৮/৬১. অধ্যায়ঃ
(মৃত ব্যক্তিকে মৃত্যু স্থলে কবর দেয়া প্রসঙ্গে)
আয়িশা (রাঃ)-এর ভাইয়ের কবর জিয়ারত ও শোকের কথা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১০৫৫
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১০৫৫
حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، قَالَ تُوُفِّيَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ بِحُبْشِيٍّ . قَالَ فَحُمِلَ إِلَى مَكَّةَ فَدُفِنَ فِيهَا فَلَمَّا قَدِمَتْ عَائِشَةُ أَتَتْ قَبْرَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ فَقَالَتْ وَكُنَّا كَنَدْمَانَىْ جَذِيمَةَ حِقْبَةً مِنَ الدَّهْرِ حَتَّى قِيلَ لَنْ يَتَصَدَّعَا فَلَمَّا تَفَرَّقْنَا كَأَنِّي وَمَالِكًا لِطُولِ اجْتِمَاعٍ لَمْ نَبِتْ لَيْلَةً مَعَا ثُمَّ قَالَتْ وَاللَّهِ لَوْ حَضَرْتُكَ مَا دُفِنْتَ إِلاَّ حَيْثُ مُتَّ وَلَوْ شَهِدْتُكَ مَا زُرْتُكَ .
আবদুল্লাহ ইবনু আবূ মুলাইকা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবদুর রহমান ইবন আবু বকর (রাঃ) 'হুবশী' নামক স্থানে মারা গেলেন। পরে তাকে মক্কায় এনে এখানে কবর দেয়া হল। আয়িশা (রাঃ) মক্কায় এসে (ভাই) আবদুর রহমান ইবন আবু বকরের কবর যিয়ারাতে গেলেন। তিনি কবরের পাশে দাঁড়িয়ে নিম্নোক্ত কবিতা আবৃত্তি করেনঃ “আমরা দুজন জাযীমার দুই সহচর দীর্ঘকাল কাটিয়েছি একসাথে এমনকি বলা হত আমরা কখনো বিচ্ছিন্ন হব না কিন্তু যখন পৃথক হলাম আমি মালিকের থেকে মনে হচ্ছে এক রাতও কাটাইনি একসাথে।” তারপর তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! আমি যদি হাজির থাকতাম তবে আপনার মৃত্যুর জায়গাতেই আপনাকে দাফন করা হত। আমি যদি আপনার দাফনের সময় হাজির থাকতাম, তবে আমি আপনার কবর যিয়ারাতে আসতাম না।
যঈফ, মিশকাত (১৭১৮)
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১০৫৫-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আয়িশা (রাঃ)-এর ভাই আবদুর রহমান ইবনু আবু বকর (রাঃ)-এর মৃত্যু ও কবর জিয়ারতের ঘটনা এসেছে। তিনি হুবশী নামক স্থানে মারা যান, পরে তাঁকে মক্কায় এনে দাফন করা হয়। আয়িশা (রাঃ) মক্কায় এসে ভাইয়ের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বিচ্ছেদের অনুভূতি প্রকাশ করে কবিতা পড়েন। এরপর বলেন, তিনি উপস্থিত থাকলে মৃত্যুর স্থানেই দাফন করতেন; আর দাফনের সময় উপস্থিত থাকলে পরে কবর জিয়ারতে আসতেন না। হাদিসটি মূলত ব্যক্তিগত শোক, ভাইবোনের সম্পর্ক এবং দাফনের স্থানের বিষয়ে তাঁর অনুভূতি তুলে ধরে। এটিকে সাধারণ সবার জন্য বাধ্যতামূলক নিয়ম হিসেবে বলা হয়নি। বর্ণনার কবিতার অংশটি তাঁর মনের কষ্ট প্রকাশ করে, কিন্তু তা কোনো নতুন ইবাদত বা নিয়ম প্রতিষ্ঠার বক্তব্য নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আয়িশা (রাঃ) তাঁর ভাইয়ের কবর জিয়ারত করেছিলেন।
- বর্ণনায় ভাইবোনের বিচ্ছেদের গভীর কষ্ট প্রকাশ পেয়েছে।
- তিনি মৃত্যুর স্থানেই দাফনের ইচ্ছার কথা বলেছেন।
- ব্যক্তিগত বক্তব্যকে সাধারণ বাধ্যতামূলক বিধান বানানো উচিত নয়।
