৯/১৯. অধ্যায়ঃ
জোরপূর্বক ইয়াতীম মেয়েকে বিয়ে দেওয়া
ইয়াতিম কুমারীর বিয়েতে মতামত: অস্বীকৃতির পর জোর নয়
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১১০৯
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১১০৯
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْيَتِيمَةُ تُسْتَأْمَرُ فِي نَفْسِهَا فَإِنْ صَمَتَتْ فَهُوَ إِذْنُهَا وَإِنْ أَبَتْ فَلاَ جَوَازَ عَلَيْهَا " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي مُوسَى وَابْنِ عُمَرَ وَعَائِشَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي تَزْوِيجِ الْيَتِيمَةِ فَرَأَى بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّ الْيَتِيمَةَ إِذَا زُوِّجَتْ فَالنِّكَاحُ مَوْقُوفٌ حَتَّى تَبْلُغَ فَإِذَا بَلَغَتْ فَلَهَا الْخِيَارُ فِي إِجَازَةِ النِّكَاحِ أَوْ فَسْخِهِ . وَهُوَ قَوْلُ بَعْضِ التَّابِعِينَ وَغَيْرِهِمْ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ لاَ يَجُوزُ نِكَاحُ الْيَتِيمَةِ حَتَّى تَبْلُغَ . وَلاَ يَجُوزُ الْخِيَارُ فِي النِّكَاحِ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَالشَّافِعِيِّ وَغَيْرِهِمَا مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ . وَقَالَ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ إِذَا بَلَغَتِ الْيَتِيمَةُ تِسْعَ سِنِينَ فَزُوِّجَتْ فَرَضِيَتْ فَالنِّكَاحُ جَائِزٌ وَلاَ خِيَارَ لَهَا إِذَا أَدْرَكَتْ . وَاحْتَجَّا بِحَدِيثِ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بَنَى بِهَا وَهِيَ بِنْتُ تِسْعِ سِنِينَ . وَقَدْ قَالَتْ عَائِشَةُ إِذَا بَلَغَتِ الْجَارِيَةُ تِسْعَ سِنِينَ فَهِيَ امْرَأَةٌ .
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ইয়াতিম কুমারীর (বিয়ের) ব্যাপারে তার নিজের মত নিতে হবে। সে চুপ থাকলে তবে এটাই তার সম্মতি গণ্য হয়ে যাবে। সে সরাসরি অস্বীকার করলে তবে তার উপর জোর খাটানো যাবে না।
হাসান সহীহ, ইরওয়া (১৮৩৪), সহীহ আবু দাউদ (১৮২৫)আবূ মূসা, আইশা ও ইবনু উমর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান বলেছেন। আলিমদের মধ্যে ইয়াতীম মেয়ের বিয়ের ব্যাপারে মতবিরোধ আছে। একদল আলিমের মতানুযায়ী ইয়াতীম মেয়েকে বিয়ে দিলে সে বালেগ না হওয়া পর্যন্ত তা স্থগিত থাকবে। বলেগ হওয়ার পর সে চাইলে এ বিয়ে বহাল রাখতে পারে অথবা নাকচও করে দিতে পারে। এই মত দিয়েছেন একদল তাবিদ ও অপরাপর আলিম। আর একদল আলিম বলেছেন, বালেগ না হওয়া পর্যন্ত ইয়াতীম মেয়ের বিয়ে দেয়া যাবে না। কেননা, বিয়ের ক্ষেত্রে ইখতিয়ার জায়িয নেই। এই মত দিয়েছেন সুফিয়ান সাওরী, শাফিদ ও অপরাপর আলিম। আহমাদ ও ইসহাক বলেছেন, নয় বছরে পদার্পণ করার পর ইয়াতীম বালিকাকে বিয়ে দেয়া হলে এবং সে এতে রাজী থাকলে তা জায়িষ হবে। বিয়ে বহাল রাখা বা ভেঙ্গে দেয়ার ক্ষেত্রে বালেগ হওয়ার পর তার কোন কর্তৃত্ব থাকবে না। আইশা (রাঃ)-এর বিষয়কে তারা দলীল হিসাবে নিয়েছেন। আইশা (রাঃ)-কে নিয়ে তাঁর নয় বছর বয়সে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাসর যাপন করেছেন। আইশ (রাঃ) বলেছেন, কোন বালিকা নয় বছরে পদার্পণ করলে সে মহিলা বলে গণ্য হবে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১১০৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইয়াতিম কুমারীর বিয়ের বিষয়ে তার নিজের মত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সে যদি মত চাওয়ার পর চুপ থাকে, সেই নীরবতাকে সম্মতি হিসেবে ধরা হবে। কিন্তু সে যদি সরাসরি অস্বীকার করে, তাহলে তার ওপর বিয়ে চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। বর্ণনাটি বিশেষভাবে এমন এক মেয়ের অধিকার রক্ষা করছে, যার পিতা নেই এবং যে সহজে পারিবারিক চাপের মুখে পড়তে পারে। তার দুর্বল অবস্থাকে ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুমতি এখানে নেই। অভিভাবক বা দায়িত্বশীল ব্যক্তি তার ভালো চাইলেও মেয়ের স্পষ্ট অস্বীকৃতি উপেক্ষা করতে পারেন না। হাদিসটির মূল শিক্ষা হলো, ইয়াতিম মেয়ের মত, সম্মতি এবং প্রত্যাখ্যান—সবকিছুকে গুরুত্ব দিয়ে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এভাবে তার সম্মান ও সিদ্ধান্তের অধিকার রক্ষা পায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইয়াতিম কুমারীর বিয়ের আগে তার মত নিতে হবে।
- মত চাওয়ার পর নীরবতা সম্মতি হিসেবে গণ্য হতে পারে।
- স্পষ্ট অস্বীকৃতির পর তার ওপর বিয়ে চাপানো যাবে না।
- দুর্বল অবস্থায় থাকা মেয়ের অধিকার আরও যত্নে রক্ষা করা দরকার।
