১৩/৩. অধ্যায়ঃ
রমাযানের একদিন বা দুইদিন পূর্বে সাওম পালন করবে না।
রমাযানের আগে রোজা: এক-দুই দিন আগে শুরু না করার শিক্ষা
আল লু'লু ওয়াল মারজান : ৬৫৭
আল লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৬৫৭
حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: لاَ يَتَقَدَّمَنَّ أَحَدُكُمْ رَمَضَانَ بِصَوْمِ يَوْمٍ أَوْ يَوْمَيْنِ إِلاَّ أَنْ يَكُونَ رَجُلٌ كَانَ يَصُومُ صَوْمَهُ فَلْيَصُمْ ذلِكَ الْيَوْمَ
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা কেউ রমাযানের একদিন কিংবা দুইদিন আগে হতে সাওম শুরু করবে না। তবে কেউ যদি এ সময় সিয়াম পালনে অভ্যস্ত থাকে তাহলে সে সেদিন সাওম পালন করতে পারবে।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৩০: সওম, অধ্যায় ১৪, হাঃ ১৯১৪; মুসলিম, পর্ব ১৩: সওম, অধ্যায় ৩, হাঃ ১০৮২
আল লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৬৫৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী صلى الله عليه وسلم রমাযানের একদিন বা দুইদিন আগে থেকে রোজা শুরু করতে নিষেধ করেছেন। কারণ রমাযান শুরু হবে তার নির্ধারিত নিয়মে, চাঁদ দেখা বা মাস পূর্ণ করার মাধ্যমে। কেউ যেন নিজের পক্ষ থেকে আগেভাগে রমাযানের মতো করে সাওম শুরু না করে। তবে হাদিসে একটি সহজ ছাড়ও আছে: কোনো ব্যক্তি যদি আগে থেকেই নির্দিষ্ট দিনে রোজা রাখতে অভ্যস্ত থাকে, আর সেই দিন রমাযানের ঠিক আগে পড়ে যায়, তাহলে সে তার অভ্যাস অনুযায়ী রোজা রাখতে পারবে। তাই এই হাদিস ভারসাম্য শেখায়। একদিকে রমাযানের সময়কে নিজের অনুমানে বাড়ানো যাবে না, অন্যদিকে নিয়মিত নফল রোজাকে বন্ধও করা হয়নি। রমাযান প্রস্তুতি মানে শুধু আবেগ নয়; নবী صلى الله عليه وسلم-এর নির্দেশ অনুযায়ী ইবাদত করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রমাযানের আগে এক-দুই দিন আগেভাগে রোজা শুরু করা ঠিক নয়।
- নিয়মিত নফল রোজার অভ্যাস থাকলে ছাড় আছে।
- রমাযানের সময় নিজের অনুমানে বাড়ানো উচিত নয়।
- ইবাদতে আবেগের সঙ্গে নিয়ম মানাও জরুরি।
