৯/১৮. অধ্যায়ঃ
বিয়ের ব্যাপারে কুমারী (বিকর) ও অকুমারী (সায়্যিব) অনুমতি নেওয়া
বিয়েতে নারীর সম্মতি: বিবাহিতার মত ও কুমারীর নীরব অনুমতি
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১১০৭
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১১০৭
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تُنْكَحُ الثَّيِّبُ حَتَّى تُسْتَأْمَرَ وَلاَ تُنْكَحُ الْبِكْرُ حَتَّى تُسْتَأْذَنَ وَإِذْنُهَا الصُّمُوتُ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عُمَرَ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَعَائِشَةَ وَالْعُرْسِ بْنِ عَمِيرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّ الثَّيِّبَ لاَ تُزَوَّجُ حَتَّى تُسْتَأْمَرَ وَإِنْ زَوَّجَهَا الأَبُ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَسْتَأْمِرَهَا فَكَرِهَتْ ذَلِكَ فَالنِّكَاحُ مَفْسُوخٌ عِنْدَ عَامَّةِ أَهْلِ الْعِلْمِ . وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي تَزْوِيجِ الأَبْكَارِ إِذَا زَوَّجَهُنَّ الآبَاءُ فَرَأَى أَكْثَرُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَهْلِ الْكُوفَةِ وَغَيْرِهِمْ أَنَّ الأَبَ إِذَا زَوَّجَ الْبِكْرَ وَهِيَ بَالِغَةٌ بِغَيْرِ أَمْرِهَا فَلَمْ تَرْضَ بِتَزْوِيجِ الأَبِ فَالنِّكَاحُ مَفْسُوخٌ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْمَدِينَةِ تَزْوِيجُ الأَبِ عَلَى الْبِكْرِ جَائِزٌ وَإِنْ كَرِهَتْ ذَلِكَ . وَهُوَ قَوْلُ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ .
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: প্রাপ্তবয়স্কা (সায়্যিব) নারীকে তার সুস্পষ্ট অনুমতি ব্যতীত বিয়ে দেয়া যাবে না। কুমারী মেয়েকে তার অনুমতি ব্যতীত বিয়ে দেয়া যাবে না। নীরবতাই তার অনুমতি।
সহীহ্, ইবনু মা-জাহ (১৮৭১), বুখারী ও মুসলিমউমার, ইবনু আব্বাস, আইশা ও উরস ইবনু উমাইরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ আমল করেছেন। তাদের মতে, প্রাপ্তবয়স্কা (সায়্যিব) নারীকে তার সুস্পষ্ট অনুমতি ব্যতীত বিয়ে দেয়া যাবে না। তার পিতা যদি তার প্রকাশ্য অনুমতি ব্যতীত তাকে বিয়ে দেয় এবং সে মেয়ে যদি এ বিয়ে পছন্দ না করে তাহলে সকল আলিমের মত অনুযায়ী তা বাতিল বলে গণ্য হবে। পিতা কর্তৃক কুমারী মেয়েকে তার অনুমতি ব্যতীত বিয়ে করানোর বিষয়ে আলিমদের মধ্যে মত পার্থক্য আছে। যদি প্রাপ্তবয়স্কা কুমারী মেয়েকে তার পিতা তার অনুমতি ব্যতীত বিয়ে দেয় এবং এ বিয়ে যদি সে অপছন্দ করে, তবে কুফার বেশিরভাগ আলিমের মতে বিয়ে বাতিল বলে গণ্য হবে। মদীনার একদল আলিমের মতে, যদি পিতা তাকে বিয়ে দেয় এবং তা যদি সে পছন্দ না করে তবুও এ বিয়ে জায়িয হবে। এই মত দিয়েছেন ইমাম মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১১০৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বিয়েতে নারীর সম্মতির বিষয়টি খুব পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে। পূর্বে বিবাহিত নারীকে তার স্পষ্ট মত না নিয়ে বিয়ে দেওয়া যাবে না। কুমারী মেয়েকেও অনুমতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না। তার লজ্জা বা সংকোচের কারণে সে সরাসরি কথা না বললে নীরবতাকে সম্মতি হিসেবে ধরা হবে। তবে এই নীরবতা তখনই সম্মতি, যখন তার কাছে মত চাওয়া হয়েছে এবং সে আপত্তি জানায়নি। হাদিসটি দেখায়, অভিভাবকের ভূমিকা থাকলেও নারীর নিজের মতকে বাদ দেওয়া যায় না। বিয়ে তার জীবনের বড় সিদ্ধান্ত, তাই তার পছন্দ ও সম্মতি জানতে হবে। জোর, চাপ বা তার মত উপেক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হাদিসের সরাসরি শিক্ষার সঙ্গে মিল রাখে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পূর্বে বিবাহিত নারীর স্পষ্ট সম্মতি নিতে হবে।
- কুমারী মেয়েকেও বিয়ের আগে অনুমতি জিজ্ঞেস করতে হবে।
- মত চাওয়ার পর কুমারীর নীরবতাকে সম্মতি ধরা যায়।
- অভিভাবকের সিদ্ধান্ত নারীর মতকে বাতিল করে না।
