১২/২৫. অধ্যায়ঃ
বিশ্বস্ত খাজাঞ্চীর এবং ঐ মহিলা যে সৎ উদ্দেশ্যে তার স্বামীর গৃহ হতে স্পষ্ট বা অস্পষ্ট অনুমতি সাপেক্ষে সদকা করে, বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে নয় তার প্রতিদান।
বিশ্বস্ত খাজাঞ্চী ও সদাকাহ: আমানতের বড় শিক্ষা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৬০২
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৬০২
حديث أَبِي مُوسَى، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: الْخَازِنُ الْمُسْلِمُ الأَمِينُ الَّذِي يُنْفِذُ، وَرُبَّمَا قَالَ: يُعْطِي مَا أُمِرَ بِهِ كَامِلاً مُوَفَّرًا، طَيِّبًا بِهِ نَفْسُهُ، فَيَدْفَعُهُ إِلَى الَّذِي أُمِرَ لَهُ بِهِ أَحَدُ الْمُتَصَدِّقَيْنِ
আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যে বিশ্বস্ত মুসলিম খাজাঞ্চী (আপন মালিক কর্তৃক) নির্দেশিত পরিমাণ সদাকাহর সবটুকুই নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সানন্দচিত্তে আদায় করে, কোন কোন সময় তিনিيُنْفِذُ يُنْفِذُ শব্দের স্থলে يُعْطِي শব্দ বলেছেন, সে খাজাঞ্চীও নির্দেশদাতার ন্যায় সদাকাহ দানকারী হিসেবে গণ্য।
সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ২৪: যাকাত, অধ্যায় ২৫, হাঃ ১৪৩৮; মুসলিম, পৰ্ব ১২ : যাকাত, অধ্যায় ২৫, হাঃ ১০২৩।
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৬০২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আমানতদারি ও সদাকাহ পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্ব স্পষ্টভাবে এসেছে। একজন মুসলিম খাজাঞ্চী বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি যদি মালিকের নির্দেশ মতো নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ পুরোপুরি, কম না করে, খুশি মনে নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেয়, তবে তাকেও সদাকাহ দানকারীদের একজন বলা হয়েছে। এখানে মূল শিক্ষা হলো, নেক কাজে সরাসরি টাকা দেওয়া যেমন ভালো, তেমনি সঠিকভাবে তা পৌঁছে দেওয়াও ভালো কাজ। তবে হাদিসে শর্ত আছে—সে বিশ্বস্ত হবে, নির্দেশ মানবে, পরিমাণ কমাবে না এবং মন খারাপ করে নয়, ভালো মনে দেবে। তাই দান ব্যবস্থাপনায় সততা ও দায়িত্ববোধ খুব জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আমানত ঠিকভাবে আদায় করাও নেক কাজ।
- দান পৌঁছে দেওয়ার সময় কম-বেশি করা ঠিক নয়।
- খুশি মনে দায়িত্ব পালন করলে সওয়াবের আশা করা যায়।
- নেক কাজে সহযোগী হওয়াও মূল্যবান কাজ।
