২/২৮. অধ্যায়ঃ
ঋতু সম্পর্কীয় বিবিধ হুকুম
হায়েয অবস্থায় চুল আঁচড়ানো: আয়েশা রাঃ-এর সহজ শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৩২
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৩২
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهَا قَالَتْ كُنْتُ أُرَجِّلُ رَأْسَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا حَائِضٌ.
আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শির (মুবারক)-এ চিরুনি করতাম, অথচ তখন আমি ছিলাম ঋতুমতী। (সহীহ, বুখারী ২৯৫)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৩২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়েশা (রাঃ) বলেন, তিনি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাথায় চিরুনি করতেন, অথচ তিনি তখন ঋতুমতী ছিলেন। এই ছোট বর্ণনাটি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি ভুল ধারণা দূর করে। হায়েয অবস্থায় নারীকে সম্পূর্ণভাবে আলাদা বা স্পর্শ অযোগ্য ভাবার কোনো ইঙ্গিত এখানে নেই। বরং আয়েশা (রাঃ) স্বাভাবিকভাবে নবীজির মাথায় চিরুনি করতেন। তাই “হায়েয অবস্থায় চুল আঁচড়ানো”, “ঋতুমতী নারীর স্পর্শ”, “আয়েশা রাঃ হায়েয” এবং “হায়েয অবস্থায় স্বাভাবিক কাজ” এই হাদিসের প্রধান বিষয়। তবে হাদিসে শুধু চিরুনি করার কথা এসেছে; তাই এর বাইরে অন্য কাজের বিস্তারিত বিধান বানানো ঠিক নয়। মূল শিক্ষা হলো, পবিত্রতার সীমা মানলেও দৈনন্দিন ভালো আচরণ বজায় থাকে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হায়েয অবস্থায় আয়েশা (রাঃ) নবীজির মাথায় চিরুনি করতেন।
- ঋতুমতী নারীকে অযথা অপবিত্র ব্যক্তি হিসেবে দূরে সরিয়ে দেওয়ার শিক্ষা এখানে নেই।
- দাম্পত্য জীবনে স্বাভাবিক সেবা ও ভালো আচরণ বজায় রাখা যায়।
