১২/৪২. অধ্যায়ঃ
যাচঞ্চা থেকে বিরত থাকা ও ধৈর্য ধারণের ফাযায়েল।
দুনিয়ার চাকচিক্য: হালাল সম্পদ ও সঠিক ব্যয়ের শিক্ষা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৬২৫
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৬২৫
حديث أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ أَكْثَرَ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمْ مَا يُخْرِجُ اللهُ لَكُمْ مِنْ بَرَكَاتِ الأَرْضِ قِيلَ: وَمَا بَرَكَات الأَرْضِ قَالَ: زَهْرَة الدُّنْيَا فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ: هَلْ يَأْتِي الْخَيْرُ بِالشَّرِّ فَصَمَتَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهُ يُنْزَلُ علَيْهِ، ثُمَّ جَعَلَ يَمْسَحُ عَنْ جَبِينِهِ، فَقَالَ: أَيْنَ السَّائِلُ قَالَ: أَنَا قَالَ أَبُو سَعِيدٍ: لَقَدْ حَمِدْنَاهُ حِينَ طَلَعَ ذلِكَ، قَال: لاَ يَأْتِي الْخَيْرُ إِلاَّ بِالْخَيْرِ، إِنَّ هذَا الْمَالَ خَضِرَةٌ حُلْوَةٌ، وَإِنَّ كُلَّ مَا أَنْبَتَ الرَّبِيعُ يَقْتُلُ حَبَطًا أَوْ يُلِمُّ، إِلاَّ آكِلَةَ الْخَضِرَةِ، أَكَلَتْ، حَتَّى إِذَا امْتَدَّتْ خَاصِرَتَاهَا اسْتَقْبَلَتِ الشَمْسَ فَاجْتَرَّتْ وَثَلَطَتْ وَبَالَتْ، [ص: 223] ثُمَّ عَادَتْ فَأَكَلَتْ؛ وَإِنَّ هذَا الْمَالَ حُلْوَةٌ، مَنْ أَخَذَهُ بِحَقِّهِ، وَوَضَعَهُ فِي حَقِّهِ فَنِعْمَ الْمَعُونَةُ هُوَ؛ وَمَنْ أَخَذَهُ بِغَيْرِ حَقِّهِ كَانَ كَالَّذِي يَأْكُلُ وَلاَ يَشْبَعُ
আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা‘আলা তোমাদের জন্য যমীনের বরকতসমূহ প্রকাশিত করে দেবেন, আমি তোমাদের জন্য এ ব্যাপারেই সর্বাধিক আশংকা করছি। জিজ্ঞেস করা হলো, যমীনের বরকতসমূহ কী? তিনি বললেনঃ দুনিয়ার জাঁকজমক। তখন এক ব্যক্তি তাঁর কাছে বললেন, ভাল কি মন্দ নিয়ে আসবে? তখন নবী (ﷺ) কিছুক্ষণ নীরব থাকলেন, যদ্দরুন আমরা ধারণা করলাম যে, এখন তাঁর উপর (ওয়াহয়ী) নাযিল হচ্ছে। এরপর তিনি তাঁর কপাল থেকে ঘাম মুছে জিজ্ঞেস করলেন, প্রশ্নকারী কোথায়? সে বলল, আমি। আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) বলেন, যখন এটি প্রকাশ পেল, তখন আমরা প্রশ্নকারীর প্রশংসা করলাম। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ ভাল একমাত্র ভালকেই বয়ে আনে। নিশ্চয়ই এ ধনদৌলত সবুজ শ্যামল সুমিষ্টি। অবশ্যি বসন্ত যে সবজি উৎপাদন করে, তা ভক্ষণকারী পশুকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয় অথবা নিকটে করে দেয়, তবে যে প্রাণী পেট ভরে খেয়ে সূর্যমুখী হয়ে জাবর কাটে, মল-মূত্র ত্যাগ করে এবং পুনঃ খায় (এর অবস্থা ভিন্ন)। এ পৃথিবীর ধনদৌলত তদ্রূপ সুমিষ্ট। যে ব্যক্তি তা সৎভাবে গ্রহণ করবে এবং সৎকাজে ব্যয় করবে, তা তার খুবই সাহায্যকারী হবে। আর যে তা অন্যায়ভাবে গ্রহণ করবে, তার অবস্থা হবে ঐ ব্যক্তির মত যে খেতে থাকে আর পরিতৃপ্ত হয় না।
সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৮১: সদয় হওয়া, অধ্যায় ৭, হাঃ ৬৪২৭; মুসলিম, পৰ্ব ১২: যাকাত, অধ্যায় ৪১, হাঃ ১০৫২
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৬২৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দুনিয়ার চাকচিক্য ও ধনদৌলতের পরীক্ষা নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ্ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যমীনের বরকত প্রকাশ হলে তিনি উম্মতের জন্য ভয় করছেন। জিজ্ঞেস করা হলে তিনি দুনিয়ার জাঁকজমকের কথা বলেন। এরপর তিনি বোঝালেন, সম্পদ সবুজ ও মিষ্টি—অর্থাৎ আকর্ষণীয়। কিন্তু আকর্ষণীয় জিনিসও সীমা না মানলে ক্ষতির কারণ হতে পারে। বসন্তের সবুজ ঘাসের উদাহরণ দিয়ে বোঝানো হয়েছে, অতিরিক্ত ভোগ বিপদ ডেকে আনতে পারে। যে ব্যক্তি সম্পদ সৎভাবে গ্রহণ করে এবং সৎ কাজে ব্যয় করে, তা তার জন্য সাহায্যকারী হয়। আর অন্যায়ভাবে গ্রহণ করলে তার অবস্থা এমন ব্যক্তির মতো, যে খায় কিন্তু তৃপ্ত হয় না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দুনিয়ার চাকচিক্য মানুষকে আকৃষ্ট করে, তাই সতর্ক থাকা দরকার।
- সম্পদ সৎভাবে গ্রহণ করা এবং সৎ কাজে ব্যয় করা ভালো পথ।
- অন্যায়ভাবে সম্পদ গ্রহণ করলে তৃপ্তি আসে না।
- অতিরিক্ত ভোগের মধ্যে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।
