১৮/৩. অধ্যায়ঃ
ঐ ব্যক্তির উপর কাফফারা ওয়াজিব যে তার স্ত্রীকে হারাম করলো যদিও সে তালাকের নিয়ত করেনি।
মধুর হাদিস ও সূরা তাহরীম: হালালকে হারাম না করার শিক্ষা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৯৩৯
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৯৩৯
حديث عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَمْكُثُ عِنْدَ زَيْنَبَ ابْنَةِ جَحْشٍ وَيَشْرَبُ عِنْدَهَا عَسَلاً، فَتَوَاصَيْتُ أَنَا وَحَفْصَةُ أَنَّ أَيَّتَنَا دَخَلَ عَلَيْهَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلْتَقُلْ: إِنِّي أَجِدُ مِنْكَ رِيحَ مَغَافِيرَ، أَكَلْتَ مَغَافِيرَ فَدَخَلَ عَلَى إِحْدَاهُمَا، فَقَالَتْ لَهُ ذلِكَ؛ فَقَالَ: لاَ بَلْ شَرِبْتُ عَسَلاً عِنْدَ زَيْنَبَ ابْنَةِ جَحْشٍ، وَلَنْ أَعُودَ لَهُ فَنَزَلَتْ (يأَيُّهَا النَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللهُ لَكَ) إِلَى (إِنْ تَتُوبَا إِلَى اللهِ) لِعَائِشَةَ وَحَفْصَةَ وَإِذْ أَسَرَّ النَّبِيُّ إِلَى بَعْضِ أَزْوَاجِهِ لِقَوْلِهِ: بَلْ شَرِبْتُ عَسَلاً
আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) যাইনাব বিন্ত জাহশের নিকট কিছু বিলম্ব করতেন এবং সেখানে তিনি মধু পান করতেন। আমি ও হাফসাহ পরামর্শক্রমে ঠিক করলাম যে, আমাদের মধ্যে যার কাছেই নবী (ﷺ) প্রবেশ করবেন, সেই যেন বলি- আমি আপনার থেকে মাগাফীর-এর গন্ধ পাচ্ছি। আপনি কি মাগাফীর খেয়েছেন? এরপর তিনি তাদের একজনের নিকট প্রবেশ করলে তিনি তাঁকে অনুরূপ বললেন। তিনি বললেনঃ বরং আমি যাইনাব বিন্ত জাহশের নিকট মধু পান করেছি। আমি পুনঃ এ কাজ করব না। এ প্রসঙ্গেই অবতীর্ণ হয় (মহান আল্লাহ্র বাণী)- “হে নবী! এমন বস্তুকে হারাম করছেন কেন, যা আল্লাহ্ আপনার জন্য হালাল করেছেন ... যদি তোমরা উভয়ে আল্লাহ্র নিকট তাওবা কর” পর্যন্ত। এখানে ‘আয়িশাহ ও হাফসাহ (রাঃ)-কে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে। আর আল্লাহ্র বাণী যখন নবী (ﷺ) তাঁর স্ত্রীদের একজনকে গোপনে কিছু বলেছিলেন- ‘বরং আমি মধু পান করেছি’-এ কথার প্রেক্ষিতে নাযিল হয়।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৬৮ : অধ্যায় ৮, হাঃ ৫২৬৭; মুসলিম, পর্ব ১৮ : তুলাক, অধ্যায় ৩, হাঃ ১৪৭৪
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৯৩৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ‘আয়িশাহ (রাঃ) বর্ণনা করেন, নবী (صلى الله عليه وسلم) যাইনাব বিনত জাহশ (রাঃ)-এর কাছে কিছু সময় থাকতেন এবং সেখানে মধু পান করতেন। ‘আয়িশাহ ও হাফসাহ (রাঃ) পরামর্শ করলেন, নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁদের কারও কাছে এলে মাগাফীরের গন্ধের কথা বলবেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) বললেন, তিনি মাগাফীর খাননি; বরং যাইনাবের কাছে মধু পান করেছেন এবং আর তা করবেন না। এরপর আয়াত নাযিল হয়—হে নবী, আল্লাহ যা আপনার জন্য হালাল করেছেন তা কেন হারাম করছেন। এই হাদিসে হালাল-হারাম নির্ধারণের গুরুত্ব, পারিবারিক কথাবার্তায় সতর্কতা এবং তাওবার ইশারা আছে। তবে ব্যাখ্যা হাদিসের ঘটনাতেই সীমিত রাখা উচিত। তাই এই ঘটনা পড়ার সময় হালাল, কথা ও পারিবারিক আচরণ—তিনটি দিকই মনে রাখা দরকার। এই শিক্ষা বাস্তব জীবনে পরিবার, সম্পর্ক ও সিদ্ধান্তকে আরও সতর্কভাবে দেখতে সাহায্য করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হালাল বিষয়কে নিজের ওপর হারাম করে নেওয়া সহজ বিষয় নয়।
- পারিবারিক কথাবার্তায় কৌশল বা চাপ সৃষ্টি থেকে সতর্ক থাকা দরকার।
- আয়াত নাযিলের মাধ্যমে নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে আল্লাহ নির্দেশনা দিয়েছেন।
- মুমিনের জন্য হালাল-হারামের সীমা আল্লাহর বিধানে নির্ধারিত।
