১৮/৩. অধ্যায়ঃ
ঐ ব্যক্তির উপর কাফফারা ওয়াজিব যে তার স্ত্রীকে হারাম করলো যদিও সে তালাকের নিয়ত করেনি।
মধু ও মিষ্টি পছন্দের হাদিস: ঈর্ষা, কথা ও দাম্পত্য শিক্ষা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৯৪০
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৯৪০
حديث عَائِشَةَ، قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يُحِبُّ الْعَسَلَ وَالْحَلْوَاءَ، وَكَانَ إِذَا انْصَرَفَ مِنَ الْعَصْرِ دَخَلَ عَلَى نِسَائِهِ، فَيَدْنُو مِنْ إِحْدَاهُنَّ، فَدَخَلَ عَلَى حَفْصَةَ بِنْتِ عُمَرَ، فَاحْتَبَسَ أَكْثَرَ مَا كَانَ يَحْتَبِسُ، فَغِرْتُ، فَسَأَلْتُ عَنْ ذَلِكَ، فَقِيلَ لِي، أَهْدَتْ لَهَا امْرَأَةٌ مِنْ قَوْمِهَا عُكَّةً مِنْ عَسَلٍ، فَسَقَتِ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْهُ شَرْبَةً فَقُلْتُ: أَمَا وَاللهِ لَنَحْتَالَنَّ لَهُ فَقُلْتُ لِسَوْدَةَ بِنْتِ زَمْعَةَ أَنَّهُ سَيَدْنُو مِنْكِ، فَإِذَا دَنَا مِنْكِ فَقُولِي: أَكَلْتَ مَغَافِيرَ فَإِنَّهُ سَيَقُولُ لَكِ: لاَ فَقُولِي لَهُ: مَا هذِهِ الرِّيحُ الَّتِي أَجِدُ مِنْكَ [ص: 114] فَإِنَّهُ سَيَقُولُ لَكِ: سَقَتْنِي حَفْصَةُ شَرْبَةَ عَسَلٍ، فَقُولِي لَهُ: جَرَسَتْ نَحْلُهُ الْعُرْفُطَ، وَسَأَقُولُ ذَلِكَ، وَقُولِي أَنْتِ يَا صَفِيَّةُ ذَاكقَالَتْ: تَقُولُ سَوْدَةُ فَوَاللهِ مَا هُوَ إِلاَّ أَنْ قَامَ عَلَى الْبَابِ فَأَرَدْتُ أَنْ أُبَادِيَهُ بِمَا أَمَرْتِنِي بِهِ فَرَقًا مِنْكِ فَلَمَّا دَنَا مِنْهَا، قَالَتْ لَهُ سَوْدَةُ: يَا رَسُولَ اللهِ أَكَلْتَ مَغَافِيرَ قَالَ: لاَ قَالَتْ: فَمَا هذِهِ الرِّيحُ الَّتِي أَجِدُ مِنْكَ قَالَ: سَقَتْنِي حَفْصَةُ شَرْبَةَ عَسَلٍ، فَقَالَتْ: جَرَسَتْ نَحْلُهُ الْعُرْفُطَ فَلَمَّا دَارَ إِلَيَّ، قُلْتُ لَهُ نَحْوَ ذَلِكَ؛ فَلَمَّا دَارَ إِلَى صَفِيَّةَ قَالَتْ لَهُ مِثْلَ ذَلِكَ فَلَمَّا دَارَ إِلَى حَفْصَةَ، قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَلاَ أَسْقِيكَ مِنْهُ قَالَ: لاَ حَاجَةَ لِي فِيهِقَالَتْ: تَقُولُ سَوْدَةُ وَاللهِ لَقَدْ حَرَمْنَاهُ؛ قُلْتُ لَهَا: اسْكُتِى
’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) মধু ও হালুয়া (মিষ্টি) পছন্দ করতেন। আসরের সালাত শেষে তিনি তাঁর সহধর্মিণীদের নিকট যেতেন। এরপর তাঁদের একজনের ঘনিষ্ঠ হতেন। একদা তিনি হাফসাহ বিন্ত উমারের কাছে গেলেন এবং অন্যান্য দিন অপেক্ষা অধিক সময় অতিবাহিত করলেন। এতে আমি ঈর্ষা করলাম। পরে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করে অবগত হলাম যে, তাঁর (হাফসার) গোত্রের জনৈকা মহিলা তাঁকে এক পাত্র মধু হাদিয়া দিয়েছিল। তা থেকেই তিনি নবী (ﷺ)-কে কিছু পান করিয়েছেন। আমি বললামঃ আল্লাহ্র কসম! আমরা এজন্য একটি ফন্দি আঁটব।এরপর আমি সাওদাহ্ বিন্ত যাম‘আকে বললাম, তিনি [আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)] তো এখনই তোমার কাছে আসছেন, তিনি তোমার নিকটবর্তী হলেই তুমি বলবে, আপনি কি মাগাফীর খেয়েছেন? তিনি নিশ্চয়ই তোমাকে বলবেন “না” । তখন তুমি তাঁকে বলবে, তবে আমি কিসের গন্ধ পাচ্ছি? তিনি বলবেনঃ হাফসাহ আমাকে কিছু মধু পান করিয়েছে। তুমি তখন বলবে, এর মৌমাছি মনে হয় ‘উরফুত (এক জাতীয় গাছ) নামক বৃক্ষ থেকে মধু আহরণ করেছে। আমিও তাই বলব। সফীয়্যাহ! তুমিও তাই বলবে। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ সাওদা (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্র কসম! তিনি দরজার নিকট আসতেই আমি তোমার ভয়ে তোমার আদিষ্ট কাজ পালনে প্রস্তুত হলাম। আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) যখন তাঁর নিকটবর্তী হলেন, তখন সাওদা বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি কি মাগাফীর খেয়েছেন? তিনি বললেনঃ না। সাওদা বললেন, তবে আপনার নিকট হতে এ কিসের গন্ধ পাচ্ছি? তিনি বললেনঃ হাফসাহ আমাকে কিছু মধু পান করিয়েছে। সাওদা বললেন, এ মধু মক্ষিকা ‘উরফুত’ নামক বৃক্ষের মধু আহরণ করেছে। এরপর তিনি ঘুরে যখন আমার কাছে এলেন, তখন আমিও অনুরূপ বললাম। তিনি সফীয়্যার কাছে গেলে তিনিও এরূপ উক্তি করলেন।পরদিন যখন তিনি হাফসার কাছে গেলেনঃ তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনাকে মধু পান করাব কি? উত্তরে আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) বললেনঃ এর আমার কোন প্রয়োজন নেই। ‘আয়িশা (রাঃ) বর্ণনা করেন, সাওদা বললেনঃ আল্লাহ্র কসম! আমরা তাঁকে বিরত রেখেছি। আমি বললামঃ চুপ কর।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৬৮ : ত্বালাক (বিবাহ বিচ্ছেদ), অধ্যায় ৮, হাঃ ৫২৬৮; মুসলিম, পর্ব ১৮: জ্বলাক, অধ্যায় ৩, হাঃ ১৪৭৪
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৯৪০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ‘আয়িশাহ (রাঃ) একটি পারিবারিক ঘটনা বিস্তারিত বলেছেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) মধু ও মিষ্টি পছন্দ করতেন। আসরের পর তিনি স্ত্রীদের কাছে যেতেন। একদিন হাফসাহ (রাঃ)-এর কাছে বেশি সময় থাকলেন, কারণ তাঁকে মধু পান করানো হয়েছিল। এতে ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর ঈর্ষা হলো এবং কয়েকজন স্ত্রী মিলে মাগাফীরের গন্ধের কথা বলার পরিকল্পনা করলেন। পরে নবী (صلى الله عليه وسلم) মধু পান করতে চাইলে বললেন, তাঁর দরকার নেই। সাওদাহ (রাঃ) বললেন, আমরা তাঁকে বিরত রেখেছি; ‘আয়িশাহ (রাঃ) তাকে চুপ করতে বললেন। হাদিসটি দাম্পত্যে ঈর্ষা, কথার প্রভাব এবং প্রিয় জিনিস থেকেও কারও বিরত হয়ে যাওয়ার বাস্তবতা দেখায়। এখান থেকে সাবধান কথা বলার শিক্ষা পাওয়া যায়। এই শিক্ষা বাস্তব জীবনে পরিবার, সম্পর্ক ও সিদ্ধান্তকে আরও সতর্কভাবে দেখতে সাহায্য করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কথার প্রভাব মানুষকে প্রিয় জিনিস থেকেও বিরত করতে পারে।
- দাম্পত্য জীবনে ঈর্ষা হতে পারে, তবে তা নিয়ন্ত্রণ করা দরকার।
- পরিকল্পিত কথা সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) মধু ও মিষ্টি পছন্দ করতেন—এ কথা হাদিসে এসেছে।
