১৯/০. অধ্যায়ঃ
লিআন সম্পর্কে
লি‘আনের হাদিস: গুরুতর দাম্পত্য অভিযোগে শরয়ি পথ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৯৫২
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৯৫২
حديث سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ، أَنَّ عُوَيْمِرًا الْعَجْلاَنِيَّ جَاءَ إِلَى عَاصِمِ بْنِ عَدِيٍّ الأَنْصَارِيِّ، فَقَالَ لَهُ: يَا عَاصِمُ أَرَأَيْتَ رَجُلاً وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلاً أَيَقْتُلُهُ فَتَقْتُلُونَهُ، أَمْ كَيْفَ يَفْعَلُ سَلْ لِي يَا عَاصِمُ عَنْ ذَلِكَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؛ فَسَأَلَ عَاصِمٌ عَنْ ذَلِكَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَكَرِهَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَسَائِلَ وَعَابَهَا، حَتَّى كَبُرَ عَلَى عَاصِمٍ مَا سَمِعَ مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا رَجَعَ عَاصِمٌ إِلَى أَهْلِهِ، جَاءَ عُوَيْمِرٌ، فَقَالَ: يَا عَاصِمُ مَاذَا قَالَ لَكَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ عَاصِمٌ: لَمْ تَأْتِنِي بِخَيْرٍ، قَدْ كَرِهَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَسْئَلَةَ الَّتِي سَأَلْتُهُ عَنْهَا قَالَ عُوَيْمِرٌ: وَاللهِ لاَ أَنْتَهِي حَتَّى أَسْأَلَهُ عَنْهَا فَأَقْبَلَ عُوَيْمِرٌ حَتَّى أَتَى رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَسْطَ النَّاس فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ أَرَأَيْتَ رَجُلاً وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلاً أَيَقْتُلُهُ فَتَقْتُلُونَهُ أَمْ كَيْفَ يَفْعَلُ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: قَدْ أَنْزَلَ اللهُ فِيكَ وَفِي صَاحِبَتِكَ، فَاذْهَبْ فَأْتِ بِهَاقَالَ سَهْلٌ: فَتَلاَعَنَا، وَأَنَا مَعَ النَّاسِ عِنْدَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَلَمَّا فَرَغَا قَالَ عُوَيْمِرٌ: كَذَبْتُ عَلَيْهَا يَا رَسُولَ اللهِ إِنْ أَمْسَكْتُهَا؛ فَطَلَّقَهَا ثَلاَثًا، قَبْلَ أَنْ يَأْمُرَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
সাহ্ল ইবনু সা‘দ সা‘ঈদী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
উওয়াইমার আজলানী (রাঃ) ‘আসিম ইবনু আদী আনসারী (রাঃ)-এর কাছে এসে বললেনঃ হে আসিম! কী বল, যদি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে অপর ব্যক্তিকে (ব্যভিচার-রত অবস্থায়) পায়, তবে সে কি তাকে হত্যা করবে? আর এতে তোমরাও কি তাকে হত্যা করবে? (যদি সে হত্যা না করে) তাহলে কী করবে? হে আসিম! তুমি আমার এ বিষয়টি আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস কর। এরপর আসিম (রাঃ) এ ব্যাপারে আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলেন। আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) এ ধরনের জিজ্ঞাসাবাদ অপছন্দ করলেন এবং অশোভনীয় মনে করলেন। এমন কি আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) থেকে আসিম (রাঃ) যা শুনলেন, তাতে তার খুব খারাপ লাগল। আসিম (রাঃ) গৃহে প্রত্যাবর্তন করলে উওয়াইমির এসে জিজ্ঞেস করলঃ হে আসিম! আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) তোমাকে কি উত্তর দিলেন? আসিম (রাঃ) উওয়াইমিরকে বললেনঃ তুমি আমার কাছে কোন ভাল কাজ নিয়ে আসনি। আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) এ ধরনের জিজ্ঞাসাকে অপছন্দ করেছেন, সে সম্বন্ধে আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করেছি। উওয়াইমির (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্র শপথ! তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস না করে ক্ষান্ত হব না। এরপর উওয়াইমির (রাঃ) আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)-এর কাছে এসে তাঁকে লোকদের মাঝে পেলেন এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করলেনঃ হে আল্লাহ্র রাসূল! কী বলেন, কোন ব্যক্তি যদি তার স্ত্রীর সাথে অপর ব্যক্তিকে (ব্যভিচার-রত) দেখতে পায়, সে কি তাকে হত্যা করবে? আর আপনারাও কি তাকে হত্যার বদলে হত্যা করবেন? অন্যথায় সে কী করবে? আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) বললেনঃ তোমার ও তোমার স্ত্রীর ব্যাপারে আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে, যাও তাকে নিয়ে এসো। সাহ্ল (রাঃ) বলেন, তারা উভয়ে লি‘আন করল। সে সময় আমি লোকদের সাথে আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)-এর নিকটে ছিলাম। উভয়ে লি‘আন করা সমাপ্ত করলে উওয়াইমির বললঃ হে আল্লাহ্র রাসূল! যদি আমি তাকে (স্ত্রী হিসাবে) রাখি, তবে আমি তার উপর মিথ্যারোপ করেছি বলে প্রমাণিত হবে। এরপর আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) তাকে নির্দেশ দেয়ার পূর্বেই তিনি স্ত্রীকে তিন ত্বলাক্ব দিলেন। ইবনু শিহাব (রহ.) বলেনঃ উভয়কে পৃথক করে দেয়াই পরবর্তীতে লি‘আনকারীদ্বয়ের হুকুম হিসাবে পরিগণিত হলো।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৬৮ ; তালাক (বিবাহ বিচ্ছেদ), অধ্যায় ৪, হাঃ ৫৩০৮; মুসলিম, পর্ব ১৯ ; লি'আনঃ হাঃ ১৪৯২
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৯৫২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো লি‘আন। উওয়াইমির আজলানী (রাঃ) জানতে চান, কেউ যদি স্ত্রীকে অন্য পুরুষের সঙ্গে পায়, তবে সে কি তাকে হত্যা করবে, না কী করবে। প্রথমে ‘আসিম (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ (صلى الله عليه وسلم)-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি এমন প্রশ্ন অপছন্দ করেন। পরে উওয়াইমির (রাঃ) নিজে এসে প্রশ্ন করেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর ব্যাপারে আয়াত নাযিল হয়েছে, স্ত্রীকে নিয়ে আসতে। এরপর তারা দুজন লি‘আন করল। লি‘আন শেষে উওয়াইমির (রাঃ) বলেন, যদি তিনি স্ত্রীকে রাখেন তবে যেন তিনি মিথ্যা বলেছেন—তারপর তিনি স্ত্রীকে তিন তালাক দেন। বর্ণনায় বলা হয়েছে, পরে লি‘আনকারী দুজনকে পৃথক করাই হুকুম হিসেবে চলতে থাকে। হাদিসটি শেখায়, কঠিন অভিযোগেও নিজের হাতে শাস্তি নেওয়া নয়; শরয়ি পদ্ধতির দিকে যেতে হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গুরুতর দাম্পত্য অভিযোগে নিজ হাতে শাস্তি নেওয়া সঠিক পথ নয়।
- লি‘আন শরয়ি একটি বিশেষ প্রক্রিয়া হিসেবে হাদিসে এসেছে।
- রাসূলুল্লাহ্ (صلى الله عليه وسلم) অপছন্দ করলেও প্রয়োজনীয় প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন।
- লি‘আনের পর স্বামী-স্ত্রীর পৃথক হওয়ার বিষয়টি বর্ণনায় এসেছে।
