৬/৩৪. অধ্যায়ঃ
সুমধুর কণ্ঠে কুরআন পাঠ করা বাঞ্ছনীয়।
সুন্দর স্বরে কুরআন তিলাওয়াত: স্পষ্ট আওয়াজের শিক্ষা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৪৫৫
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৪৫৫
حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَمْ يَأْذَنِ اللهُ لِشَيْءٍ مَا أَذِنَ لِلنَّبِيِّ أَنْ يَتَغَنَّى بِالْقُرَآنِ يُرِيدُ يَجْهَرُ بِهِ
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ্ কোন নবীকে ঐ অনুমতি দেননি, যা আমাকে দিয়েছেন, আর তা কুরআন তিলাওয়াত যথেষ্ট। রাবী বলেন, এর অর্থ সুস্পষ্ট করে আওয়াজের সাথে কুরআন পাঠ করা।
সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৬৬ : আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ, অধ্যায় ১৯, হাঃ ৫০২৩; মুসলিম, পর্ব ৬; মুসাফির ব্যক্তির সালাত ও তা কসর করার বর্ণনা, অধ্যায় ৩৪, হাঃ ৭৯৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৪৫৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো কুরআন তিলাওয়াত। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, আল্লাহ কোনো নবীকে এমন অনুমতি দেননি, যেমন তাঁকে কুরআন তিলাওয়াতের অনুমতি দিয়েছেন। রাবী ব্যাখ্যা করেছেন, এর অর্থ হলো সুস্পষ্ট আওয়াজের সঙ্গে কুরআন পাঠ করা। হাদিসটি কুরআনের পাঠকে মর্যাদার জায়গায় রাখে। এখানে মূল কথা হলো, কুরআন এমনভাবে পড়া যাতে পাঠ স্পষ্ট হয় এবং তিলাওয়াতের সৌন্দর্য প্রকাশ পায়। তবে হাদিসে তাজবিদের বিস্তারিত নিয়ম বা কোনো নির্দিষ্ট সুরের কথা বলা হয়নি; তাই ব্যাখ্যা শুধু প্রদত্ত কথার মধ্যেই রাখা হলো। সুন্দর তিলাওয়াত, জোরে কুরআন পড়া এবং নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর বিশেষ অনুমতি—এসব বিষয় এ হাদিসের কেন্দ্র।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরআন তিলাওয়াত স্পষ্ট আওয়াজে করা প্রশংসনীয়।
- নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কুরআন তিলাওয়াতের বিশেষ মর্যাদা আছে।
- তিলাওয়াতে সৌন্দর্য থাকতে পারে, তবে মূল লক্ষ্য কুরআন পাঠ।
