১৬/২৬. অধ্যায়ঃ
বাধাপ্রাপ্ত হলে হালাল হওয়ার বৈধতা এং হাজ্জে ক্বিরান বৈধ হওয়ার বিবরণ
হজ ও উমরা একসাথে: ইবনু উমর রাঃ-এর আমল
সহিহ মুসলিম : ২৮৭৯
সহিহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৮৭৯
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا خَرَجَ فِي الْفِتْنَةِ مُعْتَمِرًا وَقَالَ إِنْ صُدِدْتُ عَنِ الْبَيْتِ صَنَعْنَا كَمَا صَنَعْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ فَخَرَجَ فَأَهَلَّ بِعُمْرَةٍ وَسَارَ حَتَّى إِذَا ظَهَرَ عَلَى الْبَيْدَاءِ الْتَفَتَ إِلَى أَصْحَابِهِ فَقَالَ مَا أَمْرُهُمَا إِلاَّ وَاحِدٌ أُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ أَوْجَبْتُ الْحَجَّ مَعَ الْعُمْرَةِ فَخَرَجَ حَتَّى إِذَا جَاءَ الْبَيْتَ طَافَ بِهِ سَبْعًا وَبَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ سَبْعًا لَمْ يَزِدْ عَلَيْهِ وَرَأَى أَنَّهُ مُجْزِئٌ عَنْهُ وَأَهْدَى.
নাফি’ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হাঙ্গামা [হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ ও ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ)-এর মধ্যকার সংঘাত] চলাকালীন সময়ে ‘উমরা করার উদ্দেশে রওনা হন। ‘বায়তুল্লাহ পৌঁছতে আমরা যদি বাধাপ্রাপ্ত হই তবে (অনুরূপ পরিস্থিতিতে) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে যেরূপ করেছিলাম, এখনও তদ্রূপ করব।’ অতএব তিনি রওনা হলেন এবং ‘উমরার ইহরাম বাঁধলেন। তিনি সফর অব্যাহত রাখলেন যতক্ষণ না আল-বায়দা নামক স্থানে পৌঁছলেন। এখানে তিনি নিজের সঙ্গীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললেন, ‘হজ ও ‘উমরা উভয়ের নিয়ম একই। আমি তোমাদের সাক্ষী করছি যে, আমি নিজের জন্য হজকে ‘উমরার সাথে বাধ্যতামূলক করলাম।’ (বর্ণনাকারী বলেন) অতএব তিনি রওনা হয়ে বায়তুল্লাহ পৌঁছলেন, সাতবার তাওয়াফ করলেন এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সাতবার সাঈ করলেন, এর অতিরিক্ত কিছু করেননি এবং নিজের (হজ ও ‘উমরার) জন্য এটাই (এক তাওয়াফ ও এক সাঈ) যথেষ্ট বিবেচনা করলেন এবং কুরবানি করলেন।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২৮৫৫, ইসলামীক সেন্টারঃ ২৮৫৪
সহিহ মুসলিম হাদিস ২৮৭৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ)-এর একটি ঘটনা এসেছে। সংঘাতের সময় তিনি উমরা করতে বের হন। তিনি বলেন, যদি বায়তুল্লাহতে পৌঁছতে বাধা দেওয়া হয়, তবে রসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সঙ্গে তারা যেমন করেছিলেন, তিনিও তেমন করবেন। পরে আল-বায়দা নামক স্থানে তিনি বলেন, হজ ও উমরার নিয়ম একই ধরনের। তিনি সাক্ষী রেখে জানান, উমরার সঙ্গে হজকেও নিজের জন্য বাধ্যতামূলক করলেন। এরপর তিনি বায়তুল্লাহ পৌঁছে সাতবার তাওয়াফ করেন এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সাতবার সাঈ করেন। অতিরিক্ত কিছু করেননি, এটাকেই যথেষ্ট মনে করেন এবং কুরবানি করেন। এই হাদিসে কিরান হজ, এক ইহরামে হজ-উমরা এবং এক তাওয়াফ-এক সাঈর বিষয় স্পষ্টভাবে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বাধার আশঙ্কায় সাহাবি রাসূলের আমলকে আদর্শ করেছেন।
- উমরার সঙ্গে হজ যুক্ত করার বর্ণনা এসেছে।
- এক তাওয়াফ ও এক সাঈ যথেষ্ট মনে করার কথা এসেছে।
- কঠিন অবস্থায় সুন্নাহর অনুসরণ সাহাবিদের পথ ছিল।
