৮/৭১. অধ্যায়ঃ
বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে সান্ত্বনা দেয়ার সওয়াব
বিপদগ্রস্তকে সমবেদনা: দুঃখে পাশে থাকার সওয়াব
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১০৭৩
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১০৭৩
حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَاصِمٍ، قَالَ حَدَّثَنَا وَاللَّهِ، مُحَمَّدُ بْنُ سُوقَةَ عَنْ إِبَرْاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ عَزَّى مُصَابًا فَلَهُ مِثْلُ أَجْرِهِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ مَرْفُوعًا إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ عَلِيِّ بْنِ عَاصِمٍ . وَرَوَى بَعْضُهُمْ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سُوقَةَ بِهَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَهُ مَوْقُوفًا وَلَمْ يَرْفَعْهُ . وَيُقَالُ أَكْثَرُ مَا ابْتُلِيَ بِهِ عَلِيُّ بْنُ عَاصِمٍ بِهَذَا الْحَدِيثِ نَقَمُوا عَلَيْهِ .
আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে লোক দুর্ঘটনাগ্রস্ত ব্যক্তির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে, তাকেও দুর্ঘটনাগ্রস্তের সমান বদলা দেয়।
যঈফ, ইবনু মাজাহ (১৬০২)আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। শুধু আলী ইবনু আসিমের সূত্রেই আমরা হাদীসটি মারফূ হিসেবে জেনেছি। কিছু রাবী মুহাম্মাদ ইবনু সূকার সূত্রে এটা মাওকূফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, মারফূ হিসেবে নয়। কথিত আছে যে, আলী ইবনু আসিম এই হাদীসের জন্যে সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন। মুহাদ্দিসগণ তাকে দোষারোপ করেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১০৭৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো বিপদগ্রস্ত মানুষের প্রতি সমবেদনা জানানো। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো বিপদগ্রস্ত মানুষকে সান্ত্বনা দেয়, তার জন্য বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির সমান সওয়াব রয়েছে। এখানে সমবেদনা শুধু আনুষ্ঠানিক কথা নয়; একজন কষ্ট পাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তার দুঃখ বুঝে কথা বলা এবং তাকে একা না রাখার মানসিকতা বোঝায়। তবে হাদিসে আর্থিক সাহায্য, নির্দিষ্ট বাক্য বা নির্দিষ্ট সময়ের বিস্তারিত নেই, তাই ব্যাখ্যায় সেগুলো বাধ্যতামূলক হিসেবে যোগ করা উচিত নয়। সরাসরি শিক্ষা হলো, অন্যের শোক বা বিপদকে উপেক্ষা না করে সহমর্মিতা দেখানো আল্লাহর কাছে মূল্যবান কাজ। সান্ত্বনা দেওয়ার সময় অতিরঞ্জিত প্রতিশ্রুতি না দিয়ে, নরম ভাষায় ধৈর্য ও আশার কথা বলা এই শিক্ষার সঙ্গে মানানসই।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিপদগ্রস্ত মানুষকে সান্ত্বনা দেওয়া সওয়াবের কাজ।
- সমবেদনা মানে কষ্ট পাওয়া মানুষকে একা না রাখা।
- দুঃখের সময় নরম ও সহানুভূতিশীল ভাষা ব্যবহার করা উচিত।
- সান্ত্বনা দিতে গিয়ে ভিত্তিহীন প্রতিশ্রুতি বা কঠিন কথা বলা ঠিক নয়।
