১৬/৪৩. অধ্যায়ঃ
সাফা-মারওয়ার মাঝে দৌড়ানো (সা‘ঈ) হাজ্জের অন্যতম রুকন, এ ছাড়া হাজ্জ শুদ্ধ হয় না
সাফা-মারওয়া সাঈর সঠিক বুঝ
সহীহ মুসলিম : ২৯৬৯
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৯৬৯
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَ قُلْتُ لَهَا إِنِّي لأَظُنُّ رَجُلاً لَوْ لَمْ يَطُفْ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ مَا ضَرَّهُ . قَالَتْ لِمَ قُلْتُ لأَنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقُولُ { إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ} إِلَى آخِرِ الآيَةِ . فَقَالَتْ مَا أَتَمَّ اللَّهُ حَجَّ امْرِئٍ وَلاَ عُمْرَتَهُ لَمْ يَطُفْ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ وَلَوْ كَانَ كَمَا تَقُولُ لَكَانَ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ لاَ يَطَّوَّفَ بِهِمَا . وَهَلْ تَدْرِي فِيمَا كَانَ ذَاكَ إِنَّمَا كَانَ ذَاكَ أَنَّ الأَنْصَارَ كَانُوا يُهِلُّونَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ لِصَنَمَيْنِ عَلَى شَطِّ الْبَحْرِ يُقَالُ لَهُمَا إِسَافٌ وَنَائِلَةٌ . ثُمَّ يَجِيئُونَ فَيَطُوفُونَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ ثُمَّ يَحْلِقُونَ . فَلَمَّا جَاءَ الإِسْلاَمُ كَرِهُوا أَنْ يَطُوفُوا بَيْنَهُمَا لِلَّذِي كَانُوا يَصْنَعُونَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ قَالَتْ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ { إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ} إِلَى آخِرِهَا - قَالَتْ - فَطَافُوا .
হিশাম ইবনু ‘উরওয়াহ্ (রহঃ) থেকে তার পিতা সূত্র হতে বর্ণিতঃ
আমি আয়িশা (রাঃ)-কে বললাম, আমি মনে করি কোনো ব্যক্তি সাফা-মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের মাঝে সাঈ না করলে তার কোনো ক্ষতি হবে না। তিনি জিজ্ঞেস করলেন কেন? আমি বললাম, কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ ‘সাফা-মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম ......” – (সূরা আল বাক্বারাহ ২ : ১৫৮)।তখন আয়িশা (রাঃ) বললেন, কোনো ব্যক্তি সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ না করলে আল্লাহ তার হজ্জ ও উমরা পূর্ণ করেন না। তুমি যা বলেছ যদি তাই হতো তবে আয়াতটি এভাবে হতো, “ঐ দুই পাহাড়ের মাঝে না দৌড়ালে কোনো অসুবিধা নেই।” তুমি কি জান ব্যাপারটি কী ছিল?ব্যাপার তো ছিল এই যে, আনসারগণ জাহিলী যুগে দুটি প্রতিমার নামে সমুদ্রের তীরে ইহরাম বাঁধত। একটির নাম ইসাফ, অপরটির নাম নায়িলা। তারা এসে সাফা-মারওয়ায় সাঈ করত। অতঃপর মাথা কামাতো। ইসলামের আবির্ভাবের পর তারা জাহিলী যুগে যা করত, সে কারণে সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করা খারাপ মনে করল। তাই আল্লাহ তা'আলা নাযিল করলেন : “সাফা-মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম.......।” অতঃপর লোকেরা সাঈ করে।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২৯৪৫, ইসলামীক সেন্টারঃ ২৯৪৩[২২] জাহিলী যুগে প্রতিমার নামে সমুদ্রের তীরে ইহরাম বাঁধত।প্রতিমা দু’টি কখনও সমুদ্রের তীরে ছিল না। বলা হয় যে, আসাফ ও নায়িলাহ্ দু’জন ব্যক্তি। একজন পুরুষ, অন্যজন মহিলা। তারা ছিল জুরহাস গোত্রের। তারা উভয়ে কা‘বার অভ্যন্তরে যিনা করে, ফলে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে পাথরে পরিণত করে দেন। এ দু’টি পাথরকে কা’বার নিকটে, আবার বলা হয়েছে সাফা-মারওয়াহ্ পাহাড়ের উপর স্থাপন করা হয়েছে যাতে করে লোকেরা এগুলো থেকে শিক্ষা লাভ করতে পারে যে, তাদের পাপের পরিণতি কী দাঁড়িয়েছিল।
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৯৬৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সাফা-মারওয়া সাঈ নিয়ে একটি ভুল ধারণার উত্তর এসেছে। বর্ণনাকারী মনে করেছিলেন, সূরা আল-বাকারার আয়াতে যেহেতু বলা হয়েছে সাফা-মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম, তাই কেউ সাঈ না করলেও ক্ষতি নেই। আয়িশা (রাঃ) এ ধারণা সংশোধন করেন। তিনি বলেন, কেউ সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ না করলে আল্লাহ তার হজ্জ ও উমরা পূর্ণ করেন না। তিনি আরও বুঝিয়ে দেন, যদি সাঈ না করাই উদ্দেশ্য হতো, তবে আয়াতের ভাষা হতো—এ দুই পাহাড়ের মাঝে না দৌড়ালে কোনো অসুবিধা নেই। এরপর তিনি আনসারদের আগের অবস্থার কথা বলেন। তারা জাহিলী যুগের কিছু কাজের কারণে সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করতে সংকোচ করত। তাই আয়াত নাযিলের পর তারা সাঈ করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরআনের আয়াত বুঝতে সাহাবিদের ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ।
- সাফা-মারওয়ার সাঈ হজ্জ ও উমরার পূর্ণতার সঙ্গে যুক্ত।
- আগের ভুল রীতি ইসলামে আসার পর সংশোধন করা উচিত।
- আয়াতের ভাষা বুঝে বিধান গ্রহণ করতে হয়।
