১২/৫৩. অধ্যায়ঃ
নবী (ﷺ) হাদিয়া গ্রহণ করতেন আর সদকা ফিরিয়ে দিতেন।
সদাকাহ ও হাদিয়া: বারীরাহ রাঃ-এর গোশতের হাদিস
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৬৪৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৬৪৮
حديث أَنَسٍ رضي الله عنه، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُتِيَ بِلَحْمٍ تُصُدِّقَ بِهِ عَلَى بَرِيرَةَ، فَقَالَ: هُوَ عَلَيْهَا صَدَقَةٌ، وَهُوَ لَنَا هَدِيَّةٌ
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
বারীরাহ (রাঃ)-কে সদাকাহকৃত গোশতের কিছু আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে দেয়া হল। তিনি বললেন, তা বারীরাহ’র জন্য সদাকাহ এবং আমাদের জন্য হাদিয়া।
সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ২৪ : যাকাত, অধ্যায় ৬২, হাঃ ১৪৯৫; মুসলিম, পৰ্ব ১২: যাকাত, অধ্যায় ৫২, হাঃ ১০৭৪
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৬৪৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বারীরাহ রাঃ-কে সদাকাহ হিসেবে দেওয়া গোশতের কিছু অংশ রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে আসে। তিনি বলেন, সেটি বারীরাহর জন্য সদাকাহ, আর আমাদের জন্য হাদিয়া। এখানে সদাকাহ ও হাদিয়ার পার্থক্য খুব সুন্দরভাবে বোঝা যায়। কোনো মাল যখন সদাকাহ হিসেবে তার হকদারের কাছে পৌঁছে যায়, তখন সেই ব্যক্তি যদি তা অন্য কাউকে হাদিয়া হিসেবে দেয়, তখন গ্রহণকারীর জন্য তার বিধান বদলে যেতে পারে। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, মাল কার কাছে কোনভাবে পৌঁছেছে তা গুরুত্বপূর্ণ। বারীরাহ রাঃ-এর জন্য এটি সদাকাহ ছিল, কিন্তু নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে তা সরাসরি সদাকাহ হিসেবে আসেনি; বরং হাদিয়া হিসেবে এসেছে। তাই হাদিসটি খাবারের উৎস, মাল পৌঁছানোর ধাপ এবং হাদিয়া গ্রহণের আদব বুঝতে সাহায্য করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সদাকাহ ও হাদিয়া এক জিনিস নয়; উৎস ও প্রদান পদ্ধতি আলাদা হতে পারে।
- সদাকাহ হকদারের কাছে পৌঁছালে সে তা হাদিয়া দিতে পারে।
- খাবার গ্রহণের আগে তা কীভাবে এসেছে বোঝা দরকার।
- নবী صلى الله عليه وسلم সহজ ভাষায় বিধানের পার্থক্য বুঝিয়েছেন।
