১/১৭. অধ্যায়ঃ
কোন ব্যক্তি তার নিজের জন্য যা ভালোবাসবে সেটা তার ভাইয়ের জন্যও ভালোবাসা ঈমানের বৈশিষ্ট্যের অন্যতম তার প্রমাণ।
প্রকৃত মুমিন হওয়ার হাদিস: নিজের জন্য যা পছন্দ, ভাইয়ের জন্যও তাই
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ২৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ২৮
حديث أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتّى يُحِبَّ َلأخيهِ ما يُحِبُّ لِنَفْسِهِ
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমাদের কেউ প্রকৃত মু‘মিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য সেটাই পছন্দ করবে, যা তার নিজের জন্য পছন্দ করে।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ২ : ঈমান, অধ্যায় ৭, হাঃ ১৩; মুসলিম, পর্ব ১: ঈমান, অধ্যায় ১৭, হাঃ ৪৫
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ২৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) খুব সহজ ভাষায় প্রকৃত মুমিনের একটি বড় গুণ শিখিয়েছেন। একজন মানুষ নিজের জন্য ভালো কিছু পছন্দ করে—ভালো ব্যবহার, কল্যাণ, শান্তি, সম্মান ও নিরাপত্তা। হাদিসটি বলছে, ঈমানের পূর্ণতার সঙ্গে এই মনোভাবের গভীর সম্পর্ক আছে। শুধু নিজের ভালো চাওয়া যথেষ্ট নয়; নিজের ভাইয়ের জন্যও একই ভালো চাওয়া একজন মুমিনের পরিচয়। এখানে মুমিন ভ্রাতৃত্ব, আন্তরিকতা এবং ভালোবাসার শিক্ষা আছে। কেউ যখন নিজের জন্য যা পছন্দ করে, ভাইয়ের জন্যও তা পছন্দ করে, তখন তার হৃদয়ে হিংসা, স্বার্থপরতা ও ক্ষতি করার মানসিকতা কমে। এই হাদিস আমাদের শেখায়, মুসলিম ভাইয়ের কল্যাণ চাইতে হবে নিজের কল্যাণ চাওয়ার মতোই আন্তরিকভাবে। তাই দৈনন্দিন জীবনে কথা, আচরণ ও মনোভাব—সব জায়গায় এই শিক্ষা ধরে রাখাই ঈমানি চরিত্রের অংশ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রকৃত মুমিনের গুণ হলো নিজের ভাইয়ের জন্যও ভালো চাওয়া।
- নিজের জন্য যা পছন্দ করি, অন্যের ক্ষেত্রেও সেই মনোভাব রাখা উচিত।
- মুমিন ভ্রাতৃত্ব শুধু কথার বিষয় নয়; হৃদয়ের আন্তরিক ভালোবাসার বিষয়।
- হিংসা ও স্বার্থপরতার বদলে কল্যাণকামী মন রাখা ঈমানের সুন্দর পরিচয়।
