১৬/১৭. অধ্যায়ঃ
ইহরামের প্রকারভেদ, ইফরাদ, ক্বিরান ও তামাত্তু’ হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা জায়িয, একত্রে ‘উমরাহ ও হাজ্জের ইহরাম বাঁধাও জায়িয এবং ক্বিরান হাজ্জ পালনকারী কখন ইহরাম মুক্ত হবে
হায়জ হলে উমরা স্থগিত রেখে হজ্জ
সহিহ মুসলিম : ২৮০২
সহিহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৮০২
وَحَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَامَ حَجَّةِ الْوَدَاعِ فَأَهْلَلْتُ بِعُمْرَةٍ وَلَمْ أَكُنْ سُقْتُ الْهَدْىَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " مَنْ كَانَ مَعَهُ هَدْىٌ فَلْيُهْلِلْ بِالْحَجِّ مَعَ عُمْرَتِهِ ثُمَّ لاَ يَحِلَّ حَتَّى يَحِلَّ مِنْهُمَا جَمِيعًا " . قَالَتْ فَحِضْتُ فَلَمَّا دَخَلَتْ لَيْلَةُ عَرَفَةَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي كُنْتُ أَهْلَلْتُ بِعُمْرَةٍ فَكَيْفَ أَصْنَعُ بِحَجَّتِي قَالَ " انْقُضِي رَأْسَكِ وَامْتَشِطِي وَأَمْسِكِي عَنِ الْعُمْرَةِ وَأَهِلِّي بِالْحَجِّ " . قَالَتْ فَلَمَّا قَضَيْتُ حَجَّتِي أَمَرَ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ أَبِي بَكْرٍ فَأَرْدَفَنِي فَأَعْمَرَنِي مِنَ التَّنْعِيمِ مَكَانَ عُمْرَتِي الَّتِي أَمْسَكْتُ عَنْهَا .
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা বিদায় হজ্জের বছর নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমি উমরার ইহরাম বাঁধলাম এবং সাথে কুরবানির পশু নেইনি। নবী (ﷺ) বললেন, যার সাথে কুরবানির পশু আছে, সে যেন তার উমরার সাথে হজ্জের ইহরামও বাঁধে এবং উভয়ের অনুষ্ঠানাদি সমাপ্ত করার পূর্বে যেন ইহরাম না খোলে। আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমার মাসিক ঋতু শুরু হয়ে গেল। আরাফার রাত শুরু হলে আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি উমরার ইহরাম বেঁধেছিলাম, অতএব আমি কিভাবে হজ্জ করব? তিনি বললেন, তোমার চুল খুলে ফেল এবং চিরুণী কর, উমরা স্থগিত রাখ এবং হজ্জের ইহরাম বাঁধ। আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি যখন হজ্জ সমাপ্ত করলাম, তখন তিনি (আমার ভাই) আবদুর রহমানকে নির্দেশ দিলেন এবং তিনি তদানুযায়ী আমাকে তার বাহনের পেছন দিকে বসিয়ে তানঈম থেকে উমরা করালেন- যেহেতু আমি উমরার অনুষ্ঠান পালন থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হয়েছিলাম।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২৭৭৯, ইসলামীক সেন্টারঃ ২৭৭৭
সহিহ মুসলিম হাদিস ২৮০২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা রাঃ বলেন, বিদায় হজ্জের বছর তিনি নবী صلى الله عليه وسلم-এর সঙ্গে রওনা হন। তিনি উমরার ইহরাম বাঁধেন এবং তাঁর সঙ্গে কুরবানির পশু ছিল না। নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, যার সঙ্গে কুরবানির পশু আছে, সে যেন উমরার সঙ্গে হজ্জের ইহরামও বাঁধে এবং উভয় কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইহরাম না খোলে। আয়িশা রাঃ-এর মাসিক ঋতু শুরু হলে আরাফার রাতের সময় তিনি প্রশ্ন করেন, তিনি উমরার ইহরাম বেঁধেছিলেন, এখন হজ্জ কীভাবে করবেন। নবী صلى الله عليه وسلم তাঁকে বলেন, চুল খুলে চিরুনি করো, উমরা স্থগিত রাখো এবং হজ্জের ইহরাম বাঁধো। হজ্জ শেষে আবদুর রহমান রাঃ তাঁকে তানঈম থেকে উমরা করান। এই হাদিস হায়জ অবস্থায় হজ্জ ও উমরার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ বহন করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হায়জের কারণে আয়িশা রাঃ উমরার কাজ থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হন।
- নবী صلى الله عليه وسلم তাঁকে উমরা স্থগিত রেখে হজ্জের ইহরাম বাঁধতে বলেন।
- হজ্জ শেষ হলে তানঈম থেকে উমরার ব্যবস্থা করা হয়।
- হাদি সঙ্গে থাকলে হজ্জ ও উমরা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইহরাম খোলা যাবে না।
