমিও তোমার কবরে পাথর মরব।" আবূ ঈসা বলেন, আমাদের সাধীদের মতে, গাইলান ইবনু সালামার হাদীস অনুসারে আমল করতে হবে। তাদের মধ্যে ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকও অন্তর্ভুক্ত।
জামে তিরমিযী হাদিস ১১২৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে গাইলান ইবন সালামা আস-সাকাফির ইসলাম গ্রহণের ঘটনা এসেছে। জাহিলি যুগে তার দশজন স্ত্রী ছিল। তিনি ইসলাম গ্রহণ করলে তার স্ত্রীরাও মুসলিম হন। তখন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাকে দশজনের মধ্যে যেকোনো চারজনকে বেছে নিতে নির্দেশ দেন। হাদিসটির মূল বিষয় হলো, ইসলাম গ্রহণের পর আগের বৈবাহিক অবস্থাকে ইসলামের নির্ধারিত সীমার সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া। এখানে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাকে সব সম্পর্ক আগের মতো রাখতে বলেননি; বরং চারজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ হতে বলেছেন। তবে হাদিসে কাকে বেছে নিতে হবে বা কীভাবে পছন্দ করতে হবে, তার বিস্তারিত নেই। তাই সেই বিষয়ে বাড়তি কথা যোগ করা ঠিক নয়। সহজ শিক্ষা হলো, নতুনভাবে ইসলাম মানতে শুরু করলে আগের প্রচলিত সম্পর্ক বা অভ্যাসও ইসলামের নির্দেশ অনুযায়ী সংশোধন করতে হয়। ব্যক্তিগত ইতিহাস নয়, নববী নির্দেশই চূড়ান্ত মানদণ্ড।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দশ স্ত্রীর মধ্যে চারজনকে বেছে রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
- ইসলাম গ্রহণের পর আগের বৈবাহিক অবস্থা সংশোধন করতে হয়।
- হাদিসে চারজনের সীমা স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
- যে বিষয়ে পাঠ্যে বিস্তারিত নেই, সেখানে অনুমান যোগ করা উচিত নয়।
