১৬/৮. অধ্যায়ঃ
নিকাহর ক্ষেত্রে সায়েবা (বিবাহিতা মহিলা)-র সম্মতি হচ্ছে কথা বলা আর কুমারীর সম্মতি হচ্ছে চুপ থাকা।
কুমারীর নীরবতাই অনুমতি: বিয়েতে সম্মতির কোমল শিক্ষা
আল লু'লু ওয়াল মারজান : ৮৯৬
আল লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৮৯৬
حديث عَائِشَةَ، قَالَتْ: قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ يُسْتَأْمَرُ النِّسَاءُ فِي أَبْضَاعِهِنَّ قَالَ: نَعَمْ قُلْتُ: فَإِنَّ الْبِكْرَ تُسْتَأْمَرُ فَتَسْتَحِي فَتَسْكُتُ، قَالَ: سُكَاتُهَا إِذْنُهَا
আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসুল! মহিলাদের বিয়ে দিতে তাদের অনুমতি নিতে হবে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, কুমারীর কাছে অনুমতি চাইলে তো লজ্জাবোধ করে; ফলে চুপ থাকে। তিনি বললেনঃ তার নীরবতাই তার অনুমতি।
সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৮৯: বল প্রয়োগের মাধ্যমে জোর করা, অধ্যায় ৩, হাঃ ৬৯৪৬; মুসলিম, পৰ্ব ১৬ : নিকাহ বা বিবাহ, অধ্যায় ৯, হাঃ ১৪২০
আল লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৮৯৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো বিয়েতে অনুমতি নেওয়া। আয়িশা রাঃ রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-কে জিজ্ঞেস করেন, মহিলাদের বিয়ে দিতে কি তাদের অনুমতি নিতে হবে? তিনি বলেন, হ্যাঁ। এরপর তিনি বলেন, কুমারীর কাছে অনুমতি চাইলে সে লজ্জা পেয়ে চুপ থাকে। নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, তার নীরবতাই তার অনুমতি। এই হাদিসে নারীর মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং কুমারী মেয়ের স্বাভাবিক লজ্জাকেও সম্মান করা হয়েছে। অনুমতি নেওয়ার বিষয়টি শুধু আনুষ্ঠানিক নয়; এটি বিয়ের সিদ্ধান্তে মেয়ের অংশগ্রহণের শিক্ষা। তবে হাদিসে যে নীরবতার কথা এসেছে, তা সম্মতির প্রসঙ্গেই বলা হয়েছে, জোর বা চাপের কথা এখানে বলা হয়নি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মহিলাদের বিয়েতে তাদের অনুমতি নেওয়া দরকার।
- কুমারী মেয়ের লজ্জা ও নীরবতাকে বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
- বিয়ের সিদ্ধান্তে নারীর সম্মতি গুরুত্বপূর্ণ।
- অনুমতি নেওয়ার ক্ষেত্রে কোমল ও সম্মানজনক আচরণ দরকার।
