৯/৩১. অধ্যায়ঃ
কোন মহিলাকে তার ফুফু অথবা খালার সতীন হিসেবে বিয়ে করা বৈধ নয়
একসঙ্গে দুই বোন, ফুফু-ভাতিজি ও খালা-ভাগনিকে বিয়ে নিষিদ্ধ
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১১২৬
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১১২৬
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَنْبَأَنَا دَاوُدُ بْنُ أَبِي هِنْدٍ، حَدَّثَنَا عَامِرٌ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى أَنْ تُنْكَحَ الْمَرْأَةُ عَلَى عَمَّتِهَا أَوِ الْعَمَّةُ عَلَى ابْنَةِ أَخِيهَا أَوِ الْمَرْأَةُ عَلَى خَالَتِهَا أَوِ الْخَالَةُ عَلَى بِنْتِ أُخْتِهَا لاَ تُنْكَحُ الصُّغْرَى عَلَى الْكُبْرَى وَلاَ الْكُبْرَى عَلَى الصُّغْرَى . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ عَامَّةِ أَهْلِ الْعِلْمِ لاَ نَعْلَمُ بَيْنَهُمُ اخْتِلاَفًا أَنَّهُ لاَ يَحِلُّ لِلرَّجُلِ أَنْ يَجْمَعَ بَيْنَ الْمَرْأَةِ وَعَمَّتِهَا أَوْ خَالَتِهَا فَإِنْ نَكَحَ امْرَأَةً عَلَى عَمَّتِهَا أَوْ خَالَتِهَا أَوِ الْعَمَّةَ عَلَى بِنْتِ أَخِيهَا فَنِكَاحُ الأُخْرَى مِنْهُمَا مَفْسُوخٌ . وَبِهِ يَقُولُ عَامَّةُ أَهْلِ الْعِلْمِ . قَالَ أَبُو عِيسَى أَدْرَكَ الشَّعْبِيُّ أَبَا هُرَيْرَةَ وَرَوَى عَنْهُ . وَسَأَلْتُ مُحَمَّدًا عَنْ هَذَا فَقَالَ صَحِيحٌ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَرَوَى الشَّعْبِيُّ عَنْ رَجُلٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ .
আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
কোন মহিলাকে তার ফুফুর সাথে অথবা ফুফুকে তার ভাইয়ের মেয়ের সাথে অথবা কোন মহিলাকে তার খালার সাথে অথবা খালাকে তার বোনের মেয়ের সাথে এবং ছোট বোনের সাথে বড় বোনকে এবং বড় বোনের সাথে ছোট বোনকে একত্রে (সতীনরূপে) বিয়ে করতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বারণ করেছেন।
সহীহ, ইরওয়া (৬/২৮৯), সহীহ্ আবু দাউদ (১৮০২)ইবনু আব্বাস ও আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসদ্বয়কে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী সকল বিশেষজ্ঞ আলিম আমল করার কথা বলেছেন। কোন মহিলাকে তার ফুফু অথবা খালার সাথে একত্রে (সতীনরূপে) বিয়ে করা যে বৈধ নয় তাদের মধ্যে এই ব্যাপারে কোন মত পার্থক্য নেই। কোন মহিলাকে যদি কোন ব্যক্তি তার খালা অথবা ফুফুর সাথে একত্রে বিয়ে করে তবে পরের বিয়েটি বাতিল হয়ে যাবে। সকল আলিমই এ কথা বলেছেন। আবু ঈসা বলেন, আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর দেখা পেয়েছেন শাবি (রহঃ) এবং তার নিকট হতে হাদীসও বর্ণনা করেছেন। আমি ইমাম বুখারীকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি এর সত্যতা স্বীকার করেন। শাবী এক রাবীর মধ্যস্থতায়ও আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১১২৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একই সময়ে ঘনিষ্ঠ নারী আত্মীয়দের স্ত্রী হিসেবে একত্র করার নিষেধ বিস্তারিতভাবে এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) কোনো নারীকে তার ফুফুর সঙ্গে, ফুফুকে তার ভাইয়ের মেয়ের সঙ্গে, কোনো নারীকে তার খালার সঙ্গে এবং খালাকে তার বোনের মেয়ের সঙ্গে বিয়ে করতে নিষেধ করেছেন। একইভাবে ছোট বোনের সঙ্গে বড় বোন এবং বড় বোনের সঙ্গে ছোট বোনকে একত্র করতেও বারণ করেছেন। হাদিসটির মূল বিষয় হলো “একত্রে” বিয়ে করা। এখানে যে সম্পর্কগুলোর কথা বলা হয়েছে, সেগুলো মনোযোগ দিয়ে আলাদা আলাদা বুঝতে হবে। এটি সাধারণ কোনো অস্পষ্ট বক্তব্য নয়; নির্দিষ্ট আত্মীয়তার জুটি উল্লেখ করা হয়েছে। বিয়ের সিদ্ধান্তে আবেগ বা সুবিধার চেয়ে নববী সীমা মানা জরুরি। পরিবারে কার সঙ্গে কার সম্পর্ক কী, তা যাচাই না করে বিয়ের চুক্তিতে যাওয়া উচিত নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দুই বোনকে একই সময়ে স্ত্রী হিসেবে রাখা নিষিদ্ধ।
- নারী ও তার ফুফু বা ভাতিজিকে একত্র করা নিষিদ্ধ।
- নারী ও তার খালা বা ভাগনিকে একত্র করা নিষিদ্ধ।
- বিয়ের আগে আত্মীয়তার সম্পর্ক নিশ্চিত করা দরকার।
