১৬/২১. অধ্যায়ঃ
আরাফায় অবস্থান এবং আল্লাহ তা’আলার বাণী- “অতঃপর তোমরা ফিরে যাও যেখান থেকে মানুষেরা ফিরে যায়”
আল-হুমস, জাহিলি রীতি ও আরাফায় ফিরে যাওয়ার শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ২৮৪৫
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৮৪৫
وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كَانَتِ الْعَرَبُ تَطُوفُ بِالْبَيْتِ عُرَاةً إِلاَّ الْحُمْسَ وَالْحُمْسُ قُرَيْشٌ وَمَا وَلَدَتْ كَانُوا يَطُوفُونَ عُرَاةً إِلاَّ أَنْ تُعْطِيَهُمُ الْحُمْسُ ثِيَابًا فَيُعْطِي الرِّجَالُ الرِّجَالَ وَالنِّسَاءُ النِّسَاءَ وَكَانَتِ الْحُمْسُ لاَ يَخْرُجُونَ مِنَ الْمُزْدَلِفَةِ وَكَانَ النَّاسُ كُلُّهُمْ يَبْلُغُونَ عَرَفَاتٍ . قَالَ هِشَامٌ فَحَدَّثَنِي أَبِي عَنْ عَائِشَةَ - رضى الله عنها - قَالَتِ الْحُمْسُ هُمُ الَّذِينَ أَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فِيهِمْ { ثُمَّ أَفِيضُوا مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ النَّاسُ} قَالَتْ كَانَ النَّاسُ يُفِيضُونَ مِنْ عَرَفَاتٍ وَكَانَ الْحُمْسُ يُفِيضُونَ مِنَ الْمُزْدَلِفَةِ يَقُولُونَ لاَ نُفِيضُ إِلاَّ مِنَ الْحَرَمِ فَلَمَّا نَزَلَتْ { أَفِيضُوا مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ النَّاسُ} رَجَعُوا إِلَى عَرَفَاتٍ .
হিশাম (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্র হতে বর্ণিতঃ
তিনি (উরওয়া) বলেন, আল-হুমস ব্যতীত সকল আরব উলঙ্গ অবস্থায় বায়তুল্লাহর তওয়াফ করত। কুরাইশ ও তাদের বংশধরগণকে ‘আল-হুমস’ বলা হতো। আরবরা উলঙ্গ অবস্থায়ই তওয়াফ করত। কিন্তু আল-হুমস তাদেরকে কাপড় দান করলে স্বতন্ত্র কথা। তাদের পুরুষরা পুরুষদের এবং মহিলারা মহিলাদের কাপড় দান করত। আল-হুমস মুযদালিফার বাইরে যেত না, আর সব লোক আরাফায় চলে যেত।হিশাম বলেন, আমার পিতা (উরওয়া) আয়িশা (রাঃ)-এর সূত্রে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, আয়িশা (রাঃ) বলেছেন, আল হুমস- যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা এ আয়াত নাজিল করেছেনঃ “অতঃপর অন্যান্য লোক যেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করে, তোমরাও সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করবে”- (সূরা আল বাক্বারাহ ২ : ১৯৯)। আয়িশা (রাঃ) বলেন, লোকেরা আরাফাহ থেকে প্রত্যাবর্তন করত আর আল-হুমস মুযদালিফা থেকে প্রত্যাবর্তন করত। তারা বলত, আমরা কেবলমাত্র হারাম এলাকা থেকেই প্রত্যাবর্তন করব। অতঃপর যখন “তোমরা প্রত্যাবর্তন কর- যেখান থেকে লোকেরা প্রত্যাবর্তন করে” আয়াত নাজিল হল, তখন থেকে তারা আরাফায় গেল।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২৮২২, ইসলামীক সেন্টারঃ ২৮২০
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৮৪৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জাহিলি যুগের তাওয়াফ ও হজ্জের একটি রীতি বর্ণিত হয়েছে। উরওয়া রহঃ বলেন, আল-হুমস ছাড়া অনেক আরব উলঙ্গ অবস্থায় বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করত। আল-হুমস বলতে কুরাইশ ও তাদের বংশধরদের বোঝানো হয়েছে। তারা কাউকে কাপড় দিলে সে কাপড়ে তাওয়াফ করত। পুরুষরা পুরুষকে এবং নারীরা নারীকে কাপড় দিত। আর আল-হুমস মুযদালিফার বাইরে যেত না, অন্য লোকেরা আরাফায় যেত। আয়িশা রাঃ বলেন, আল্লাহর আয়াত নাজিল হলো—যেখান থেকে মানুষ ফিরে আসে, তোমরাও সেখান থেকে ফিরে আসো। তখন তারা আরাফায় গেল। এই হাদিসে স্পষ্ট শিক্ষা হলো, হজ্জের আমল আল্লাহর নির্দেশে হবে, পুরোনো গোষ্ঠীগত রীতিতে নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জাহিলি যুগের ভুল তাওয়াফ রীতি এই বর্ণনায় এসেছে।
- আল-হুমস মুযদালিফা থেকে ফিরত, আর মানুষ আরাফা থেকে ফিরত।
- কুরআনের নির্দেশে তাদের আরাফায় যাওয়ার কথা এসেছে।
- হজ্জে গোষ্ঠীভিত্তিক অহংকারের বদলে আল্লাহর বিধান মানতে হয়।
